ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

বসুন্ধরা কিংসের টানা তিন জয়

প্রকাশিত: ১২:১৮, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

বসুন্ধরা কিংসের টানা তিন জয়

তাহমিন হক ববী, নীলফামারী থেকে ॥ তারুণ্যনির্ভর নোফেল স্পোর্টিংকে ২-০ গোলে হারালো তারকাসমৃদ্ধ দল বসুন্ধরা কিংস। গতকাল বুধবার বিকালে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে কিংসরা তাদের হোম গ্রাউন্ডে এ নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেল বসুন্ধরা। এর আগে কিংস গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা আবাহনীকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল। এ নিয়ে তিন খেলায় বসুন্ধরা ৯ পয়েন্ট। উভয় দলের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ শেখ কামাল গ্যালারির ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের বিশেষ উৎসাহ জোগায়। দর্শকরা তারুণ্যনির্ভর নোফেলের খেলা দেখে মুগ্ধ। যদিও তারকাসমৃদ্ধ বসুন্ধরাকে রুখতে পারেনি তারা। ঠিক বেলা ৩টায় খেলা শুরু হয়। ৬ মিনিটে বসুন্ধরা প্রথম কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। একটার পর একটা সুযোগ হাত ছাড়া করতে থাকে তারকার দল বসুন্ধরা। তবে ২২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে বসুন্ধরা প্রথম গোলের মুখ দেখে। নোফেলের ডি বক্সে কিংসের অধিনায়ক ড্যানিয়েল কলিন্ড্রেস বল ঢুকিয়ে দিলে কাজে লাগিয়ে ফেলে মতিন মিয়া। নোফেলের গোলরক্ষক আপেল হয় পরাস্ত। ১-০ এগিয়ে যায় কিংস। এরপর আক্রমণ চলে পাল্টাপল্টি। ২৭ মিনিটে বসুন্ধরার ডি বক্স-এর বাহিরে নোফেলের অধিনায়ক মনছুর আলম ফাউল করে বসলে ফ্রি কিক পায় কিংস। বসুন্ধরার অধিনায়ক ড্যানিয়েলের কিক গোলবারে লেগে বাহিরে চলে যায়। মিস হয় গোল। ৩৬ মিনিটে কিংসরা আবার নোফেলের ডি বক্সে ফ্রি কিক পায়। ড্যানিয়েলের এবারও কিক গোল বারের ওপর দিয়ে বাহিরে চলে যায়। পাল্টা আক্রমণে নোফেলে খন্দকার আশরাফুল ইসলাম ৪২ মিনিটে বসুন্ধরার জালে গোলের সুযোগ পেয়েও হাত ছাড়া করে। প্রথম হাফ শেষে দ্বিতীয় হাফের খেলায় ২০ মিনিটের মাথায় প্রথম কর্নার পায় নোফেল। কামরুলের কর্নার কিকে বল পায়ে পেয়ে জামিরউদ্দিন বসুন্ধরার জালে বল ঢুকাতে পারেনি। বল চলে যায় মাঠের বাহিরে। ২৩ মিনিটে নোফেলের গোলপোস্টে বসুন্ধরা সুযোগ পায়। না গোলরক্ষক আপেল প্রতিহত করে। ২৫ মিনিটে নোফেল কর্নার পেলে কাজে লাগাতে পারেনি। ২৯ মিনিটে বসুন্ধরা গোল পাওয়া মতিনকে বসিয়ে মাঠে নামানো হয় তহিদুল আলম সবুজকে। নেমেই তহিদুল বেশ কিছু গোল করার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ৩১ মিনিটে বসুন্ধরা ডি বক্স-এর অদূরে ফ্রি কিক পায়। কিংসের অধিনায়ক ড্যানিয়াল সর্ট নিলেও কাজে লাগাতে পারেনি। এরপর বসুন্ধরা কর্নার পায়। কিন্তু কর্নারও কাজে লাগাতে পারেনি কিংসরা। নোফেলের গোলরক্ষক আপেল দুর্দান্তভাবে বল আটকিয়ে দেয়। এরপর চলে নোফেলে এ্যাটাক। পাল্টা এ্যাটাকে বসুন্ধরা ফের কর্নার পেয়ে বসে ৩৬ মিনিটে। এবারও গোল পেতে ব্যর্থ হয় বসুন্ধরা। ৩৮ মিনিটে ফ্রি কিকে নোফেলের বল ফিরিয়ে দেয় বসুন্ধরার গোলরক্ষক মিতুল হাসান। এরপর বসুন্ধরা জ্বলে উঠে চালায় পাল্টা আক্রমণ। কাজেও লেগে যায় এই আক্রমই। বসুন্ধরার নিমন মাহমুদ ৩৯ মিনিটে দুর্দান্ত শর্ট নোফেলের গোলরক্ষক রক্ষা করে ফিরিয়ে দিলেও পুনরায় কিকে আপেল পরাস্ত হয়। এতে নোফেলের জালে প্রবেশ করে বসুন্ধরার বল, বসুন্ধরা এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। নোফের কোচ কামাল আহমেদ বাবু, বললেন দলে বিদেশী ছাড়া প্রিমিয়ারে খেলার অভিজ্ঞতা কোন খেলোয়াড় নেই বললেই চলে। দু’জন বাদে সবারই নতুন অভিজ্ঞতা। এটা নতুনদের জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। এর ওপর আবার সব দলে চার বিদেশী থাকলেও তাদের দলে তিনজন। তিন বিদেশী- গিনির ফরোয়ার্ড ইসমাইল বাঙ্গুরা, নাইজিরিয়ান ডিফেন্ডার মাইকেল ইয়ন্তা ও এলিটা বেঞ্জামিন জুনিয়র অন্যতম ভরসা। এর ওপর আবার চার বিদেশীর জায়গায় একজন কম। এশিয়ান কোটায় কোন খেলোয়াড় নেই, এটা নেতিবাচক দিক। কম টাকায় তো এশিয়ান কোটার খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। তবে এই জায়গায় একজন নতুন খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাচ্ছে, এটা ভাল দিক। আমরা আগামীতে ভাল করার চেষ্টা করছি। অপরদিকে বসুন্ধরা কিংস-এর ¯প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন ব্যারেরাস বললেন আমি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। তিনি বলেন, প্রথম তিন ম্যাচে আমরা ভেবেছিলাম ৭ পয়েন্ট পাব। আমাদের জালে গোলও প্রবেশ করবে। কিন্তু আমাদের টিমের খেলোয়াড় আমার সেই চিস্তা-ভাবনাকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। আমরা তিন খেলায় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছি।