ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৭ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

সেমিনারে আহ্বান

পরিবেশ রক্ষা করেই ফ্যাশন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে

প্রকাশিত: ১০:৫২, ২১ এপ্রিল ২০১৯

পরিবেশ রক্ষা করেই ফ্যাশন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আবার ফ্যাশন খাতে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী দেশও বাংলাদেশ। অপরদিকে ফ্যাশন শিল্পের কারণে বাংলাদেশ তার ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ হারাচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষা করে ফ্যাশন শিল্পখাতে টেকসই উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন পোশাক ও ফ্যাশন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অপরদিকে রাজধানী ও আশেপাশে গার্মেন্টসসহ সকল প্রকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা করে করণীয় নির্ধারণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ফ্যাশন খাত নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। ফ্যাশন রেভ্যুলুশন এবং এ্যাকশন এইডের উদ্যোগে ‘ভয়সেস এ্যান্ড সল্যুশন : ফ্যাশন শিল্পে টেকসই উৎপাদন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জন’-শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। এ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান, নিউ এজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম, অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ পরিচালক শরীফ জহির এবং কিউটেক্স সল্যুশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তহুরা খানম প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ তুলে ধরেন ফ্যাশন রেভ্যুলুশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর নওশীন খায়ের। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের তিনগুণ প্রয়োজন হবে। তাই এ নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে টেকসই ফ্যাশন শিল্পের দিকে ধাবমান হওয়া জরুরী। বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন শিল্পের প্রায় তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের বাজার রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। তবে এই ফ্যাশন খাতই আবার পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী খাত। ফ্যাশন খাত বিশ্বের ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি এবং ১০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের জন্য দায়ী। একইসঙ্গে, তুলা চাষ ২০ শতাংশ কীটনাশক বস্তু এবং ১০ শতাংশ কীটনাশক উৎপাদনের জন্য দায়ী। এ খাতে মাত্র ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করা যায়। ফলে ৮৫ শতাংশ বর্জ্যই প্রকৃতিতে ফেরত আসে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। নওশীন খায়ের তার প্রবন্ধে বলেন, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ইউএনএফসিসি এর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যাশন শিল্পের জন্য গ্রীনহাউস গ্যাস এবং বর্জ্য নিঃসরণ বৃদ্ধি পাবে ৬০ শতাংশ। এছাড়া ফ্যাশন শিল্পের কারণে বাংলাদেশ তার ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ হারাচ্ছে। তবে পোশাক শিল্পের সামগ্রিক প্রভাব এবং স্থায়ী প্রক্রিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা নেই। স্বচ্ছতা এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও প্রমাণভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজন বলেন বক্তরা। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করি তখন আমাদের এ সম্পর্কে সচেতনতার শিক্ষা কেউ দেয়নি। আমি যখন নিজেই ৯০’র দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ডাইংয়ের ব্যবসা শুরু করি তখন কিন্তু কেউ আমাকে বলেনি এর পানি কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত করব। মেয়র বলেন, আপনারা জানেন মিরপুর কালশী খালের কথা। আমরা গত ১০ দিনে ৬৫০ টন ময়লা সরিয়েছি, সেখানকার অবস্থা ভয়াবহ। আমরা এরইমধ্যে ডুবুরি নামিয়েছি ব্রিজের নিচের ময়লা পরিষ্কারের জন্য। তারা বলছে যে, তাদের আরও ৬ জন ডুবুরি দিতে হবে। আতিকুল ইসলাম বলেন, আপাতত আমরা এ ময়লাগুলো ল্যান্ডফিল্ডে ফেলছি। কিছুদিন পর এ ল্যান্ডফিল্ডগুলোও আর পাওয়া যাবে না। এখন যেগুলো আছে সেগুলোও অনেক ব্যয়বহুল। এ সময় মেয়র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা করে করণীয় নির্ধারণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
monarchmart
monarchmart