ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

দুর্নীতির নেপথ্যে মূলত আমরা সবাই ॥ দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ০৫:০৬, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

দুর্নীতির নেপথ্যে মূলত আমরা সবাই ॥ দুদক চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে বা যারা দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারেন না তারাও দুর্নীতি বাড়ার নেপথ্যের লোক। দুর্নীতি দমন কমিশনও দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে (দুদক) কমাতে পারছে না, দুর্নীতি হচ্ছে, প্রতিরোধ করতে পারছি না। দুর্নীতি দমন কমিশনও পারছে না, তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণও হচ্ছে না। অতএব আমি মনেকরি দেশে দুর্নীতি কমেছে এমন আত্মতুষ্টির কোন সুযোগ নেই এমনটাই বললেন রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। রবিবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতি ধারণা সূচক প্রকাশ নিয়ে এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির নেপথ্যে মূলত আমরা সবাই। আপনি যদি প্রতিরোধ করতে না পারেন, আপনিও এর অংশ। অর্থাৎ আমরা সবাই দায়ী এটার জন্য। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে গণমাধ্যম, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল জনসাধারণের সাহায্য দরকার। জনগণকে যদি সচেতন না করা যায়, তাহলে আমার মনে হয় যে গতিতে দুর্নীতি চলছে সে গতিতে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। এটা একটি সমস্যা। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির ধারণা সূচক আন্তর্জাতিকভাবে যেটা প্রকাশ হয়েছে সেখানে কোন কোন দেশে মাত্র এক পয়েন্ট কমেছে। দুই পয়েন্ট সম্ভবত ১০-১২টি দেশ। দুই পয়েন্ট কমানো এত সহজ বিষয় নয়। বড় বড় দুর্নীতিবাজ আইনের আওতায় আসছে টিআইবি এক পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমি এটার সঙ্গে মোটেই একমত নই যে বড় দুর্নীতিবাজ আর ছোট দুর্নীতিবাজের মধ্যে পার্থক্য নেই। দুর্নীতিবাজ সবসময়ই দুর্নীতিবাজ। বড় ছোট করা সমীচীন নয়। যে কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় ছোট করে বিভাজন করলে দুর্নীতি কমবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছি না, সেটা আমি স্বীকার করি না। যদি তাই হয় ৩৭ শতাংশ সাজার হার বেড়ে কিভাবে ৭৪ শতাংশ হলো। তিনি বলেন, হ্যাঁ, একটা কথা সঠিক যে গতিতে বা যতটুকু কাক্সিক্ষত মাত্রায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার ছিল সেটুকু পারছি না। তবে এটা বুঝতে হবে এটা সহজ বিষয় নয়। এর জন্য জনসাধারণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থপাচার হচ্ছে এটা সত্য। তবে এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সব জায়াগায় অর্থপাচার হচ্ছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ মানিলন্ডারিং আইনে দুদক কেবল সরকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। বেসরকারী পর্যায়ে তদন্ত করবে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইইউ বা সিআইডি। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের উদাসীনতার বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন কোন ব্যক্তির সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। কমিশন কারও প্রতি অতি উৎসাহী বা অতি উদাসীনতা দেখায় না। মামলা হয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিচয় কোন বিষয় নয়। কমিশনের কার্যক্রমে কোন রাজনৈতিকে ইস্যুকে বিবেচনা করা হয় না।