মঙ্গলবার ১২ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন তার এক গ্রন্থে বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাৎক্ষণিকভাবে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলাম আমি। সে জন্য আন্দোলনের ব্যাপারে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় আমাকে। বায়ান্ন সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের একটি সভা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের ছাত্ররা তাতে অংশ নেন। সভায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সব ছাত্র বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। শামসুল হক একা এতে দ্বিমত জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘সামনে নির্বাচন। এখন আন্দোলন করলে নির্বাচন নাও হতে পারে।’ সভায় উপস্থিত কোন ছাত্রই তার কথা শোনেননি।

জাকির হোসেন (একুশের কবিতা সঙ্কলন) ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের একান্ত সাক্ষাতকার নিয়েছেন। ওই সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন নিয়ে আব্দুল মতিন স্মৃতিচারণ করেছেন। পাকিস্তান শাসকদের সব চক্রান্ত রুখে বাঙালী সে দিন নিজের অধিকার আদায় করে নিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের অনেক অর্জন আছে। দুঃখজনক হলো, এত বছর পরেও সর্বস্তরে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চালু হয়নি। বায়ান্নর ২১ ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার মুক্তি ঘটে সত্য। তবে এখনও এ ভাষার যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। বাংলা ভাষা নিয়ে যথাযথ গবেষণা হচ্ছে না। ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়নও এ দেশে হয়নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসও বিকৃত হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে একুশের প্রভাতফেরি সংস্কৃতি।

একুশের মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অর্জন হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন হয়নি। আন্দোলনের মূল প্রত্যাশা অনুযায়ী সর্বস্তরে বাংলা চালু হয়নি। কেন হয়নি এ প্রশ্নের উত্তর ভাষাসৈনিকদের জানা নেই। কীভাবে চালু করা যায়, সেটাও তাদের জানা নেই। ভাষাশহীদ ও সৈনিকরা মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন, জীবন দিয়েছেন। তবে এ ভাষাকে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে চালু করার দায়িত্ব তাদের নয়। দায়িত্বটা তাদের, যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। আমি মনে করি, সর্বস্তরে বাংলা চালু এবং একে নিয়ে গবেষণা না হলে আমাদের মাতৃভাষা এগোতে পারবে না।

একুশের একটি সংস্কৃতি হলো প্রভাতফেরি। ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ সকালে শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরি করেন। এ সংস্কৃতিও হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলতে পারেন, এটা অনেক বছর আগের ব্যাপার। সময়ের ব্যবধানে তো অনেক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা রীতি বিলুপ্ত হয়। তাদের বক্তব্য আমি সঠিক বলেই মনে করি। এটাও সত্য, প্রভাতফেরির জন্য দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ আর সে রকম সুযোগ-সুবিধাও নেই।

ভাষা আন্দোলন কোন রাজনৈতিক দলের ছিল না। সেটা ছিল ছাত্রদের আন্দোলন। আজকের প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস ঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন। প্রকৃত ইতিহাস রচনার মাধ্যমে বিকৃতি ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটানো এখনই দরকার।

শীর্ষ সংবাদ:
একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন         ব্রিটেনে পাঁচ বাঙালীর নামে পাঁচটি নতুন ভবন উৎসর্গ         ৪০২ দিন পর খেলতে নামলেন মাশরাফি         ইউক্রেন বিষয়ে পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর         প্রথমবারের মত দক্ষিণ কোরিয়ায় দৈনিক সংক্রমণ ৮ হাজার ছাড়িয়েছে         ভারতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭ মেডিকেল শিক্ষার্থী নিহত         ওমিক্রনে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে         ‘জাতিসংঘে চিঠি শান্তিরক্ষা মিশনে প্রভাব ফেলবে না’         রাজশাহীতে করোনায় ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ৫৫.৭৮%         ক্যামেরুনের স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালে হুড়োহুড়িতে ছয় দর্শকের মৃত্যু         এবার র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করতে ইইউতে চিঠি         ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম         গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৯২২ জন         ইন্দোনেশিয়ায় জাতিগত সংঘাতে ১৯ জন নিহত         কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা         আজ বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের ৫০ বছর         আগুন যেন অপ্রতিরোধ্য ॥ একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে         শাবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত         উলন বিদ্যুত উপকেন্দ্র পুড়ে ছাই         ইসি গঠনের বিলে দুই পরিবর্তনের সুপারিশ