ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

বান্দরবানে পাহাড় কেটে সড়ক ॥ বালুর বদলে মাটি

প্রকাশিত: ১১:৫১, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

বান্দরবানে পাহাড় কেটে সড়ক ॥ বালুর বদলে মাটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ৩০ জানুয়ারি ॥ রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়া-ঝংকা রাজবিলা সড়ক পাকাকরণ কাজে পাহাড় কেটে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের লাল মাটি ব্যবহার করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবিলা-উদালবনিয়া সড়কের রাবার ড্যাম সংলগ্ন জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ঝংকা রাজবিলা সড়ক। পূর্বের ইট সলিং রাস্তা থেকে পুরনো ইট তুলে ভেঙ্গে খোয়া হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মিত সড়কের পাশে একটি মাদ্রাসার জায়গা থেকে স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে সড়ক পাকাকরণ কাজে। নির্মাণ কাজের মাঝি তুহিন জানান, পাহাড়ের লাল বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, এটি স্থানীয় ঝংকার বালুর চেয়েও দানা বড় ও সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহার উপযোগী। তিনি আরও জানান, প্রথমে ঝংকার বালু ব্যবহার করেছিলাম, কিন্তু অফিস থেকে বালুর পরিবর্তে লাল বালু (পাহাড়ের মাটি) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমরা মাদ্রাসায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে পাহাড়টা কেটে লাল বালু নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে উদালবনিয়া-ঝংকা রাজবিলা সড়ক পাকাকরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বান্দরবান সদর। আর এ কাজটি পায় রাঙ্গামাটি জেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লুম্বিনী এন্টারপ্রাইজ। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অংক্য ও মংজিকে মারমা জানান, এলাকায় ভাল বালু থাকার পরও কেন পাহাড় কেটে লাল মাটি ব্যবহার করছে আমরা জানি না। অভিযোগ দেয়ার মতো অফিসের কাউকে এখানে দায়িত্ব পালন করতে দেখি না। খোয়ার ওপর বালু ফিলিং-এর পর যখন পানি দেয়া হয় তখন পুরা রাস্তা কাদা হয়ে যায়। রাস্তাটি টেকসই হবে কিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এদিকে কাজ চলমান অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের একজন কার্যসহকারী নিয়মিত দেখভালের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি, ফলে স্থানীয়দের ধারণা এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সড়কটি নির্মাণের কাজে এই ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে। ১ নম্বর রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যঅং প্রু মারমা বলেন, আমি এলাকা পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরে তারা জানালেন এটি ব্যবহারের কোন অসুবিধা নেই। পরিবেশ আইনে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটা যাবে না এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটার শাস্তি হিসেবে দুই বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার অপরাধ করার শাস্তি ১০ বছরের জেল বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলে পরিবেশ আইন অমান্য করে পাহাড় কেটে মাটি নিয়ে সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব বলেন, সহকারী প্রকৌশলী কয়েকদিন আগে সড়কে ব্যবহৃত লাল বালু টেস্টের জন্য নিয়ে এসেছিল। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি এ লাল বালু কোন আরসিসি বা সিসি কাজে ব্যবহার করা না গেলেও সড়ক পাকাকরণ কাজে ব্যবহার করা যাবে।