ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

মস্কোতে নেইমারদের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া, কাজানে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি টনি ক্রুসরা

ব্রাজিল-জার্মানির টিকে থাকার লড়াই আজ

প্রকাশিত: ০৫:৫৬, ২৭ জুন ২০১৮

ব্রাজিল-জার্মানির টিকে থাকার লড়াই আজ

জাহিদুল আলম জয় ॥ বিশ্বকাপে টিকে থাকার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামছে রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবারের বিশ্বজয়ী জার্মানি। ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলবেন নেইমার-কুটিনহোরা। মস্কোতে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আজ রাত ১২টায়। অন্যদিকে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভাগ্যনির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের পাওয়ার হাউস জার্মানি। কাজান এ্যারানা স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে হোঁচট খেয়ে বিপাকে পড়ে ব্রাজিল। দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার সঙ্গেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে কোনরকমে জয় পায়। যে কারণে দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপের শীর্ষে থাকলেও নকআউট রাউন্ডে খেলা এখনও নিশ্চিত নয় পেলের দেশের। সার্বিয়ার বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচের পরই জানা যাবে নেইমার-কুটিনহোদের ভাগ্য। পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেও নকআউট পর্ব নিশ্চিত হতে পারে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়া সেলেসাওদের। তবে হেরে গেলে বিদায়ঘণ্টাও বেজে যেতে পারে। সার্বিয়ানরা জয়ের জন্যই মাঠে নামছে। কেননা জিতলে তারা চলে যাবে শেষ ষোলোতে। একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে কোস্টারিকার মুখোমুখি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড। চার পয়েন্ট ঝুলিতে থাকা সুইসরা ড্র করলেও পরের পর্বে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে জিতলে গ্রুপের সেরা হয়েও শেষ ষোলোতে যেতে পারেন জাকা-শাকিরিরা। এসব ছাড়াও দু’টি ম্যাচই যদি ড্র হয় তাহলে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকেট পাবে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ড। আবার সার্বিয়া যদি ম্যাচ জিতে যায় আর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে যদি সুইজারল্যান্ড অন্তত এক পয়েন্ট পায় তাহলে বিদায়ঘণ্টা বাজবে ব্রাজিলের। আর পরের রাউন্ডের টিকেট পাবে সুইস ও সার্বিয়া। এ কারণে অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়লেও এই মুহূর্তে কঠিন সমীকরণে আবদ্ধ সাম্বা ছন্দের দেশ। চাপে থাকা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চায় সার্বিয়া। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নির্ভরযোগ্য ডানিলোকে ছাড়াই মূল একাদশ সাজাতে হচ্ছে ব্রাজিল কোচ টিটেকে। কোমরের ইনজুরির কারণে ম্যানচেস্টার সিটির ফুলব্যাক পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাননি। পাশাপাশি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে জুভেন্টাসের উইঙ্গার ডগলাস কোস্টাও খেলতে পারছেন না। কোস্টারিকার বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নেমে তার পারফর্মেন্সে ভর করেই মূলত জয় পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে সার্বিয়া। এর আগে ২০১৪ সালে প্রীতি ম্যাচে মাত্র ১-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। বিশ^কাপে ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত সাতটি ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছে মাত্র একটিতে। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের মুখোমুখি লড়াইয়েও সার্বিয়ানদের পেছনে ফেলতে পারেনি ব্রাজিল। এ পর্যন্ত চারবারের দেখায় দু’টি দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে। আর ড্র হয়েছে দুইবার। মেক্সিকোর কাছে হেরে মিশন শুরু করা জার্মানি দ্বিতীয় ম্যাচে ভাগ্যক্রমে হারিয়েছে সুইডেনকে। এরপরও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত না। এ জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে নিউয়ের, ক্রুসদের। আরেক ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা মেক্সিকো খেলবে সুইডেনের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ‘এফ’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে এক পা দিয়ে রেখেছে মেক্সিকো। ৩ পয়েন্ট করে নিয়ে গোলগড়ে যথাক্রমে দুই ও তিনে আছে জার্মানি ও সুইডেন। দু’টি ম্যাচে হেরে কোন পয়েন্ট না পেয়েও এখনও সম্ভাবনা আছে কোরিয়ার। এই ম্যাচে জেতার পরও জার্মানির ভাগ্য ঝুলে যেতে পারে। কেননা আরেক ম্যাচে যদি সুইডেন মেক্সিকো হারিয়ে দেয় তাহলে তখন কোরিয়া বাদে তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৬। তখন গোলগড়ে নির্ধারণ হবে কোন্ দু’টি দল পরের পর্বে যাবে। আবার দু’টি ম্যাচ ড্র হলে মেক্সিকোর গ্রুপ সেরা হওয়া নিশ্চিত হবে। কিন্তু জার্মানি ও সুইডেনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বিভিন্ন হিসেব নিকেশে। আবার মেক্সিকো ও জার্মানি যদি নিজ নিজ ম্যাচ জিতে যায় তাহলে তারাই যাবে নকআউটে। সবমিলিয়ে জটিল সমীকরণ সামনে রেখেই খেলতে হচ্ছে জার্মানিকে। এই মিশনে কোরিয়ার গতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে তারা। টানা দুই ম্যাচ জয়ের পরও খাতাকলমে বাদ পড়ার শঙ্কা আছে মেক্সিকোরও। এ কারণে কোন ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে খেলার আশা উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দেশটির। দলটির গোলরক্ষক ওচোয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, সুইডেনের বিপক্ষে জার্মানির শেষ মুহূর্তের গোলটির সময় আমরা বিমানবন্দরে ছিলাম। সত্যি কথা বলতে কি কোন ধরনের পরিসংখ্যান বা অঙ্কের মধ্যে আমরা যেতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত টানা তিনটি ম্যাচ জিততে পারেনি মেক্সিকো। এবার তা করে দেখাতে পারলে কনকাকাফের দল হিসেবে প্রথম এই কৃতিত্ব হবে।