ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

মৌলিক গল্পের ছবি ‘মাতাল’-সাইমন-অধরা

প্রকাশিত: ০৭:০৫, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

মৌলিক গল্পের ছবি ‘মাতাল’-সাইমন-অধরা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রজন্মের নায়ক সাইমন সাদিক। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের নবাগত চিত্রনায়িকা তকমা পেয়েছেন আলোচিত অধরা খান। তবে দু’জনেই প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গুণী নির্মাতা শাহীন সুমন পরিচালিত ‘মাতাল’ ছবিতে। অধরা সিনেমার ক্যামেরার সামনে অনেক আগেই দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু গেল ১৯ অক্টোবর নায়ক ছবির মাধ্যমে ধরা পড়লেন আলো ঝলমলে রুপালি পর্দায়। তাই প্রথমেই প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে দিয়ে অধরার কাছে জানতে চাই, নায়ক সিনেমার মাধ্যমে অভিষেক হয়েছে। কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অধরা বলেন, অসম্ভব ভাল প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। অনেক ভয়ে ছিলাম দর্শক ছবিটি গ্রহণ করবে কি না। আমি মনে করেছি হলে ঢুকে দর্শকদের দেখতে পাব না। তবে আমি যখন হলে ঢুকে পা দিলাম তখন বুঝতে পারলাম যে আমাদের বাংলা সিনেমা যারা ভালবাসেন তারা এসেছেন হলে ছবিটি দেখার জন্য। নায়ক নিয়ে দর্শকের অনেক আগ্রহ ছিল। এবং নায়ক দর্শকদের হলমুখী করেছে। আমার কাছে এমনও মেসেজ এসেছে যে আমরা পঁচিশ বছর ছবি দেখিনি, আট বছর পর, দুই বছর পর ছবি দেখতে এসেছি। এবং নায়ক দেখে ভাল লেগেছে। মাতাল দেখার অপেক্ষা রয়েছি। এ রকম অসংখ্যা মেসেজ এসেছে আমার কাছে। সত্যিই অনেক ভাল লাগছে যে অভিষেকেই দর্শক আমাকে ভালভাবেই গ্রহণ করেছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ছবির মাধ্যমেই দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়ে নায়িকা অধরাও বেশ আনন্দিত। তিনি বলেন, প্রথম ছবি মুক্তি পাচ্ছে একটা ভয় কাজ করছিল। কিন্তু সিনেমা হলে আমি দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। এছাড়া যখন লুকিয়ে সিনেমা দেখছিলাম অনেকের কাছেই প্রশংসা শুনেছি। দর্শকের সঙ্গে সিনেমা দেখে দারুণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর আগে নিজে দর্শক হিসেবে অন্যের ছবি দেখেছি। এবার দর্শক সারিতে বসে নিজের ছবি দেখার অভিজ্ঞতা হলো। কয়েকটি হলে গিয়েছি। দর্শকদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি, পাচ্ছি। নিজের প্রথম ছবিতেই এমন সাড়া আমাকে আগামী দিনগুলোতে ভাল কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে। চেষ্টা করব দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে। অধরা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও পরিচিতজনের শুভেচ্ছা। পাশাপাশি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেক গুণী মানুষের ফোনও পেয়েছি। তারা আমার জন্য দোয়া করেছেন। সামনে অনেক ভাল করব বলে আশাবাদ জানিয়েছেন। আমি নতুন অনেক কিছু শেখার বাকি। আগামী দিনে চেষ্টা করব নিজেকে আরও সুন্দরভাবে অভিনয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে। অভিষেকেই দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়ে আলোচিত মাতাল সিনেমার মুক্তি নিয়েও বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অধরা। আগামীকাল শুক্রবার মহাসমারোহ প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সনি মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল পরিবেশিত এই ছবিটি নির্মিত হয়েছে ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে। দর্শক কেন দেখবেন ’মাতাল’? জানতে চাইলে অধরা বলেন, ‘নায়ক’ এক ধরনের ছবি ছিল আর ’মাতাল’ আরেক ধরনের ছবি। নায়ক ছবিতে অনেক কিছু শেখার রয়েছে। ‘মাতাল’ সিনেমাটির গল্পটি খুবই ভাল মানের। এ সিনেমার মধ্যে দর্শক নতুন কিছু পাবে। এটা এমন একটি সিনেমা যেটা থেকে আমাদের সমাজের অনেক কিছু উঠে আসবে। নায়ক দেখে শিখবেন পরে মাতাল হয়ে যাবেন (হা.. হা.. হা..)। মাতাল ছবিতে বিনোদনের সব কিছুই রয়েছে। সবাইকে নিয়ে দেখার মতো একটি ছবি বানানো হয়েছে। ছবি দেখে বলতে হবে যে অনেকদিন পর একটি ভাল ছবি দেখেছি। এবং যে দেখবে আরও পাঁচজনকে দেখার জন্য বলবে। ‘মাতাল’ নাম বলে নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা আসবে তা কিন্তু নয়। একেকজন মানুষ একেকটি জিনিসের জন্য ‘মাতাল’। এ ছবিতে অনেক মেসেজ রয়েছে। দর্শকের মনে গেঁথে যাওয়ার মতো একটি গল্প। কেউ নকল গল্প বলতে পারবে না। সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের ছবি। নতুন শিল্পী হিসেবে বড়াই করে বলছি ‘মাতাল’ সবার ভাল লাগবে। ‘মাতাল’ আমাদের সবার গল্প। তবে ’মাতাল’ ও ‘নায়ক’-এর সঙ্গে তুলনা করতে চান না অধরা। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। দুইটি দুই ধরনের ছবি। সহশিল্পী হিসেবে সাইমন কেমন? জানতে চাইলে অধরা বলেন, সাইমন সহশিল্পী হিসেবে খুবই ভাল। কখনও মনে হয়নি তার সঙ্গে নতুন কাজ করছি। মনে হয়েছে ছোটবেলা থেকে তারে চিনি। ‘নায়ক’ ও ‘মাতালে’ যথাক্রমে বাপ্পি ও সাইমনের সঙ্গে কাজ করলেন, তারা কে কেমন? দুজন দুরকমের। তবে একটি জায়গায় দুজনের খুব মিল। তারা দুজনই সহ-শিল্পী হিসেবে খুবই সহায়তা পরায়ণ। সামনের ছবিতে সবার সঙ্গে কাজ করতে চান অধরা। ‘মাতাল’ নিয়ে দর্শকের উদ্দেশে অধরা বলেন, আমাদের ছবিটি হলে গিয়ে দেখবেন। এরপর ভাল-মন্দের বিচার করবেন। আমরা চেষ্টা করেছি একটি ভাল সুস্থধারার চলচ্চিত্র উপহার দেয়ার। ছবি দেখে আপনাদের মন্তব্য জানান। আপনারা নাম নিয়ে সংশয় না থেকে হলে এসে সিনেমা দেখেন। খারাপ হলে বকা দেন। আর ভাল হলে সবাইকে হলে এসে দেখতে বলুন। অধরার কথা শেষ হতে না হতেই সাইমন বলেন, ‘মাতাল’ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম রানা। রানা এমন একটি চরিত্র যাকে সবাই ভয় পায়। রানা কোথায়ও কোন দিন হারেনি। সে যা বলে তা করে। তার চোখ দেখে সবাই ভয় পায়। দর্শকরা হলে গিয়ে কেন দেখবেন ‘মাতাল’? জানতে চাইলে পোরামন খ্যাত এ অভিনেতা বলেন, দর্শকরা হলে গিয়ে বিনোদনের জন্য ছবিটি দেখবে। শাহীন ভাই ডিফারেন্ট টাইপের ছবি বানিয়ে থাকে সেই দিক থেকে ‘মাতাল’ ছবির গল্প ভাল। গল্পে নতুনত্ব আছে। আমার চরিত্রটি একেবারে ভিন্ন। মাতালে অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে। কেউ টাকার জন্য মাতাল আবার কেউ ক্ষমতার জন্য মাতাল। এ ছবিতে কিছু মেসেজ রয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শক ছবিটি উপভোগ করবেন। এবং নতুন নায়িকা হিসেবে অধরা অনেক ভাল করেছেন। হল বিমুখ দর্শককে ‘মাতাল’ হলে টানতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাইমন বলেন, হলে আনার জন্য অনেক কিছুই দরকার। প্রচার একটি বিষয়। সে দিক থেকে ‘মাতাল’ ভাল প্রচার হয়েছে। আশা করি দর্শক ‘মাতাল’ গ্রহণ করবেন। ‘মাতাল’ নিয়ে প্রত্যাশা? প্রতিটি ছবি নিয়েই আমাদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। শাহীন সুমন ভাই একজন গুণী নির্মাতা। তার সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। এবং তার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। বরাবরই দর্শকদের কথা এবং তাদের পছন্দর কথা মাথায় রেখে ছবি নির্মাণ করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ‘এটুকু বলতে পারি দর্শকদের উপভোগ করার মতো একটি ছবি ‘মাতাল’ আমি যথেষ্ট আশাবাদী ছবিটি নিয়ে।’