ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

চাঁপাইয়ে তাপদাহ ও ইটভাটির ধোঁয়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: ০৩:৪৮, ২৪ মে ২০১৯

চাঁপাইয়ে তাপদাহ ও ইটভাটির ধোঁয়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রচন্ড তাপদাহর কারণে এলাকার আমবাগান গুলোতে ফ্রুটবোরা পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। তাপদাহের জন্য পোকার আক্রমন অন্যদিকে কিছু কিছু এলাকায় ইটভাটির বিষাক্ত ধোঁয়ায় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন আমবাগানের আম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম আমিনুজ্জামান জানান, প্রচন্ড গরম আবহাওয়া দেখা দিলে আমবাগান গুলিতে ফ্রুটবোরার আক্রমন শুরু হয়। আবহাওয়া পরিবর্তন না হলে এ ফ্রুটবোরার আক্রমনের প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বৃষ্টি পরিমানমত হলেই ফ্রুটবোরার আক্রমন বন্ধ হয়ে যাবে। এ পোকার আক্রমনে আমের নিচ ভাগ ফুঁটো করে দিচ্ছে এবং সে সব আম পরবর্তীতে পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে শিবগঞ্জে যেসব ইটভাটা রয়েছে সেগুলো সরকারি বিধিবিধান মেনে না চলার কারণেই আম ও অন্যান্য ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। আমবাগান মালিকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ইটভাটির পার্শ্ববর্তী এলাকার আমবাগানগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আমের নিচের অংশ সরু হয়ে গেছে এবং আম আকারে ছোট হয়েছে। এছাড়া আমের নিচ অংশে পচন ধরেছে। শুধু তাই নয় আমের গায়ে কালো দাগ হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো গাছে রয়েছে সেগুলোর স্বাদ তিতো হয়ে যাওয়ায় খাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আম বাগান মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে অভিযোগ করেও তেমন কোনো ফল পাচ্ছে না। এতে করে ইটভাটা সংলগ্ন আমবাগানের মালিকরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় গত ৩ বছর থেকে জিকজ্যাক চিমনির মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে ইট পোড়ানোর ব্যবস্থা করলেও সঠিক নিয়ম না মানার কারণে ওইসব জিগজ্যাক পদ্ধতির ভাটার আশপাশের এলাকায় আম এবং অন্যান্য ফসলের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এ জিগজ্যাক পদ্ধতিতে তৈরি ইটভাটার মালিক কানসাটের ব্যবসায়ী আবু তালেব জানান, এ পদ্ধতির মাধ্যমে ইট পোড়ানো ভালো। তবে নিয়মনীতি না মানলে ক্ষতি হবে বেশি। জিগজ্যাক চিমনিতে ভাটার পার্শ্বে যে পানির ট্যাংকিতে পানি থাকার কথা, তাতে ভাটা মালিকরা পানি রাখে না। কারণ হিসেবে অনেক ইটভাটার মালিকরাই বলে ট্যাংকিতে পানি থাকলে ভাটার ধোঁয়া পানিতে পরিশোধিত হয়ে চিমনি দিয়ে উপরে উঠে। ফলে আম বা অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু পানি থাকলে ভাটায় জ্বালানি খরচ বেশি পড়ে এবং ভাটায় ইট পুড়ে কম। এ কারণেই ভাটা মালিকরা ওই পদ্ধতি ব্যবহার করলেও নিয়মকানুন মেনে চলে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন চলতি বছর শিবগঞ্জের বিভিন্ন ইট ভাটায় নানা রকম অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত ভাটি মালিকদের জরিমানা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেছেন। এছাড়াও ভাটা মালিকদের সরকারি নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেছেন। উপজেলার এসকল আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের জোরালো দাবি ইটভাটি গুলোতে যেন আরো নজরদারী বাড়ানো হয়।