ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শ্রীলঙ্কায় হামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রকাশ করল আইএস

প্রকাশিত: ১১:০১, ২৮ এপ্রিল ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় হামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রকাশ করল আইএস

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ শ্রীলঙ্কায় আড়াইশ জনকে হত্যা ও পাঁচ শতাধিক মানুষকে আহত করার দায় স্বীকারের পর জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই বোমা হামলার বিষয়ে বিশেষ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উগ্রবাদী এই জঙ্গীগোষ্ঠীর আল-নাবা নামের একটি সাপ্তাহিকে ওই হামলার বিষয়ে স্পেশাল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই জঙ্গীগোষ্ঠী বিশেষ ওই প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ‘শ্রীলঙ্কায় হামলায় তাদের মূল টার্গেট ছিল খ্রীস্টানরা। সব সময় ক্রুসেডররা মনে করেন যে, তারা তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং ইসলামের আবাসভূমি তারা ছিনিয়ে নিয়েছে।’ আইএসের এই সাপ্তাহিকের সম্পাদক লিখেছেন, কিন্তু বিজয়ীরা খিলাফত ও তাদের নেতাদের সন্তানদের দ্বারা অন্য অঞ্চলে যুদ্ধ করছে এবং শত্রুদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য... বিশ্বের প্রতিটি অংশে তাকে হতাশ করে এবং তার শক্তি ও দক্ষতা হ্রাস করছে।’ সৌদি আরবে আইএসের একটি হামলার চেষ্টা নস্যাতের বিষয়েও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল সৌদির রাজধানী রিয়াদে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একটি স্থাপনায় আইএস হামলা চালায়। এই হামলায় আইএসের কেন্দ্রীয় শাখা থেকে চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আল-নাবা। এর একদিন আগে আফগানিস্তানে একটি হামলা হয়; এই হামলারও দায় স্বীকার করেছে। শ্রীলঙ্কায় হামলার বিষয়ে আইএসের বিশেষ এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খিলাফতের সৈনিকদের একটি গ্রুপ যুদ্ধে লিপ্ত খ্রীস্টানদের বেশ কয়েকটি গির্জা টার্গেট করে চালিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু শহরে ক্রুসেডর রাষ্ট্রের নাগরিকদের কুফরি অনুষ্ঠান উদযাপন টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। এই জঙ্গীগোষ্ঠীর দাবি, হামলায় ৩৫০ জন নিহত ও ৬৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আমেরিকা, স্পেন, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, হল্যান্ড এবং ভারতের ৪৫ জন নাগরিক রয়েছে। আরবী ভাষায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বলছে, ক্রুসেডর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ধর্মীয় যুদ্ধ চলছে এবং এটা কখনই থামবে না। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউজিল্যান্ড হামলার মতো নিজ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর দরকার নেই আইএসের। শ্রীলঙ্কায় চালানো সিরিজ বোমা হামলা নিয়ে কিছু তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে হামলার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘ক্রুসেডর জোটের নাগরিকরা অবস্থান করছেন এমন হোটেল এবং বেশ কয়েকটি গির্জায় আমাদের যোদ্ধা ভাইয়েরা হামলা করেছে। শহীদী এই কার্যক্রম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচালিত হয়েছে।’ ‘আবু হামজা আল-সিলানি কলম্বোর এ্যান্তনি গির্জায় হামলা চালিয়েছেন...তিনি মুহারিবিন ক্রিশ্চিয়ানের মাঝামাঝি এসে তার বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন...অন্যদিকে, আবু মুহাম্মদ আল সিলানি বাত্তিবালোয়ার জিওন গির্জার পথে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন। আবু ওবায়দা আল সিলানি, আবু আল-বাররা আল-সিলানি ও আবু আল-মুখতার আল-সিলানি কলেম্বোর যেসব হোটেলে খীস্ট্রানরা জমায়েত হয়েছিলেন; সেখানে বিস্ফোরণ ঘটান।’