শনিবার ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

হাবিপ্রবির মজার স্কুল

নাম আসমা। বয়স ৯। পোশাকে আশাকে দারিদ্র্যতার স্পষ্ট ছাপ। তবে চোখেমুখে এক ধরনের বুদ্ধির দিপ্তী। বাবা নেই। মা ছুটা কাজ করে হাবিপ্রবির শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ডাইনিংয়ে। প্রায়শ সে মায়ের সঙ্গে মায়ের কর্মস্থল হলের ডাইনিংয়ে আসে। সামর্থ্য না থাকায় মা সালমা তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেনি। আসমার সরলতা ও পড়ার আগ্রহ দেখে ওই হলের ছাত্রী ফারহানা তাকে হাবিপ্রবির মজার স্কুলে ভর্তি করে দেয়। এখন সে মজার স্কুলের নিয়মিত ছাত্রী। পড়ছে তৃতীয় শ্রেণীতে। হাবিব, ফারুক, ফারজানা, পাপিয়া, রুখসানার মতো ১৫০ জন সুবিধা বঞ্চিত ছেলেমেয়ে পড়ছে হাবিপ্রবির মজার স্কুলে। এখন তারা স্বপ্ন দেখছে। পথ শিশুদের এই চোখভরা স্বপ্নকে রাঙিয়ে দিতেই যাত্রা শুরু করেছে হাবিপ্রবি মজার স্কুল। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক উদ্যমী তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ২০১৫ সালের ৯ নবেম্বর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে স্কুলটি হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বপ্নকে রাঙিয়ে তোলার আলোকবর্তিকা।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ও বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হচ্ছে স্কুলটি। এ তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের পকেট খরচ থেকে কিছু অর্থ বাঁচিয়ে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের বই, খাতা, কলম ও টিফিনের জন্য ব্যয় করছে। স্কুলটির শিক্ষক রয়েছে ৪০ জন। শিশু শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয় এখানে। শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাস নেন এই স্কুলে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে পথ শিশুদের ক্লাস। তবে শীতকালে ক্লাসের সময়সূচী কিছুটা এগিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে মজার স্কুলে নিয়ে আসা হয়। হাবিপ্রবি স্কুলে অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেয়া হয়। স্কুল ছুটির পর মজার স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। বঞ্চনার শিকার কোন শিশু একবার মজার স্কুলে এলে আর ফিরতে চায় না। মজার স্কুলে আসা সব শিশু বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম, রাবার, স্কেল, পেন্সিলসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন সরবরাহ করা হয়। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, মজার স্কুল শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিশুদ্ধতার জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার সুযোগও করে দেয়।

মজার স্কুলের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক মোঃ রুবেল হোসেন জানান, আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য সরকার আমাদের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেক ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়ে রয়েছে যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। সামাজিক এই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা মজার স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই।

মমিনুল ইসলাম

শীর্ষ সংবাদ:
করোনা : গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬         ময়মনসিংহে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা ॥ নিহত ৬         ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে’         সামাজিক ন্যায়বিচার সংসদীয় ককাস গঠন         প্রতিদিন ৪০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী টিকা পাবে ॥ মাউশি         পর্যটন দ্বীপ দ্বীপে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৩         গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বেন ১০ শিক্ষার্থী         আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪         আসিয়ান সম্মেলনে দাওয়াত পাচ্ছেন না মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাই         দেশকে বিক্রি করে তো ক্ষমতায় আসব না ॥ প্রধানমন্ত্রী         আমিরাতে গেলেন ৩০৪০৮ প্রবাসী কর্মী         রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর পরিবারকে অন্যত্র স্থানান্তর         ইন্দোনেশিয়ায় নদী পরিচ্ছন্ন করতে গিয়ে ডুবে ১১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু         বাংলাদেশী শিশু বোলারের লেগ স্পিনে মুগ্ধ শচীন টেন্ডুলকার         আশ্বিনেও এত গরম থাকার কারণ         গির্জায় ব্রিটিশ এমপিকে ছুরি মেরে হত্যা ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’॥ যুক্তরাজ্য পুলিশ         রাজধানীতে ইয়াবাসহ আটক ২৬         আইসের সবচেয়ে বড় চালান জব্দ, মূলহোতা গ্রেফতার         ইবির হলে থাকতে পারবে না ভর্তিচ্ছুরা         মাগুরার জগদলে ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় ৪জন নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৪