ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কোহিনুর আক্তার

কঠিন সময়ে রোনাল্ডো, মেসি ও কুতিনহোরা

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ২৭ মার্চ ২০১৯

কঠিন সময়ে রোনাল্ডো, মেসি ও কুতিনহোরা

ক্লাব ফুটবলে এখন বিরতি চলছে। ব্যস্ত সবাই জাতীয় দল নিয়ে। ব্যতিক্রম নন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা ফিলিপে কুতিনহোরাও। কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে মেসি-কুতিনহোরা খেলছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। অন্যদিকে ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্তুগালের প্রাণভোমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। দীর্ঘ নয় মাস পর দলে ফিরেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ফেরাটা তার জন্য সুখকর হলো না। দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ অংশ নিতে না পারা ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হার মানে আকাশী-নীল জার্সিধারী আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টাইন কোচ ম্যাচের আগেই ঘোষণা করেছিলেন ৩-৪-২-১ ফরমেশনে খেলবে আর্জেন্টিনা। সবার সামনে ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্টিনেজ, তার পেছনে মেসির পাশে পিতি মার্টিনেজ। এ পরীক্ষায় মেসিরা সদলবলে ফেল করেছেন। তবে দল হারলেও এতে মেসির কোনও দায় ছিল না। এদিন নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছিলেন তিনি। বরং মার্টিনেজের সঙ্গে তার জুটি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে নতুন করে আশাবাদী করে তুলতে পারে। দলের একমাত্র গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ। পুরো ম্যাচে বিপক্ষ রক্ষণ ফাঁকি দিয়ে মার্টিনেজকে দিয়েছেন ডিফেন্সচেরা পাস। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ২৪ বারের দেখায় ২১টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২টি ম্যাচ ড্র করেছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ভেনেজুয়েলার একমাত্র জয়টি এসেছে আট বছর আগে ২০১১ সালে। শুক্রবার রাতে এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্দা মেট্রোপলিটনেতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হয় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ভেনেজুয়েলার হয়ে সোলোমন রোনডন, জন মুরিলো ও জেসেফ মার্টিনেজ এবং আর্জেন্টিনার পক্ষে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ম্যাচের শুরুতেই দুর্বল ডিফেন্সের কারণে গোল খায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচর ষষ্ঠ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ডান পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের ভলিতে জালে জড়ান সলোমন রনদন। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় ভেনেজুয়েলা। পেনাল্টি ডি-বক্সের বাম সাইড থেকে দারুণ এক শটে দলকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন মিডফিল্ডার জন মুরিলো। বিরতির পর এক গোল শোধ করে আর্জেন্টিনা। ৫৯তম মিনিটে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে মেসি খুঁজে নেন লা সোলসোকে। তার রক্ষণচেরা পাস খুঁজে নেয় মার্টিনেজকে। আর সেখান থেকেই ব্যবধান কমান মার্টিনেজ। ৭৫তম মিনিটে ভেনেজুয়েলার জয় নিশ্চিত করেন জোসেফ মার্টিনেজ। ডি-বক্সে ফরোয়ার্ড ডাউইনকে ডিফেন্ডার হুয়ান ফেইথ ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভেনেজুয়েলা। সেখান থেকে সফল স্পট কিকে ব্যবধান ৩-১ করেন মার্টিনেজ। বলের দখল প্রতিপক্ষের চেয়ে দ্বিগুণ রেখেও তাই লাভ হয়নি আর্জেন্টিনার। হার দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হয় লিওনেল মেসিকে। দলের এমন পারফরম্যান্সের পর মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকবেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, তাই কি হয়? আর্জেন্টিনা দলটাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের অযোগ্য অভিহিত করে তাদের আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চড়ানোর যোগ্যতা নেই বলেছেন দেশটির ফুটবল ঈশ্বর। রাশিয়া বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকেই আর্জেন্টিনার দুরবস্থার সূত্রপাত। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনক্রমে বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিলেও ফ্রান্সের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় দলটিকে। এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে ক্রোয়েশিয়ার কাছেও বাজেভাবে হেরেছিল হোর্হে সাম্পাওলির দল। এরপর লিওনেল স্কালোনিকে দলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হলেও দুরবস্থা কাটেনি দলটির। বিশ্বকাপের পর প্রীতি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষেও হেরেছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। ভেনেজুয়েলা ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ম্যারাডোনা। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনাকে আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। বাতিস্তুতা আর ক্যানিজিয়ার প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করলে মনে হয়, এই দলের কেউ আর্জেন্টিনার জার্সি পরারই যোগ্য নয়।’ আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন ও ম্যানেজমেন্টকে একহাত নিয়েছেন কিংবদন্তি এই ফুটবল জাদুকর। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ম্যাচকে ‘ভূতের ছবি’র সঙ্গে তুলনা করে ম্যাচটি দেখেননি জানিয়ে ক্ষুব্ধ ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি ভেবে পাই না, আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্বে থাকা একদল অদক্ষ লোক কিভাবে ভেবেছিল আমরা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জিততে পারব। ক্লদিও তাপিয়ার (আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান) বিদায় দেখার জন্য আমরা প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেব। তার কোন ধারণাই নাই কী করতে হবে, আর সে কী করছে।’ মেসির মতো রোনাল্ডোও রাশিয়া বিশ্বকাপের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে কোন ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেননি। ইউরো ২০২০ সালের বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিরলেন এই পর্তুগিজ তারকা। তবে বাছাইপর্বে শুরুটা ভাল হয়নি বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের। শুক্রবার ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ইউক্রেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে পর্তুগাল। ঘরের মাঠ এস্তাদিও দি লুজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও গতিময় ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। ১৫ মিনিটে পর্তুগালের উইলিয়াম কারভালহো জালের ঠিকানা খুঁজে পেলেও অফ সাইডের কারণে তা বাতিল করা হয়। ১৬ মিনিটে পেপের নেয়া শট গোলবারের কাছ দিয়ে গেলে গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। ২৩ মিনিটে রোনালদোর নেয়া জোরালো শট ফিরিয়ে দেন ইউক্রেনের গোলরক্ষক পিয়াতোভ। বিরতির পর ৫১ ও ৫৭ মিনিটে আন্দ্রে সিলভা দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। বাঁধা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক পিয়াতোভ। নিশ্চিত গোল থেকে ইউক্রেনকে রক্ষা করেন তিনি। ম্যাচের বাকিটা সময় কোন দলই বলার মতো কোন গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পর্তুগাল কয়েকবার আক্রমণ চলালেও শক্ত ডিফেন্সে সেগুলো প্রতিহত হয়। ফলে গোলশূন্য ড্র দিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় দু’দলকে। এদিকে, পানামার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছে ব্রাজিলও। পোর্তোর ড্রাগাও স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেইমারবিহীন ব্রাজিল পানামার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। ইনজুরি আক্রান্ত প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই ফরোয়ার্ড নেইমার স্ট্যান্ডে বসে জাতীয় দলের ম্যাচ উপভোগ করেছেন। ডান পায়ের মেটাটারসেল ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিশ্রামে রয়েছেন। নেইমার না থাকলেও খেলেছেন ফিলিপে কুতিনহো। কিন্তু নিজেদের মান রাখতে পারেননি এই তারকা ফুটবলার।