ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

সংস্কৃতি সংবাদ

শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের লোকনাটক ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ মঞ্চস্থ

প্রকাশিত: ০৫:৪১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের লোকনাটক ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ মঞ্চস্থ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে খুলনা অঞ্চলের লোকগাঁথা নিয়ে। এতে দেখা যায় কোন এক দেশের রাজা উজিরের পরামর্শে মেয়ে মহেশ্বরীর দেখভালের জন্য পাশের গ্রামের এক বুড়ির ছেলেকে নিযুক্ত করে। কোটে নামের এই ছেলেটি এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে জানতে পারে যে তার সঙ্গেই মহেশ্বরী কইন্যের বিয়ে হবে। মহেশ্বরী এ কথা শুনে রেগে গিয়ে কোটেকে তাড়া করে। আর তাড়া খেয়ে কোটে উপস্থিত হয় অন্য এক দেশে। ভাগ্যক্রমে সেই দেশের রাজার মৃত্যুর কারণে কোটে হয় সেই দেশের রাজা। আর তখনই সে মহেশ্বরী কইন্যেকে চুরি করে আনার জন্য পাইচো নামক এক চোরকে নিযুক্ত করে। পাইচোও নানা রকম ফন্দি ফিকির আঁটতে থাকে এবং বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে। একে একে সে রাজার হাট-বাজার চুরি করা শুরু করে। রাজ্যবাসী, উজির, নাজির সবাইকে ফাঁকি দিয়ে অবশেষে পাইচো চুরি করতে সফল হয় মহেশ্বরী কইন্যেকে। কইন্যের পিতারূপে বিয়ের মাধ্যমে তাকে তুলে দেয় কোটের হাতে। এরপর মহেশ্বরী রাজা দখল করে কোটের রাজ্য এবং কোটেকে হত্যার জন্য উদ্যত হয়। আর তখনই সে জানতে পারে মহেশ্বরী কইন্যের সঙ্গে কোটের বিয়ে হয়ে গেছে। অবশেষে সে মেনে নেয় তাদের বিয়ে। এভাবেই বিভিন্ন ঘটনাক্রমে আবর্তিত হয় ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ নাটকের কাহিনী। ঢাকা পদাতিকের ৩৫তম প্রযোজনা এ নাটকটির ৫৬তম মঞ্চায়ন হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। খুলনার লোককাহিনীকে উপজীব্য করে গবেষণাধর্মী এ নাটকের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী চপল। সমগ্র নাটকটি বর্ণনা করেন একজন কথক, আর পাত্র পাত্রীরা এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। নাটকটিতে সেটের ব্যবহার নেই বললেই চলে। পেছনে শুধু একটি বটগাছের পটচিত্র আছে, যাতে বোঝা যায় গ্রামের কোন এক বটতলায়, রাতের বেলা গানের আসর বসেছে। একদল গ্রামবাসী শুনছে সে গল্পগান। নির্দেশক বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সাংস্কৃতিক উপাদান। বাংলার লোকাঙ্গনে লালিত এসব সাংস্কৃতিক উপাদানই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের শেকড়। কৃষিভিত্তিক সভ্যতার এ দেশে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের শিল্পবোধ বড়ই চমৎকার, মধুর আর বিচিত্র সম্ভারে পরিপূর্ণ। লোকমনে ফল্গুধারার মতো উৎসারিত এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ শিল্প উপাদানগুলোই আমাদের অতিপ্রিয় লোকসংস্কৃতি। খুলনা এলাকায় অসংখ্য লোকউপাদান রয়েছে। লোকনাটক করব এ ভাবনাতেই লোককাহিনী পাইচো চোরের কিচ্ছা খুঁজে বের করা। কবিয়াল বিজয় সরকার, আলেক মাতুব্বর, মোসলেম বয়াতীসহ খুলনা এলাকার অসংখ্য লোককবি ভাটিয়ালী সুরে যে ভাব, রস আমাদের মনে গ্রথিত করেছেন তা এই নাটকের মূলসুর হিসেবে কাজ করেছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন-কাজী শিলা, কিরণ, আলামিন, তন্দ্রা, শ্যামল, দেবাশীষ বড়ুয়া, নিপা, সজল, আসিফ, আল আমিন, রিয়াজ, সম্রাট, তন্বি, সুমন ঘোষ, রাহাত, আসিফ, সামিউল, মাসুদ আহম্মেদ, সুকান্ত, সেতু, ইকরা প্রমুখ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২