ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

দৃষ্টিনন্দন কৃষ্ণচূড়া

প্রকৃতির জ্বলন্ত অগ্নিশিখা শখ করে খোঁপায় গোঁজে নারী

প্রকাশিত: ০৫:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০১৬

প্রকৃতির জ্বলন্ত অগ্নিশিখা শখ করে খোঁপায়  গোঁজে নারী

শেখ আব্দুল আওয়াল ॥ ষড়ঋতুর এ দেশে বাংলার বিচিত্র রূপকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে বিভিন্ন ঋতু। গ্রীষ্মের আকাশ ধোঁয়াটে ও পা-ুর। প্রত্যেক ঋতুই তার নিজস্ব সৌন্দর্যে বিদ্যমান। সবুজ শ্যামল গ্রামগুলোতে সব সময় শোভা পায় জানা-অজানা ফুল ও ফল। তেমনি একটি ফুলের নাম কৃষ্ণচূড়া। দোয়েল-কোয়েল প্রভৃতি পাখি মাতিয়ে রাখে প্রকৃতিকে - ছায়ায় বসে ক্লান্ত পথিক দেহ-মনের প্রশান্তি দূর করে। কবি দিজেন্দ্রলাল রায় লিখেছেন ‘রোদ যেন নয় শুধু গন গন ফুলকি/আগুনের ঘোড়া যেন ছুটে চলে দুলকি।’ বাংলার প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখতে ফুলকির মতো। চারদিকে রাস্তাঘাটে রাজপথে কৃষ্ণচূড়া গাছ ও ফুল দেখে মনে হয় যেন গ্রীষ্মে প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। এ ফুল সুন্দরী রমণীরা খোঁপায় বেঁধে আনন্দ পায়। পরিবেশবিদরা বলেন, বাংলার ষড়ঋতুতে বসন্তের গ্রীষ্মে প্রকৃতিতে আগুন লাগে। বসন্তে ফুল ফোটে শিমুল, পলাশ আর কত কি এবং গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া, কামিনী, বেলি, হাসনাহেনা ফুল, উদার আকাশের নিচে সুগন্ধী জমিনে প্রকৃতির মনে আগুন লাগিয়ে দেয়। কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলনিথ রেজিয়া, ইংরেজী নাম ফ্লেইম ট্রি, এই গাছ চমৎকার পত্রপল্লব এবং আগুন- লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফাবাসিয়ী পরিবারের একটি বৃক্ষ। যা গুলমোহর নামেও পরিচিত। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা দর্শকের দৃষ্টিতে অন্যরকম আনন্দ ফুটিয়ে তোলে। এটি মাঝারি আকারের গাছ, সরু ও যৌগিক, ফুল সবৃন্তক ও উভয়লিঙ্গ। টক টকে লাল ও মাঝে হলুদ দাগ, পুষ্প মঞ্জরী বড় আকারের পুষ্পবিন্যাস। বাংলাদেশে ফুল ফোটার সময় এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়িযুক্ত, পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেমি লম্বা। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রীষ্ম, বর্ষায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটলেও বসন্তের গোড়াতেই কৃষ্ণচূড়া ফুল দিগন্ত রাঙিয়ে ওঠে। ময়মনসিংহের গফরগাঁও-ভালুকা সড়ক, গফরগাঁও-ময়মনসিংহ সড়ক, গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক ছাড়াও ডাকবাংলোতে রাস্তার পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ বসন্তের পাশাপাশি এ অঞ্চলে পরিবেশ রাঙিয়ে ওঠে কৃষ্ণচূড়া। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রহিম জানান, আবহাওয়ার কারণেই মূলত কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটতে একটু বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, বর্ষাকাল পর্যন্ত কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুল আসে। কৃষ্ণচূড়া সৌন্দর্যবর্ধক গুণ ছাড়াও এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখলে মনে হয় জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। ইংরেজীতে যথার্থই একে অগ্নিশিখা গাছ বলা হয়ে থাকে। হিন্দীতে একে গুলমোহর নামে ডাকা হয়। যেখানে ‘গুল’ মানে ফুল আর ‘মোহর’ মানে ময়ূর । কৃষ্ণচূড়া ফুলের পাপড়ির সঙ্গে যদি ময়ূরের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে দেখা হয় তবে সহজেই বোঝা যাবে। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, ভিয়েতনাম, ইজিপ্ট, মধ্যপ্রাচ্য, ব্রাজিল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্লোরিডা প্রভৃতি দেশে এটি জন্মে থাকে।