রবিবার ৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

৫ বছরের মধ্যে দেশের সব কর্মক্ষম বেকারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

  • প্রথম ধাপে এক কোটি

এম শাহজাহান ॥ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সকল কর্মক্ষম বেকারের জন্য কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ‘রূপকল্প-২১’ সামনে রেখে এখন কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রথম ধাপে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মধ্য আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জনেও যে কোন দেশের মানবসম্পদের অবস্থানের সূচকটি জাতিসংঘ সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে থাকে। আর তাই এ মুহূর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরিতে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আবার বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেÑ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত উৎসাহিত, প্রশিক্ষিত যুবক, যুব মহিলাদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রচলিত ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীকে সকল জেলায় সম্প্রসারণ, বিদেশে জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং কৃষি ও সেবাখাতে কর্মসংস্থানের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারিত করা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে দারিদ্র্য হ্রাসে সাফল্য আসলেও নতুন কর্মসংস্থান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হচ্ছেÑ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া। এই অঙ্গীকার পূরণ করতে হলে প্রথমেই বেকারত্ব দূর করে দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে কর্মক্ষম প্রতিটি মানুষকে কাজ দিতে হবে। এজন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সবচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে পড়ছে। যদিও চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারী খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট ঘোষণায় জানিয়েছেন, গত ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে দেশের অভ্যন্তরে ১০ লাখ ৩০ হাজার এবং দেশের বাইরে আরও ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি ওই সময়ে প্রকৃত মজুরি বেড়েছে অনেকখানি, যা দারিদ্র্য ও অসমতা হ্রাসে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, রূপকল্পের স্বপ্ন হচ্ছে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন। এজন্য মোটা দাগে সরকারের কৌশল হচ্ছে- অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নয়ন, গণদ্রব্য ও সেবার যোগান বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের সঙ্গে একীভূত হওয়া, উৎপাদন বিশেষায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

সূত্র মতে, দেশে সর্বশেষ শ্রম জরিপ হয়েছে ২০১০ সালে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপ করেছিল। এরপর বেকারত্বের হার বা সংখ্যা নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ-২০১০ এর প্রাথমিক প্রাক্কলিন অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর বয়সের উর্ধে জনসংখ্যা ৯ কোটি ৪৫ লাখ। এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষম জনশক্তি ৫ কোটি ৬২ লাখ। কর্মক্ষম জনশক্তির মধ্যে বর্তমানে কর্মে নিয়োজিত আছে ৫ কোটি ৩৭ লাখ। এরপর বর্তমান দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা ২৬ লাখ। অবশ্য সরকারী সংস্থা বিবিএসের এই তথ্য মানতে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের আপত্তি রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর ওপর এখন প্রতি বছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছেন। সুতরাং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চাপ রয়েছে অর্থনীতির ওপর। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের হার ২ শতাংশ বাড়ানো গেলে প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। আর তাহলেই ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২০১২ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু কাজ পায় মাত্র ৭ লাখ। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত অর্থাৎ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যাঁরা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন, তাঁরাও আছেন। সামগ্রিকভাবে পরিসংখ্যানগুলো বলছে, এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কিছু করার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম মানের কাজ করতে বাধ্য হন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- গত ছয় বছরে কৃষি ও গ্রামীণ খাতে উচ্চমাত্রার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে হতদরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করে গ্রামীণ জনপদে মৌসুমী বেকারত্ব বিদায় করতে সরকার সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত অর্থবছরে ৬ কোটি ১২ লাখ জনমাস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। যা গত অর্থবছরের চেয়ে বেশি।

শীর্ষ সংবাদ:
নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কল কারখানা নয়         তিন বন্দর দিয়ে ভারতে আটকে থাকা পেঁয়াজ আসা শুরু         দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে ॥ কাদের         কওমি বড় হুজুর আল্লামা শফীকে চিরবিদায়         ওষুধ খাতের ব্যবসা রমরমা         করোনার নমুনা পরীক্ষা ১৮ লাখ ছাড়িয়েছে         করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ॥ ফের লকডাউনে যাচ্ছে ইউরোপ         বিশেষ মহলের ইন্ধন-ভাসানচরে যাবে না রোহিঙ্গারা         তুলা উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার         দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু, তিতাসের গ্রেফতার ৮ জন দুদিনের রিমান্ডে         শিক্ষার ক্ষতি পোষাতে বিশেষ প্রকল্প আগামী মাস থেকেই ॥ করোনায় সব লণ্ডভণ্ড         আর কোন জিকে শামীম নয় ॥ গণপূর্তের দৃশ্যপট পাল্টেছে         ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বই অধিকাংশ খুনের কারণ         এ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থার উন্নতি         বর্তমান সরকারের আমলে রেলপথে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে : রেলপথমন্ত্রী         ইউএনও ওয়াহিদা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলী, স্বামী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে         সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল পরিচালকের রুম ঘেরাও         চিরনিদ্রায় শায়িত হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফী         সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি ॥ মির্জা ফখরুল         করোনা ভাইরাস ॥ ভারতে একদিনে ১২৪৭ জনের মৃত্যু