রবিবার ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এক টাকায় আহার, চিকিৎসা ও আইনী সেবা

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য এক টাকায় আহার, চিকিৎসা ও আইনী সেবা
  • বেসরকারী উদ্যোগ

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ॥ স্কুল থেকে ঘরে ফেরার সুযোগ পায়নি রুবিনা। মা তাকে নিয়ে হাজির হয়েছে এক টাকায় চিকিৎসা ক্যাম্পে। যদি ডাক্তার চলে যায় তাই তো এত তাড়াহুড়ো। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁর সিরিয়াল আসে। ফোঁকলা দাঁতের লাজুক হাসিতে ডাক্তারের দেখাদেখি বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে সে। হঠাৎ রুবিনা ডাক্তারের কাছ থেকে তার স্টেথেস্কোপটি নিয়ে নিজ কানে লাগিয়ে ডাক্তারের হার্টবিট মাপতে শুরু করে। ডাক্তারও হাসি মুখে রুবিনাকে জিজ্ঞাসা করে, বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও। সে বলে, ‘আমি ডাক্তার হতে চাই ঠিক আপনার মত’। বিহারী পল্লীতে বসবাস করে সাত বছরের রুবিনা। দরিদ্র পরিবারের এই মেয়েটি তার মায়ের সঙ্গে দুদিন আগে বিহারী পল্লীতে ‘এক টাকায় চিকিৎসা ক্যাম্পে’ চিকিৎসা গ্রহণ করতে এসেছিল। এদিন ৭৪ জন শিশু, বয়স্ক আর মহিলা এই চিকিৎসা ক্যাম্প থেকে এক টাকায় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

গাবতলী, এয়ারপোর্ট স্টেশনের সামনেসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে রুবিনার মতো অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ বয়স্করা এক টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি এ সংগঠন চেষ্টা করছে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রোগীদের প্রদান করতে। রোগ ভেদে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা হয় একেকজনের ওষুধের দাম, তিন দিন প্রর্যন্ত ওষুধ পাচ্ছে রোগীরা। ১২ বছরের নিচে এবং ৬০ বছর বয়স্ক মানুষের এই সেবা শুরু হয়েছে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক টাকার এই স্বাস্থ্যসেবা। যা চলছে প্রতিদিন। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যায়নরত স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তাররা এমনকি এমবিবিএস ডাক্তাররা এ সংগঠনের হয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার মানুষকে দেয়া হয়েছে এই সেবা। শুধু এক টাকায় স্বাস্থ্যসেবা নয়, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য খাবার এমনকি আইনী সহায়তা প্রদান করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

বর্তমান যুগে যেখানে এক টাকায় একটি চকলেট ছাড়া আর কিছুই মেলে না সেখানে এক টাকায় খাবার, চিকিৎসা ও আইনী সহায়তা পাওয়ার কথা সবার চিন্তার বাইরে। কিন্তু বাস্তবেই এখন এক টাকায় খাবার, চিকিৎসা ও আইন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এই অসাধ্য সাধন করে আসছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ২০১৩ সালের ২২ নবেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু হয় এই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাশের হাত ধরে। নানা প্রতিকূলতার কারণে শৈশবে নিজেও সুবিধাবঞ্চিতদের কাতারে ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা কিশোর। টাকার অভাবে মাধ্যমিকের পর লেখাপড়ার বিরতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর বিরতি শেষে চট্টগ্রামের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে প্রবেশ করেন চুয়েটে। সেখান থেকে পড়া শেষ করে ২০০৬ সালে যোগদান করেন ওয়ারিদ টেলিকমে (এয়ারটেল)। বর্তমানে তিনি পেরুতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওলো’তে কর্মরত রয়েছেন।

কিশোর কুমার দাশ সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। সুবিধাবঞ্চিত হওয়া এবং নানা প্রতিকূলতাই তাকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ভাবার প্রেরণা জাগিয়েছে। সংগঠনটি চলছে মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের হাতেই। মানুষের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যেই নিজ উদ্যোগেই এখানে কাজ করেন সবাই। ঢাকাসহ নারায়াণগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজবাড়ী, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ এই আট জেলায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

এই সংগঠন প্রথমে বিনামূল্যেই সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করত। কিন্তু সুবিধাবঞ্চিতদের নিজেদের অন্তত খাবার কিনতে পারার সামর্থ্যবান বোঝাতেই এই এক টাকার তকমা লাগানো হয়েছে বলে জনকণ্ঠকে জানান প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক তৌকির ওসমান। প্রতিদিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার রান্না ও বিতরণের কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেই রান্নার কাজ করে থাকেন। এক টাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। প্রথম থেকে প্রতিষ্ঠাতা কিশোরের নিজ অর্থায়নে চললেও বর্তমানে সমাজের নানা পেশার মানুষের অর্থায়নে চলছে এর কার্যক্রম। কিন্তু অর্থ সংগ্রহে রয়েছে একটি প্রক্রিয়া এবং সচ্ছতা। যে কেউ চাইলেই অর্থ সাহায্য করতে পারে না। এর জন্য তাদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বলে জানান তৌকির ওসমান। সম্প্রতি, কড়াইল বস্তিতে আগুনে সর্বহারা মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। ৫ দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে।

খাবার ও চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি চলছে এক টাকায় আইনী সহায়তা। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত শিশুদের আইনী সহায়তা দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। আবদুল্লাহ, রাজীব, হাসান ও সাগর এই চার কিশোর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভবঘুরে জীবন যাপন করত। এই বছরের শুরুতে জিডি মামলায় গ্রেফতার হয় তারা। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকলেও সন্দেহের বলী হয়ে তারা হাজতে কাটিয়েছে অনেকটা সময়। এই চার যুবকের অভিভাবক জানতেন না তাদের সন্তানদের অপরাধ কি? নিজস্ব খরচে আইনজীবী রেখে বিচার কাজকে দ্রুত করাও সম্ভব না এসব সুবিধাবঞ্চিতদের। সম্প্রতি ‘এক টাকায় আইন সেবা’র অধীনে এই চার যুবককে নিজস্ব আইনজীবী দ্বারা মুক্ত করেছে এই সংগঠন। শুধু এই চারজন নয় আরও অনেক কিশোর ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আইনী বেড়াজাল থেকে মুক্ত করেছে এ সংগঠন।

বিদ্যানন্দ একটি শিক্ষা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মূল কাজ হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান করা, কাপড়সহ বই-খাতা বিতরণ করা। ইতোমধ্যেই বিদ্যানন্দের অধীনে এক হাজার এক শ’ ছাত্রছাত্রী পড়ালোখা শিখছে। ২০ জন কর্মকর্তা, কয়েক শ’ স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা আটটি শাখার মাধ্যম চলছে বিদ্যানন্দ সংগঠন। নিজস্ব ক্যাম্পাসে নবনির্মিত অনাথাশ্রম আর পরিপূর্ণ স্কুলের স্বপ্ন দেখছে বিদ্যানন্দ।

শীর্ষ সংবাদ:
২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৫৪৫         মাধ্যমিকে পাসের হার ৮২.৮৭ %         শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল         দুবাই থেকে ফিরলেন আটকে পড়া ২৬২ জন         দিনাজপুর বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৩         এসএসসি : যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী         বাংলাদেশে সংক্রমণের মাত্রা উর্ধ্বমুখী থাকলেও আজ খুলছে সব ধরণের কার্যক্রম         মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু         দেশের ১৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস         কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার জেরে সংঘর্ষ ॥ যুক্তরাষ্ট্রে ১৬টি অঙ্গরাজ্যে কারফিউ জারি         সামাজিক দূরত্ব না মানায় রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে জরিমানা         খুলে দেওয়া হল আল-আকসা মসজিদ         জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করছেন ট্রাম্প         মহামারীর মাঝেই ইতিহাস গড়ে মহাকাশে পাড়ি!         ইরানে ‘ভালোবাসার অপরাধে’ কন্যার শিরশ্ছেদ করলেন বাবা         জীবন-জীবিকার লড়াই ॥ তালা খুলছে আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া         করোনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্ত করুন         রেকর্ড প্রবৃদ্ধির টার্গেট ॥ নতুন বাজেটে জিডিপি নির্ধারণ ৮.৫ শতাংশ         মৃত্যু ও আক্রান্তে ভারতের রেকর্ড        
//--BID Records