ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ উদ্বোধন

দুর্নীতিবাজদের ধরতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

প্রকাশিত: ০৫:০১, ২৭ মার্চ ২০১৮

 দুর্নীতিবাজদের ধরতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুর্নীতিবাজরা ধূর্ত, শক্তিশালী ও অনেক বেশি প্রভাবশালী। তাই এসব দুর্নীতিবাজকে ধরতে সমাজের সকল শ্রেণীর নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। একই সঙ্গে তিনি উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির জন্য এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গিয়ে সরকারের অর্জিত অর্থনৈতিক অর্জন ধরে রাখতে কাজ করতে এবং স্বাধীনতা দিবসে সব সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠনকে একত্রিত হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান। সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধনকালে দুদক চেয়ারম্যান এসব মন্তব্য করেন। এর আগে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে দুর্নীতিবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। ২৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সর্ব-সাধারণের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতিবাজদের ধরা শুধু একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির জন্য এখনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা ভৌগলিকভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি, এটা আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা হয়ত সেই রাজনৈতিক বা ভৌগলিক মুক্তিটা পেয়েছি, কিন্তু আমরা কী অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তি, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মুক্তি, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি? এটা একটি বড় প্রশ্ন। যদিও আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এরপরও অপনারা দেখেছেন যে, আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি কিন্তু এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে। এটাকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক দিকে যে অর্জন আমরা করেছি, সেই অর্জন যদি আমরা ধরে রাখতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। এটির লাগাম যদি টেনে না ধরতে পারি তাহলে আরও ছয় বা নয় বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির জন্য আমাদেরকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। তিনি বলেন, এই দুর্নীতি দমন কমিশনের এক হাজার ৭৩ জন লোক নিয়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশকে দুর্নীতিমুক্ত নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটি কেউ যদি আশা করেন তাহলে ভুল হবে। সবাই যদি আমরা একযোগে এক সঙ্গে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ না করতে পারি তাহলে সম্ভবত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে না। আমরা যাদেরকে দেখি দুর্নীতিবাজ তারা অনেক বেশি ধূর্ত, শক্তিশালী এবং তারা অনেক প্রভাবশালীও বটে। এদেরকে ধরা শুধু একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে প্রতিষ্ঠান শুরু করতে পারে, প্রতিষ্ঠানকে যদি সবাই মিলে সাহায্য সহযোগিতা না করে তাহলে অসম্ভব বিষয়। এই জন্য আমরা আহ্বান জানাই, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্য, দুর্নীতির লাগামকে টেনে ধরার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সকল সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি এবং সব সংগঠন একত্রিত হয়ে আজকে প্রতিজ্ঞা করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান সেই অবস্থানকে আমরা ধরে রাখব। অনুষ্ঠান শেষে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য দুদকের উর্ধতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান।