ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

বালিকাবধূ যে প্রশ্ন রেখে চিরবিদায় নিল...

প্রকাশিত: ০৪:১৪, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬

বালিকাবধূ যে প্রশ্ন রেখে চিরবিদায় নিল...

সমুদ্র হক ॥ বগুড়ার গ্রামে অসম বয়সী বরের সঙ্গে বালিকাকে বিয়ে দেয়া এবং যৌতুকের কারণে বালিকাবধূকে কৌশলে হত্যার বিষয়টি সমাজের অঙ্গনে অনেক বড় প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে হন্তারক স্বামীকে গ্রেফতার করতে না পারা এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার পুলিশের চেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ করে পুলিশের ব্যর্থতাকেও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে বগুড়া সদরের নওদাপাড়া কলোনিপাড়ায় বালিকাবধূ রবিনা খাতুনকে হত্যার পর ঘরের সিলিংয়ে গলায় রশি ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বগুড়া সদরের নওদাপাড়া কলোনিপাড়ার কাঠমিস্ত্রি রবিউলের ষোড়শি কন্যা এলাকার হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুবিনা খাতুনের বিয়ে হয় গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর মধ্যকাতুলি গ্রামের আবু তাহেরের সঙ্গে প্রায় আড়াই মাস আগে গেল নবেম্বরের মধ্যভাগে। দেশের প্রচলিত আইনে বাল্যবিয়ে বর কনে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও ঘটকের জন্য দ-নীয় অপরাধ। তার পরও ১৬ বছরের রুবিনার সঙ্গে তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বয়সের আবু তাহেরের বিয়ে হয়। বর কণের এই অসম বয়সী এবং আইনের অপরাধের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেই। বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সরকার নিযুক্ত কাজী সাহেবও বালিকাকে বধূর খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করে দেন। বিয়ের পর হতেই যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে মধ্যবয়সী স্বামী আবু তাহের। যৌতুকের দাবি ৫০ হাজার টাকা। কনের বাবা এই পরিমাণ টাকা দিতে রাজি হন। যৌতুকের টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় কনের মেহেদী রাঙানো হাতে ও পায়ে এবং শরীরে অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। কখনও লাঠি দিয়ে কখনও জিহ্বা (অশ্লীল কথা) দিয়ে এই নির্যাতন চলতেই থাকে। রুবিনার বাবা এসব কথা জেনে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করবে এমন আশ্বাসে ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার মেয়েকে নাইওর নিয়ে আসে নওদাপাড়ায়। পরদিন বুধবার জামাই আবু তাহের রুবিনাকে নিতে আসে। রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে জেগে বাড়ির লোক দেখতে পায় ঘরের দরজা খোলা। ঘরের সিলিংয়ে রশিতে ঝুলে আছে রুবিনার দেহ। দুই হাঁটু নিলডাউন অবস্থার মতো বিছানায়। সহজেই ধারণা করা যায় কোন ভাবে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সকালেই ঘটনাটি জানাজানি হয়। এলাকায় মানুষ বেদনাবিধুর হয়ে দেখে তাদের গাঁয়ের মেয়েকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। জামাই আবু তাহের ঘটনার পরই পালিয়েছে। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এমনই হাজারো বালিকা দেশের কোথাও না কোথাও নিগৃহীত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবন পাতার অনেক খবর অগোচরেই রয়ে যায়। এই রুবিনাদের পাশে এসে দাঁড়াবে কে কে। ফরিদপুরে ৫৭ স্কুল বন্ধ দুই দিন গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ২৩ জানুয়ারি ॥ গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে ফরিদপুরে তিন দিনে দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০৩ জনের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফরিদপুর সদর উপজেলার ৫৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনের জন্য পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে দুটি সরকারী ও ৫৫টি বেসরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ফরিদপুর শহরসহ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এ বিদ্যালয়গুলো অবস্থিত। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র ম-ল জানান, মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নে অবস্থিত শিবরামপুর আরডি একাডেমি ও খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০৩ জন গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। রাজশাহীতে পিস্তলসহ যুবক আটক স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিদেশী পিস্তলসহ আব্দুর রহমান (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, উপজেলার বিজয়নগর এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাত্রীবাহী বাসে থাকা আব্দুর রহমানের পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।