ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত

নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি গেজেটে প্রকাশের প্রয়োজন নেই

প্রকাশিত: ০৬:১৩, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি গেজেটে প্রকাশের প্রয়োজন নেই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক নোটিস থেকে এ তথ্য জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোশতাক আহাম্মদ স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, ‘বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক আচরণ বিধিমালা, শৃঙ্খলা বিধিমালা এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (সার্ভিস গঠন, সার্ভিস পদে নিয়োগ ও বরখাস্তকরণ, সাময়িক বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা-২০০৭ সংশোধনকল্পে সুপ্রীমকোর্টের প্রস্তাবিত খসড়া বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নাই মর্মে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ্যাটর্নি জেনারেলসহ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার এবং সংশ্লিষ্টদের এ নোটিসের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। গত ৮ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আজ সোমবার হাজির করতে এ্যাটর্নি জেনারেলকে মৌখিক নির্দেশ দেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আট বিচারপতির আপীল বেঞ্চ। ১ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা পালন না করে বৃহস্পতিবার আবারও সময় চান এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর আপীল বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হককে আজ ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলমের উদ্দেশে আপীল বিভাগ বলেন, আমরা বার বার সময় দিচ্ছি। কিন্তু আপনারা বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করছেন না। আপনার আবারও সময় চাচ্ছেন। আমরা সময় দিচ্ছি না। আপনি দুই সচিবকে সোমবার হাজির করবেন। আর বিধিমালার গেজেট জারি করে নিয়ে আসবেন। আদালত বলেন, গেজেট প্রণয়নে বারবার সময় দেয়া সত্ত্বেও এখনও তা প্রকাশ করা হয়নি। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ঐ দিন আদেশের পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে বলেছি- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিধিমালার সারসংক্ষেপটি রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে। এটি প্রক্রিয়াধানীন। এজন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। এরপর আদালত দুই সচিবকে আগামী সোমবার আপীল বিভাগে আসতে বলেছেন’। মাসদার হোসেন মামলার রায় ঘোষণার আট বছর পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়। ওই সময় যে চারটি বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুডিসিুুুয়াল সার্ভিস (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান এবং চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী) বিধিমালা, ২০০৭ একটি। যেখানে বলা হয়েছে, পৃথক বিধি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান করা হবে ১৯৮৫ সালের গবর্নমেন্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী। তবে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী সেই জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি এখনও তৈরি হয়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে সরকার বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কিছু পদের বেতন স্কেল বৃদ্ধি করে। এতে অন্য ক্যাডারদের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা দেয়। তৎকালীন সরকার এই অসঙ্গতি দূর করার জন্য ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি জজ আদালতের বেতন স্কেল বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসন ক্যাডারের আপত্তির মুখে সরকার ওই বেতন স্কেল স্থগিত করে। জুডিসিয়াল সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেনসহ ৪৪১ জন বিচারক ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট পাঁচ দফা সুপারিশসহ ওই মামলার রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করলে আপীল বিভাগ ১৯৯৯ সালে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ঐতিহাসিক রায়টি দেন।