ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট

যশোর আড়াই শ’ শয্যা হাসপাতালের ৮ নলকূপের ৫টিই নষ্ট

প্রকাশিত: ০৬:৩৪, ২৮ এপ্রিল ২০১৮

যশোর আড়াই শ’ শয্যা হাসপাতালের  ৮ নলকূপের ৫টিই নষ্ট

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে বসানো ৮টির মধ্যে ৫টি টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে রোগীর স্বজনরা দুর্ভোগে পড়েছে। ওষুধ সেবন ও তৃষ্ণা মেটাতে বোতলজাত পানিই রোগী এবং তার স্বজনদের একমাত্র ভরসা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে ওষুধ কেনার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে পানি কিনতে। সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে দু’টি টিউবওয়েল আছে। একটি স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে রয়েছে কয়েক বছর যাবত। অন্য যেটি সচল আছে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্যে একমাত্র টিউবওয়েল। সেখান থেকেই পানি সংগ্রহ করে পান করছেন ডাক্তার, নার্সসহ হাসপাতালের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবীরা। জরুরী বিভাগের সামনে দু’টি টিউবওয়েল থাকলেও একটি স্থায়ীভাবে অচল। সচলটির পানি পানের অনুপোযোগী ছিল। কাপড় ধোয়া ও গোসল করার কাজে ওই টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতেন রোগীর স্বজনরা। বর্তমানে সেটিও অচল। সংক্রামক ওয়ার্ডের পূর্বপাশে দু’টি টিউবওয়েল আছে। একটি অকেজো থাকলেও অপরটির পানি ডায়রিয়া রোগীদের কাপড় চোপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার হয়। সেটি বের হওয়া পানি মানবস্বাস্থ্যের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ। সবাইকে সতর্ক করা হয় কোন অবস্থাতেই যেন ওই টিউবওয়েলটির পানি পান না করা হয়। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয় টিউবওয়েলটি থেকে। ২০১৬ সালের জুনে রান্না ঘরের দক্ষিণে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের পানি সংগ্রহের জন্যে সেটি স্থাপন করা হলেও সেখানে যাওয়ার প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে রোগীদের কোন উপকারে আসেনি। হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে একমাত্র বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্যে সচল টিউবওয়েলটির সামনে সব সময় দীর্ঘ লাইন থাকে। ফলে অনেকে না জেনে সংক্রামক ওয়ার্ড সংলগ্ন টিউবওয়েল থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি সংগ্রহ করে পান করছেন এবং রোগীদেরও পান করাচ্ছেন। আর যারা জানতে পারছেন তারা ছুটছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বোতলজাত পানি কেনার জন্যে। যশোর আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতাল ও করোনারি কেয়ার ইউনিটের ২৮টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিনই ৫শ’র উপরে রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। প্রতিদিনই রোগীদের স্বজন ও স্বাস্থ্যসেবী মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অবস্থান করেন। এছাড়াও হাজার দুয়েক মানুষ বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এত মানুষের অবস্থান থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একদিকে ওষুধ ও পথ্য, অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানি কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা মাথায় নিতে হচ্ছে বিপদগ্রস্ত মানুষকে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু এ প্রসঙ্গে বলেন, দায়িত্ব নিয়েছি এখনও মাস পার হয়নি। সবকিছু জানতে ও গোছাতে সময় প্রয়োজন। ফলে টিউবওয়েল নষ্ট ও রোগীরা বিশুদ্ধ পানির অভাবে আছেন এ বিষয়টি জানা ছিল না। বিষয়গুলো যাদের দেখভাল করার কথা তারা হয়ত যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টিউবওয়েল অকেজো হয়ে থাকলে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী গণপূর্ত বিভাগ সেগুলো মেরামত করে দেয়। কিন্তু জরুরী পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না হলে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এদিকে, গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দূর করতে ইতোমধ্যে দু’টি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা জায়গায় শীঘ্রই তা স্থাপন করা হবে।