ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকছে

উইমেন্স হলিডে মার্কেটে ঈদ-ক্রেতা সমাগম বেড়েছে

প্রকাশিত: ০৪:৪৬, ২৩ আগস্ট ২০১৭

উইমেন্স হলিডে মার্কেটে ঈদ-ক্রেতা সমাগম বেড়েছে

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ॥ মহাখালী বাস টার্মিনালের উত্তর পাশে ডিএনসিসি কর্তৃক নবনির্মিত মহাখালী পাইকারি কাঁচাবাজার প্রাঙ্গণে গড়ে উঠেছে নারী বিক্রেতা পরিচালিত ‘উইমে›স হলিডে মার্কেট’। যেখানে একই ছাদের নিচে ৫০ নারী বিক্রেতা বিকিকিনি করছেন। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে এই মার্কেটে। প্রথমবারের মতো রাজধানীতে চালু হওয়া নারীদের এই মার্কেটটি যাত্রা শুরু করে চলতি বছরের মে মাস থেকে। ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে সে সময় মার্কেটটি শুরু হলেও ক্রেতা সমাগম খুব কম ছিল। কিন্তু ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে ‘উইমেন্স হলিডে মার্কেটে’। প্রাথমিকভাবে মার্কেটটি সপ্তাহে দুইদিন শুক্র ও শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মার্কেটটি সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকছে। উইমেন্স হলিডে মার্কেটের নারী বিক্রেতাদের মতে, মার্কেটটি শীঘ্রই রাজধানীজুড়ে পরিচিতি লাভ করবে। এবং অনেক নারী এই মার্কেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মঙ্গলবার ‘উইমেন্স হলিডে মার্কেট’ প্রাঙ্গণে বিকেল ৩টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, একে একে ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। এই মার্কেটের বিশেষত্ব হলো এখানে আসা ক্রেতারা একই ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্য হাতের নাগালে পেয়ে যান। সঙ্গে মার্কেটে আসা ক্রেতারা ঘরের তৈরি পিঠা থেকে শুরু করে হরেক রকম খাবারও পাচ্ছেন এখানে। নারী বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার বেশিরভাগ ক্রেতারাই নারী। তবে পুরুষ ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসছেন। প্রথমে অনেক পুরুষ ভাবতেন উইমেন্স হলিডে মার্কেট বোধ হয় নারীদের জন্যই। এ জন্য অনেকে গেটে এসে দারোয়ানের কাছে মার্কেটে ঢোকার জন্য অনুমতি চাইতেন। কিন্তু এখন নারী-পুরুষ সবাই এই মার্কেটের ক্রেতা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক রাজধানীতে বসবাসকারী নারীদের অধিক কর্মসংস্থানের কথা বিবেচনা করে ‘নারী উদ্যোক্তা’ তৈরি করতে নারী বিক্রেতাদের দিয়ে এ মার্কেটটি চালু করছেন। এই মার্কেটের নারী বিক্রেতাদের কেউ কেউ গৃহিণী, কেউ আবার ছাত্রী এমনকি এদের কেউবা বিধবা। বিভিন্ন স্তর থেকে উঠে আসা এসব নারী বিক্রেতারা একই ছাদের নিচে বসে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তারা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিক্রেতা হওয়ায় এদের অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান তারা। উইমেন্স হলিডে মার্কেটের একজন বিক্রেতা শামীমা আক্তার। তার দোকানে কসমেটিকস থেকে শুরু করে নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দেখা মিলবে। একজন উচ্চশিক্ষিত নারী হয়েও শামীমা কেন বিক্রেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন তা জানতে চাইলে শামীমা জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরেও পাড়ি জমিয়েছিলাম। কিন্তু পারিবারিক কারণে আবার দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। যখন দেশের বাইরে ছিলাম তখন আমি একটি দোকানে সেলসের কাজ করতাম। দেশে আসার পর একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করলাম। কিন্তু চাকরি করতে একঘেয়েমি কাজ করে। তাই মে মাসে যখন জানতে পারলাম উইমেন্স হলিডে মার্কেট যাত্রা শুরু করেছে তখনই কাউন্সিলর ডেইজী আপার সঙ্গে যোগাযোগ করলাম ও নারী উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আবেদন জমা দিলাম। এরপর থেকে শুরু হলো বেচাকেনা। রমজানের ঈদের চেয়ে কোরবানি ঈদের সামনে ভালই বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, সামনে এই মার্কেটটি রাজধানীর সবচেয়ে জমজমাট মার্কেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। প্রাথমিকভাবে সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্য থেকে আগে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করেন এমন ৫০ নারী উদ্যোক্তা এ মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। এসব উদ্যোক্তাদের অনেকেই আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাদেরই একজন শারমিন আক্তার। তার দোকানে পাওয়া যাবে ছোট ও বড়দের সকল গার্মেন্টসের পোশাক। জানা গেল, পাঁচ বছর ধরে তিনি বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জনকণ্ঠকে জানালেন, ‘মাস্টার্স পাস করার পরও পরিবার থেকে চাকরি করার অনুমতি পাইনি। পরবর্তীতে সংসার জীবনেও চাকরি করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। এখন ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে তাই ভাবলাম উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার। এরপর মহাখালীর একটি মার্কেটে কাপড়ের দোকান দেই। মূলত, তখন থেকেই বিক্রেতা হিসেবে কাজ শুরু করি। পাশাপাশি অনলাইনে ‘আজকের ডিল’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও বেচাকেনা করছি। এরপর যখন এই মার্কেটের খবর পেলাম তারপর ডেইজী আপার সঙ্গে যোগাযোগ করলাম এবং বিক্রি শুরু করলাম।’ নারী পরিচালিত এ মার্কেটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন ডিএনসিসির ৩১, ৩৩ ও ৩৪নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আলেয়া সারোয়ার ডেইজী। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন রাজধানী তথা দেশে প্রথমবারের মতে ৫০ নারী উদ্যোক্তা নিয়ে উইমেন্স হলিডে মার্কেট চালু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা। সরকার নারীদের এখন জামানতবিহীন ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। তাই নারীরা নিজ নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। প্রথমত, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হিসেবে শুক্র ও শনিবার এই মার্কেট চালু রাখার কথা থাকলেও উদ্বোধনের পর থেকেই বিক্রেতাদের আন্তরিকতা ও উৎসাহের কারণে সপ্তাহের ছয়দিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেটটি খোলা রাখা হচ্ছে। এ জন্য অনেক বিক্রেতারা বলছেন ‘উইমেন্স হলিডে মার্কেট’ থেকে হলিডে শব্দটি বাদ দেয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, নারী উদ্যোক্তাদের অনেকেই আমার কাছে আবেদন করছেন। ৫০ নারী উদ্যোক্তা নিয়ে শুরু হওয়া এই মার্কেটে শীঘ্রই আরও উদ্যোক্তাদের প্রবেশ ঘটবে বলে আশা করছি।
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২
ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২