সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

আইন নির্বাহী ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিতর্ক সংসদে আলোচনা করে সমাধান করুন

  • জাপা এমপির আহ্বান

সংসদ রিপোর্টার ॥ দেশ ও জাতির স্বার্থে আইন, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ নিয়ে চলমান টানপোড়েন সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফকরুল ইমাম। প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ থেকে এত কথা বার্তা কেন বলা হচ্ছে তা জানি না। এখন বিচার বিভাগ যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদা চায় তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে দেবেন তা জানি না। প্রধানমন্ত্রী যদি পারেন তাহলে এই সংসদ উনাকে (প্রধান বিচারপতি) তা দিতে পারে। তারপরে যদি উনি শান্ত হন। এতে বলার কিছু নেই।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথমদিন মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বিচার ও নির্বাহী বিভাগ নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে চাই দেশের মানুষের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমরা ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ নিয়ে যে ব্যবস্থাপনা উনি দিয়েছেন, এরপর এ বিষয়টি নিয়ে আর কেউ কথা বলবে না, হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় এরপরেও এটা নিয়ে দেশে আলোচনা হচ্ছে।

এ বিতর্ক প্রসঙ্গে বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, এটা এমন একটা জিনিস যা মানুষের মধ্যে আস্থাটা হারিয়ে ফেলে। আমি মনে করি কেউ কেউ বলেছেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ চলছে। বিচার বিভাগ স্বাধীন না, দেশে আইনের শাসন নেই। এটা কারা বলেছেন, কিভাবে বলেছেন আমি জানি না। সরকারের উচিত এগুলোকে দেখা।

ফকরুল ইমাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিন প্রধান স্তম্ভ আমাদের। কিন্তু এখানে আর একটু যোগ করতে চাই। এই পার্লামেন্টের (সংসদ) অগ্রাধিকারটা কী? আসলে অথরিটিটা (কর্তৃত্ব) কী? আমার মতে যারা তৈরি করতে পারে এবং ভাঙ্গতে পারে তার কাছেই অথরিটি। যে হায়ার করতে পারে, ফায়ার করতে পারে তার কাছেই অথরিটি।

মমতার কড়া সমালোচনা তাহজিবের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কড়া সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সংসদে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তিস্তার পানির কথা বলেছেন, এতে বাংলাদেশের মানুষ গর্ববোধ করেছেন। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির অন্যায় চাপে কেন্দ্রীয় সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়। এতে বাংলাদেশের জনগণ তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়।

মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উজান থেকে ভাঁটিতে থাকা বাংলাদেশের জনগণকে অন্যায়ভাবে জল দেবেন না। জলের প্রাকৃতিক ধারায় আপনি কৃত্রিম বাধা তৈরি করবেন? এখন জল না পেয়ে বাংলাদেশের জনগণ রুষ্ট হয়েছে। যদি বাংলাদেশ ভারত থেকে টাটা ট্রাক নেয়া বন্ধ করে দেয়, তুলা পেঁয়াজ নেয়া বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প মালিকরা ভারতীয়দের চাকরি দেয়া বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশীরা ভারতে গিয়ে চিকিৎসা ও কেনাকাটা বন্ধ করে দেয়- তখন আপনার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের কী অবস্থা হবে মমতা ব্যানার্জি আপনি কি ভেবে দেখেছেন?

শীর্ষ সংবাদ: