ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

চূড়ান্তভাবে অবসরে যাচ্ছেন হিঙ্গিস

প্রকাশিত: ০৪:১৮, ২৮ অক্টোবর ২০১৭

চূড়ান্তভাবে অবসরে যাচ্ছেন হিঙ্গিস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই আলোচনায় ছিলেন। ১৪ বছরের কিশোরী হিসেবে যখন শুরু করেছিলেন তখন থেকেই সবার নজর কেড়ে নেন সৌন্দর্য ও গ্ল্যামার দিয়ে। এর পাশাপাশি টেনিস র‌্যাকেট হাতেও ছিল দারুণ নৈপুণ্য। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনটি মর্যাদার গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন জিতেছিলেন। আর সে বছরই বিশ্বের এক নম্বর তারকা হয়ে যান সুইস সুন্দরী মার্টিনা হিঙ্গিস। বেশ আগেই একক ইভেন্ট থেকে অবসরে যাওয়া হিঙ্গিস দ্বৈত খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার সবকিছু থেকেই অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন চলমান ডব্লিউটিএ ফাইনালসে দ্বৈত ইভেন্টে খেলা শেষ করেই অবসর নেবেন। হিঙ্গিসের ক্যারিয়ারটা বেশ বর্ণিল। সেটা টেনিস ক্যারিয়ারে এবং এর বাইরের ব্যক্তিগত জীবনটাও। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে সেই রঙ্গিন জীবনেরও শুরু। সৌন্দর্য আর গ্ল্যামারে বিমোহিত করে তিনি হয়ে গেছেন মডেল, ফ্যাশন কন্যা। আর লাখো ভক্ত-সমর্থকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেন টেনিস কোর্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে। ১৯৯৭ সালে তিনটি গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয় করেন এবং সে বছর শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেনে শিরোপা হাতে ওঠেনি। তখন ১৭ বছরের সেই কিশোরী ফরাসী ওপেনের ফাইনালে হেরে গিয়েছিলেন। তবে এরপরই তিনি উঠে যান ডব্লিউটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে। সেটা তিনি ধরে রেখেছিলেন ২০৯ সপ্তাহ। ১৯৯৭ সালটাই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভাল গেছে তার। এরপর শুধু ১৯৯৮, ১৯৯৯ সালে দুটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিততে পেরেছেন তিনি। তবে ২০০৭ সালে বাধ্য হয়েই একক ইভেন্ট থেকে অবসরে যান হিঙ্গিস। সে বছর নবেম্বরে হিপ ইনজুরিতে কয়েক মাস কোর্টের বাইরে থাকায় অবসরগ্রহণ করেন। ওই বছরই উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপস চলার সময়ে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের দায়ে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞাও পেয়ে যান। এ কারণেই অবসরের সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন। তবে ২০১৩ সালে অবসর ভেঙ্গে আবার খেলায় ফেরেন তিনি। এককে সুবিধা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সেই ইভেন্ট থেকে অবসর নিয়ে শুধু দ্বৈত ইভেন্টে খেলা চালিয়ে যান। এখন পর্যন্ত সেটা অব্যাহত রেখেছেন ৩৭ বছর বয়সেও। বর্তমানে দ্বৈত র‌্যাঙ্কিংয়ে চ্যান ইয়ুং জ্যানের সঙ্গে জুটি বেঁধে আছেন এক নম্বরে। এককে ৫ গ্র্যান্ডস্লাম জেতা হিঙ্গিস এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দ্বৈতে জিতেছেন ১৩ গ্র্যান্ডস্লাম। ১৯৯৮ সালে ক্যালেন্ডার ইয়ার গ্র্যান্ডস্লামও লেখা আছে তার নামের সঙ্গে। ৭টি মিশ্র দ্বৈতের শিরোপাও জিতেছেন তিনি। দুইবার বছর সমাপ্তির মর্যাদার আসর ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপসের শিরোপাও জিতেছেন এককে, তিনবার ডাবলসে। অলিম্পিকেও একবার রৌপ্য জিতেছেন হিঙ্গিস। ফোর্বসের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী নারী এ্যাথলেটের তালিকায় টানা ৫ বছর শীর্ষে ছিলেন তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত। তবে মাত্র ২২ বছর বয়সে গোড়ালির ইনজুরি নিয়ে সাময়িকভাবে টেনিস থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সাময়িক সেই অবসর থেকে তিনি ফিরতে পেরেছেন ২০০৬ সালে। অর্থাৎ ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই দুই দফা অবসর নেয়া হয়ে গেছে হিঙ্গিসের। এখন বয়সটা বেড়েছে, তাই আর খেলা চালিয়ে যাওয়ার চিন্তাটাও তেমন করতে চাইছেন না। টুইটার ও ফেসবুকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগে। পরে তিনি বলেছেন, ‘আমি ল্যাতিশাকে (চ্যান) বছরের শুরু থেকেই বলে আসছি যে হয়তো এটাই আমার শেষ বছর টেনিসে। হয়তো মানুষ মনে করবে যে এটাই আমার উপযুক্ত সময় নয়, আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমি মনে করি সবারই একেবারে শীর্ষ অবস্থানে থাকতেই সমাপ্তি টানা উচিত। এ কারণে এটাই আমার উপযুক্ত সময় সরে দাঁড়ানোর।’