ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

হঠাৎই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ডি ভিলিয়ার্স

প্রকাশিত: ০৬:৩১, ২৪ মে ২০১৮

হঠাৎই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ডি ভিলিয়ার্স

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকা তো বটেই, বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যই এটি ঘোর লাগানো খবর। হঠাৎই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে ভারতে অবস্থান করছিলেন সুপার এবি। শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে ওঠা হয়নি। এক ভিডিও বার্তায় তুখোড় দক্ষিণ আফ্রিকান উইলোবাজ জানিয়েছেন, টেস্ট-ওয়ানডে-টি২০ সকল ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই আর খেলবেন না তিনি। এ জন্য অতিরিক্ত খেলার চাপ, ইনজুরি ও ক্লান্তিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ৩৪ বছর বয়সী ডি ভিলিয়ার্স, ‘আমি সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই মুহূর্ত থেকেই। ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি২০ খেলার পর অন্যদের সময় এসেছে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার। আমি আমার কাজটা করেছি, সত্যি কথা বলতে আমি ক্লান্ত।’ নিজের টুইটার এ্যাকাউন্টে শেয়ার দেয়া ভিডিওতে ডি ভিলিয়ার্স আরও বলেন,‘ এটা খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। আমি অনেক দীর্ঘ সময় এ নিয়ে ভেবেছি এবং ভাল ফর্মে থাকা অবস্থাতেই বিদায় নিতে চাচ্ছি। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি সিরিজ জয়ের পর আমার মনে হচ্ছে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নির্দিষ্ট কোন ফরমেট বেছে নেয়া, কিংবা বেছে বেছে নির্দিষ্ট কোন সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত ঠিক হতো না। যদি সবুজ-সোনালির হয়ে খেলতেই হয়, তবে সব খেলব, নয়তো একদম কিছু না। এত বছর ধরে আমাকে সমর্থন দেয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ডের কোচ ও স্টাফদের কাছে কৃতজ্ঞ। ক্যারিয়ার জুড়ে যত সতীর্থ পেয়েছি তাদের সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ। এতগুলো বছর যে সমর্থন পেয়েছি, সেটা না থাকলে আমি অর্ধেক (বর্তমান পর্যায়ের) ক্রিকেটারও হতে পারতাম না।’ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০তে এখন কাড়ি কাড়ি টাকা। ভক্তরা যাতে ভুল না বোঝেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন এবি, ‘এটা অন্য কোথাও অর্থ উপার্জনের বিষয় নয়, এটা হলো ক্লান্তির ব্যাপার। এ ছাড়া আমার মনে হচ্ছে, এটাই সঠিক সময় সরে যাওয়ার। সবকিছুই একসময় না একসময় শেষ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্বের সব ক্রিকেটভক্তদের বলছি, আপনাদের ভালবাসা ও ঔদার্যের জন্য ধন্যবাদ। আর আজ আমার ব্যাপারটা বোঝার জন্য ধন্যবাদ। আমার দেশের বাইরে খেলার কোন ইচ্ছা নেই। সত্য হলো, আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটানসের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চাই। ফ্যাফ ডুপ্লেসিস ও প্রোটিয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়েই থাকব আমি।’ ইনজুরির কারণে গত দুই মৌসুমে দেশের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন। অনেকে ভেবেছিলেন ওয়ানডে ও টি২০ ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে টেস্ট থেকে অবসর নেবেন, অথচ বেছে বেছে সিরিজ খেলবেন। কিছুদিন আগেই লম্বা বিরতির পর ঘরের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে ফিরে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছিল প্রোটিয়াদের ২০১৯ বিশ্বকাপ মিশন। সেটিতে বড় এক ধাক্কা খেল। আধুনিক সময়ে যে ক’জন ব্যাটসম্যান একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন ডি ভিলিয়ার্স তাদের অন্যতম। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক তিনি। নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টেও ৬৯ ও ৬ রানের ইনিংস দুটিই এবির শেষ আন্তর্জাতিক স্কোর হয়ে থাকল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় ১০০ ৫০ ক্যাচ স্ট্যাম্পিং টেস্ট ১১৪ ৮৭৬৫ ২৭৮* ৫০.৬৬ ২২ ৪৬ ২২২ ৫ ওয়ানডে ২২৮ ৯৫৭৭ ১৭৬ ৫৩.৫০ ২৫ ৫৩ ১৭৬ ৫ টি২০ ৭৮ ১৬৭২ ৭৯* ২৬.১২ ০ ১০ ৬৫ ৭
×