ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

১ নবেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু

প্রকাশিত: ০৬:০২, ৩০ অক্টোবর ২০১৮

১ নবেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১ নবেম্বর। এবারের পরীক্ষায় বসছে ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ পরীক্ষার্থী। সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে শিক্ষমন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঘোষণা দিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালীন ১ নবেম্বর থেকে ১৫ নবেম্বর পর্যন্ত সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে। সব ধরনের কোচিং সেন্টার অবৈধ। কেউ যদি পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের গরিব শিক্ষার্থীরা যারা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে না তাদের কথা চিন্তা করে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চালু করা হয়। এ সার্টিফিকেট নিয়ে অনেকে বিভিন্ন স্থানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আগ্রহী করে তুলতে ২০১০ সালে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়। এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় মোট ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন অংশ নেবে। গতবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন। এবার মোট ২ লাখ ১ হাজার ৫১৩ জন বেড়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে আগেই একাধিক প্রশ্ন সেট পাঠানো হবে, তবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন নির্বাচন করে প্রশ্নপত্রের খাম খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে আগেই সব সেট প্রশ্ন পাঠানো হবে। তবে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন নির্বাচন করা হবে। এতে আর প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় আশঙ্কা থাকবে না। সব ধরনের প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে। মন্ত্রী জানান, দেশের ২৯ হাজার ৬৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এবার জেএসসি-জেডিসির ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। ছাত্রদের থেকে এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন ছাত্রী বেশি। আট বোর্ডের অধীনে এবার জেএসসিতে ২২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৯০ জন পরীক্ষা দেবে। গতবছর এই পরীক্ষায় ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন অংশ নিয়েছিল জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৫১৩ জন। এবার জেএসসিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৩ জন এবং জেডিসিতে ৩৪ হাজার ২৫১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে। এক থেকে তিন বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হয়েছিল তারাও এবার ওইসব বিষয়ে পরীক্ষা দেবে, এই সংখ্যা জেএসসিতে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৫ জন এবং জেডিসিতে ৩০ হাজার ৫৪৮ জন। বিদেশের নয়টি কেন্দ্রে এবার ৫৭৮ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারও বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা সৃজনশীল প্রশ্নে হবে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা এবারও অতিরিক্ত সময় পাবে। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিবাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্রুতি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন। মন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময় সকল প্রকার কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে চার স্তরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সবার সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মোল্লা জালাল, ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।