ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটির তথ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন নাশকতা নয়, গাফিলতি কর্মকর্তাদের

প্রকাশিত: ০৬:০২, ২৯ মার্চ ২০১৭

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন নাশকতা নয়, গাফিলতি কর্মকর্তাদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনে আগুনের ঘটনায় নাশকতা নয়, বিভাগের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও মঙ্গলবার পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। ফলে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়ক্ষেপণ হতে পারে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুনের ঘটনায় নির্দেশনা না মানার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আগুনে ক্ষয়ক্ষতি ও কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটির এক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, শর্ট সার্কিট থেকে সেখানে আগুন লেগেছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমূল সংস্কার করতে হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের ১৪ তলায় আগুনের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ওই রাতেই কমিটি গঠন করে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন নিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের দ্বিতীয় কর্মদিবস। এদিন দুপুর ৩টার দিকে তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকে যান। কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা) সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে এটি কোন নাশকতা নয়। তবে এটা ঠিক, এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি রয়েছে। আমরা সব দিক বিবেচনা করেই প্রতিবেদন তৈরি করব। কিছুই বাদ যাবে না। সঠিক চিত্র তুলে ধরব। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া যায়নি জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রথমে মৌখিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলাম। পরে লিখিতভাবে চেয়েছি। এখনও পাইনি। আমাদের সময়ও খুব কম। আবারও চাওয়া হবে। না পেলে হয়ত সময় বাড়াতে হবে। আমরা সে ক্ষেত্রে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানোর জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ করব। আগুনের সূত্রপাত যে বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, কিভাবে এসব কেটলি ভেতরে নেয়া হয়েছে সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকে ইলেকট্রিক ডিভাইস নেয়ার ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ আছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত কাজে কমিটি বুধবারও বাংলাদেশ ব্যাংকে যাবেন বলে জানান সমরেন্দ্র নাথ। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুনের ঘটনায় নির্দেশনা না মানার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। আগুনে ক্ষয়ক্ষতি ও কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটির এক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গবর্নর ফজলে কবিরের নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে বৈদ্যুতিক কেটলি (ওয়াটার হিটার) ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। কিন্তু নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কেটলি নেয়া হয়েছে। তবে কমিটি তদন্ত করে দেখেছে, আগুনের ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবন ব্যবহারের সময় থেকেই নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে ইচ্ছেমতো কোন বৈদ্যুতিক ডিভাইস কিংবা এ ধরনের হিটার বা কেটলি ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ সেটি মানেনি। তারা কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই কেটলি ভেতরে নিয়েছে। এটা পুরোপুরি নির্দেশনা লঙ্ঘন। অবহেলার কারণে বিভাগের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায় নিতে হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রিজার্ভের টাকা ফেরত সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা। শর্ট সার্কিট থেকে সেখানে আগুন লেগেছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমূল সংস্কার করতে হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকটির আইটি স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি বেশ পুরনো। সেটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল মেয়াদী ছিল এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেখানে সংস্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটিকে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির আইটি স্থাপনা (সার্ভার, রাউটার, সুইচ, স্টোরেজ, ফায়ার ওয়াল, ইউপিএস, প্রিসিশন এয়ারকন্ডিশনার ইত্যাদি) ২০০৮ সালে স্থাপন করা হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ ২০১৩ সালে উত্তীর্ণ হয়েছে। এটি সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। রিজার্ভের বাকি টাকা ফেরত পাব। তবে এটিতে সময় লাগতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা। শর্ট সার্কিট থেকে সেখানে আগুন লেগেছে। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজিপি কে এম শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।
monarchmart
monarchmart