বৃহস্পতিবার ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সুদের হার বাড়িয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক

রহিম শেখ ॥ নতুন বছরের শুরুতে ব্যাংক আমানত ও ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে সরকারী-বেসরকারী অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংক। মূলত আমানতকারীদের আকর্ষণ পাওয়ার জন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত আমানতের সুদ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন বছরের প্রথমদিন থেকে দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে অধিকাংশ বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক।

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ প্রবাহ কম থাকায় ব্যাংকগুলোয় ঋণের চাহিদা কমে যায়। এ কারণে ব্যাংকে মাত্রাতিরিক্ত অলস অর্থের বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আমানতের চাপ কমাতে ব্যাংকগুলো আমানত ও ঋণের সুদের হার কমাতে থাকে। গত দুই বছরে ব্যাংকগুলো ব্যাপক হারে আমানতের সুদের হার কমিয়েছে। ঋণের সুদের হার সামান্য কমলেও ব্যাংকিং খাতে ঋণের চাহিদা বাড়েনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারী খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হঠাৎ বেড়েছে। ভোক্তা ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে সার্বিকভাবে বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারী খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণকৃত ঋণ ছিল ৬ লাখ ৭১ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এতে এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারী খাতে ঋণ বেড়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি।

আমানতের নতুন সুদহার অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ বাড়িয়ে ৩ মাস মেয়াদী আমানতে ৫ শতাংশ, ৬ মাস মেয়াদী ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং এক বছর বা এর বেশি মেয়াদী আমানতে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। বছরের প্রথম দিন থেকে রূপালী ব্যাংকও তিন মাস মেয়াদী আমানতে সাড়ে ৪ শতাংশের পরিবর্তে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। ৬ মাস মেয়াদীতে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং এক বছর মেয়াদীতে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। আর স্বল্প মেয়াদীতে ৩ থেকে বৃদ্ধি করে ৪ শতাংশ এবং সঞ্চয়ী আমানতে সাড়ে ৩ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। নতুন বছরে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে মেয়াদী আমানত নিচ্ছে ঢাকা ব্যাংক। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদী স্কিমে সুদের হার বাড়িয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও শীঘ্রই বাড়াবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমানতের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই আমানতের ওপর চাপ তৈরি হয়। দুই বছর ধরে আমানতের তুলনায় ঋণে বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এ রকম সময়ে আমানত সংগ্রহে সুদহার বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। সামনের দিনে এটি আরও বাড়তে পারে। নতুন বছরে শুধু ঢাকা ব্যাংক নয়, দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক আমানতে সুদহার বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বেসরকারী কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির পর আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারায় অনেকের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আমানতকারীদের অনেকের মধ্যে সরকারী ব্যাংকের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলেও তারা এখানে অর্থ রাখা নিরাপদ মনে করছেন। এ রকম সময়ে আমানতকারীরা যেন না ঠকেন, সে জন্য সুদহার কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারী অনেক ব্যাংক ইতোমধ্যে ঋণ আমানত অনুপাতের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। আরও অর্থের দরকার হওয়ায় অনেক বেসরকারী ব্যাংক বন্ড দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্যাংকগুলোর ডিসেম্বর ভিত্তিক ঋণ আমানতের সম্মিলিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ নবেম্বর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। বর্তমানে আমানতের তুলনায় ঋণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের ১২ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংক যেখানে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে, সেখানে এসব ব্যাংক ইতোমধ্যে ৮৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণ দিয়েছে। আর ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ দিতে পারে, এর বিপরীতে সেগুলো দিয়েছে ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পুরো ব্যাংক খাতে অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অথচ রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এডিআর রয়েছে ৫২ দশমিক ৫১ শতাংশ। আলোচ্য সময় পর্যন্ত এসব ব্যাংকের ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের এডিআর রয়েছে ৭৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। ব্যাংক দুটির ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়া বিদেশী ব্যাংকগুলোর ৬৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ এডিআর রয়েছে। এসব ব্যাংকের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ আমানতের বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যাংকের তুলনায় বেসরকারী ব্যাংকে আমানতে সুদহার বেশি থাকলেও নতুন করে আবার বাড়াচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভোক্তা ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে অধিকাংশ বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ যাত্রায় কৃষি, এসএমই, আবাসনসহ একাধিক খাতে এ সুদের হার কার্যকর করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা আগে থেকে জানতাম না সুদের হার বাড়ছে। ১ জানুয়ারি অফিসে এসে মেইল থেকে জানতে পারলাম সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, মূলত ভোক্তা ঋণের চাপ বাড়তে থাকায় এই সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে ভোক্তা ঋণের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

এদিকে বর্তমানে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে প্রকল্পসহ বিভিন্ন নামে ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও জমি কেনার ঘটনায় ২০০৯-১০ অর্থবছর হঠাৎ করে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশে ওঠে। তার আগের অর্থবছর ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। বাড়তি চাহিদার কারণে ওই সময় ঋণ ও আমানতের সুদহার বাড়তে থাকে। এরপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তেমন কোন পদক্ষেপ না থাকায় পরের অর্থবছর ২০১০-১১-এ ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ২৫ দশমিক ৮৪ শতাংশে ঠেকেছিল। ঋণ ও আমানতের সুদহার ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় ২০১২ সালে সব ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের একটা সীমা নির্ধারণ করলেও কাজ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির পর ঋণ ও আমানতে সুদহার কমতে শুরু করে। কমে যায় ঋণ প্রবৃদ্ধিও। ২০১২-১৩ অর্থবছর বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশে। পরের বছর আরও কমে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়। পরের দুই অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। পরের অর্থবছর কিছুটা বেড়ে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশে উঠেছিল। গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি হয় ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এখন আবার বাড়ছে। ঋণ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সুদহারও ব্যাপকভাবে কমে ব্যাংকগুলোর আমানতের গড় সুদহার এখন ৫ শতাংশের নিচে এবং ঋণে ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। অবশ্য ঋণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে গত জুনের পর আমানতের সুদহার আবার একটু করে বাড়ছে।

শীর্ষ সংবাদ:
গণমুখী প্রশাসন ॥ স্বাধীনতার ৫০ বছরে বড় অর্জন         ছাত্রদের কাজ লেখাপড়া, রাস্তায় নেমে যান ভাংচুর নয়         উন্নয়নে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ         ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে         ১১ খাতে বিপুল বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা         ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে বদলে গেছে পাহাড়         রামপুরায় ছাত্র বিক্ষোভ, মতিঝিলে গাড়ি ভাংচুর         দেশের প্রথম বর্জ্য বিদ্যুত কেন্দ্র অবশেষে বাস্তবায়ন হচ্ছে         বাল্যবিয়ে রোধে কাজীদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে         হত্যা মিশনে ব্যবহৃত গুলি-অস্ত্র উদ্ধার         শ্রদ্ধা ভালবাসায় জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের চিরবিদায়         সুপ্রীমকোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচার কাজ শুরু         খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায় সরকার ॥ ফখরুল         মুক্তিপণের টাকা আদায় হচ্ছিল মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে         সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে লাল সবুজের মহোৎসবে মুখরিত হাতিরঝিল         ৯০ কার্যদিবসে সম্প্রীতি বিনষ্টের মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে         এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা উপলক্ষে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডিএমপি         আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে ব্যবস্থা নেবো : অর্থমন্ত্রী         হৃদরোগ ঝুঁকি হ্রাসে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু