ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

হলি আর্টিজানে বর্বর জঙ্গী হামলার আজ এক মাস পূর্ণ হলো

প্রকাশিত: ০৫:৩৮, ১ আগস্ট ২০১৬

হলি আর্টিজানে বর্বর জঙ্গী হামলার আজ এক মাস পূর্ণ হলো

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পবিত্র রমজানে ঘটানো রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলার এক মাসপূর্তি হচ্ছে আজ ১ আগস্ট। রবিবার এ জঙ্গী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে চার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশী। জঙ্গীদের সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহসানসহ জঙ্গীদের বাড়িভাড়া দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার চারজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এখন কারাবন্দী। গত এক মাসের তদন্তে গুলশান ট্র্যাজেডির ঘটনায় জঙ্গী মদদদাতা, পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা, নির্দেশদাতা কারা তা উদ্ঘাটন করেছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি। জঙ্গীদের মদদদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফেঁসে যেতে পারেন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডা প্রবাসী শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খান। জঙ্গীরা ছেড়ে দেয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা। গুলশানের জঙ্গী হামলার ঘটনায় উচ্চশিক্ষিত, বিত্তবান ঘরের সন্তানদের জঙ্গী সংগঠনে যোগদান ও আইএসের প্রতীকী পোশাক কালো পাঞ্জাবি, লাল রুমাল, অস্ত্র হাতে হাসিমুখে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দেয়ার ঘটনায় জঙ্গী তৎপরতার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলায় বিদেশীসহ ২০ জিম্মি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন নিহত হন। অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গীদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশীসহ ২০ জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গীরা। জঙ্গী হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে ইতালির নয়জন হলেনÑ নাদিয়া বেনেদিত্তো, ভিনসেনজো দ আলেস্ত্রো, ক্লদিও মারিয়া দান্তোনা, সিমোনা মন্টি, মারিয়া রিবোলি, আডেলে পুগলিসি, ক্লদিও চাপেলি, ক্রিস্টিয়ান রোসিস ও মারকো তোনডাট। জাপাানের সাতজন হলেনÑ তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো। নিহত সাত জাপানীর মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষাকাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ওই ক্যাফেতে ছিলেন আরও একজন, যাকে পরে উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় একজন হলেন তারিশি জেন। বাংলাদেশী তিনজন হলেনÑ ইশরাত আখন্দ, অবিন্তা কবীর ও ফারাজ হোসেন। বাংলাদেশে নজিরবিহীন এ জঙ্গী হামলার হতাহতের ঘটনার পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এ নিহত হয় ছয় জঙ্গী। গুলশানে জঙ্গী হামলার সাত দিনের মাথায় একই জেএমবির একই গ্রুপের সদস্যরা জঙ্গী হামলা চালায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। তারপর রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গী আস্তানায় অভিযানে নয় জঙ্গী নিহত, এক জঙ্গী গ্রেফতার ও এক জঙ্গী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে জঙ্গীবিরোধী অভিযান চলছে। গুলশানে যৌথবাহিনীর থান্ডারবোল্ট অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষিত ও বিত্তবান ঘরের সন্তানরা। নিহতরা হলোÑ নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্ব¡ল, মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ ও শরীয়তপুরের সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। এছাড়া সন্দেহভাজন জঙ্গী জাকির হোসেন শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ জুলাই হাসপাতালে মারা যায়। এ জঙ্গী হামলার পর জঙ্গীদের সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহসান, ড. গিয়াস উদ্দিনের ভাগ্নে আলম চৌধুরী এবং জঙ্গীদের ভাড়া করা বাড়ির ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান তুহিন ও রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ার জঙ্গীদের ভাড়া দেয়া বাড়ির মালিক মোঃ নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া ছাড়াও গুলশান ট্র্যাজেডির ঘটনার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির কথা জানা যায়নি। তবে উচ্চশিক্ষিত বিত্তবান ঘরের সন্তানরা নিখোঁজ হয়ে জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত হওয়ার কারণে তিন দফায় র‌্যাব ২৬২ জনের নিখোঁজ তালিকা প্রকাশ করে, যা নিয়ে আবার বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত ১ জুলাই কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি করে। ঘটনার রাত পৌনে নয়টায় গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ ও বেকারিতে বন্দুকধারী জঙ্গীরা খদ্দের সেজে ঢুকে পড়ে। চার প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী ॥ জঙ্গী হামলার ঘটনায় হলি আর্টিজান বেকারির হিসাবরক্ষকসহ চার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসাবে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। রবিবার তারা পৃথকভাবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাসুদ জামান, মারুফ হোসেন, সত্যব্রত শিকদার ও সাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরীর কাছে এ জবানবন্দী দেন। জবানবন্দী দেয়া ব্যক্তিরা হলেন-রেস্তরাঁর ক্যাশিয়ার আল আমিন চৌধুরী সিজান, স্টাফ মিরাজ হোসেন, রাসুল মাসুদ ও রাশেদ সরদার। এদিকে কল্যাণপুরের জঙ্গী আস্তানা ‘জাহাজ বিল্ডিং’ বাড়ির মালিক আতাহার উদ্দিন আহমেদের ছেলে মাজহারুল ইসলামসহ ৪ জনকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। নিহত ৯ জঙ্গীর ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি ॥ কল্যাণপুরের ‘জঙ্গী আস্তানায় নিহত ৯ জঙ্গীর ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম এ অনুমতি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম নিহত জঙ্গীদের ডিএনএ পরীক্ষা, প্রোফাইল ও মলমূত্র সংরক্ষণের জন্য পৃথকভাবে তিনটি আবেদন করেন। আদালত ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল সংরক্ষণ করতে সিআইডিকে এবং মলমূত্র সংরক্ষণ করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে নির্দেশ দেয়।