মঙ্গলবার ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

যুদ্ধক্ষেত্রে আতঙ্কের নাম ড্রোন

ড্রোন কেমন হয় ॥ পাইলটবিহীন এ বিমানটি শুধু প্রাণ সংহারের ভূমিকায়ই কাজ করে না। কাজের ভিত্তিতে এ বিমানকে ভাগ করা হয়েছে বিভিন্ন ভাগে। টার্গেট বিমান, গোয়েন্দা বিমান, কমব্যাট বিমান, পরিবহন বিমান ইত্যাদি। গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে মানুষ্যবিহীন এই ছোট বিমান কাজ করতে পারে যে কোন প্রতিকূলতা সামলে ।

ড্রোন কী ॥ বিমানবাহিনীর আধুনিকতম সংযোজন হলো মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান ড্রোন। এ বিমান চালাতে কোন পাইলট বা ক্রু লাগে না। কম্পিউটারের সাহায্যে দূরনিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কখনও কখনও পাশাপাশি উড়তে থাকা কোন বিমান থেকেও এটিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ড্রোনে সংবেদনশীল যন্ত্র ও ক্যামেরা থাকে। ওই ক্যামেরার মাধ্যমে গৃহীত ভিডিওচিত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায় ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী অপারেটরের কাছে। অপারেটরের পাঠানো নির্দেশনাও একইভাবে চলে যায় ড্রোনে। আর এতে সময় নেয় মাত্র ২ সেকেন্ড।

আকাশসীমায় গুপ্তচরবৃত্তি চালানো, নিজ দেশের আকাশসীমা পাহারা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, শত্রুদের বেতার ও রাডার সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটানো, আড়ি পেতে তথ্য যোগাড় করা, বায়ুদূষণের মাত্রা নির্ণয়, জাহাজ, নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণের কাজে এমনকি আগুন নেভানোর কাজেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। শত্রু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ দারুণ সব কাজ করে ড্রোন। যুদ্ধে পাইলটের মৃত্যুঝুঁকি না থাকায় যে কোন পরিস্থিতিতে এ বিমান ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া এরা একটানা আকাশে থাকতে পারে ৩০ ঘণ্টা।

ঘুটঘুটে অন্ধকারেও কাজ চালিয়ে নিতে পারে। কুয়াশা বা মেঘের মধ্যেও সঠিকভাবে টার্গেট স্ক্যান করে তথ্য পাঠায়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে এর চাহিদা বাড়ছে ব্যাপকভাবে ।

ড্রোন আবিষ্কারের ইতিহাস ॥ ১৯৫৯ সালে মার্কিন বিমানবাহিনী প্রথম ড্রোন তৈরির কাজ হাতে নেয়। ১৯৬৪ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে টনকিন উপসাগরে প্রথম ড্রোনের ব্যবহার করা হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কিছু না জানালেও, ১৯৭৩ সালে স্বীকার করে ড্রোন ব্যবহারের কথা। সেই থেকে এর ব্যবহার চলছে। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে সিরীয় মিসাইল ব্যাটারি যখন একের পর এক ইসরাইলী বিমান ধ্বংস করে নাজেহাল করে দিচ্ছে, তখনই এ ড্রোন গোয়েন্দাগিরি করে সিরীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করে তাদের রক্ষা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৮২ সালে লেবানন যুদ্ধেও ইসরাইলের হয়ে মার্কিন সেনাবাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী আরও বেশি মাত্রায় ব্যবহার করে এ পাইলটবিহীন বিমান। ২০০১ সালে শুরু করে আফগানিস্তান যুদ্ধ, যা এখনও চলছে। আর আফগানিস্তানের পর্বতসঙ্কুল দুর্গম গিরিপথে তালেবানদের ওপর নিখুঁত নিশানা চালিয়ে তাদের ধ্বংস করে ছাড়ছে ড্রোন। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধেও ব্যবহার হয়েছিল ড্রোন।

আকার ও আকৃতিতে মনুষ্যবিহীন এ বিমান বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোটগুলো মাত্র কয়েক পাউন্ড ওজনের খেলনা বিমানের সমান। আবার বড়গুলো বোয়িং বিমানের কাছাকাছি। ওজন ৪০ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি। কিছু কিছু আছে কৌশলগত আবার, কিছু হাইপারসনিক ড্রোন। শব্দের চেয়ে দশ গুণ বেশি দ্রুত গতিতে ড্রোন ছুটতে পারে।

ঘুরতে পারে মহাকাশের কক্ষপথেও। সামরিক কাজে ব্যবহার করা ড্রোনগুলোর পাইলট না থাকায় ককপিট, অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্যারাসুটের দরকার পড়ে না। তাই ইচ্ছেমতো গোলাবারুদ, মিসাইল ইত্যাদি বহন করতে পারে। একেকটি ড্রোনে থাকে আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, এন্টি ট্যাংক মিসাইল।

সামরিক কাজের জন্য ড্রোন তৈরি হলেও এখন বিপুলভাবে বেসামরিক কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০টি কোম্পানি ড্রোন তৈরি করছে। প্রায় দেড়শটি মডেলের ড্রোন তৈরি হচ্ছে যুক্তরাষ্টে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইরান ঘোষণা দিয়ে ড্রোন তৈরি করছে। অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ছে চালকবিহীন এ বিমানের চাহিদা। বাংলাদেশেও ড্রোনের পরীক্ষামূলক গবেষণা শুরু হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
সাহেদের যাবজ্জীবন ॥ আড়াই মাসেই অস্ত্র মামলায় রায়         আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন         বেসরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইনের খসড়া অনুমোদন         এ পর্যন্ত ৭ জন গ্রেফতার ৩ জন রিমান্ডে বিক্ষোভ, সমাবেশ         বিদেশী ঋণে জর্জরিত ঢাকা ওয়াসা         সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে মাহবুবে আলমকে শেষ শ্রদ্ধা         দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে         দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না সৌদি প্রবাসীদের         মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ৯ লাখ ঘর দেবে সরকার         তদারকির অভাব নৌ যোগাযোগ খাতে         আজন্ম উন্নয়ন যোদ্ধার অপর নাম শেখ হাসিনা ॥ কাদের         অসময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে কৃষক         মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল ভূমি জোনিং ম্যাপ হচ্ছে         শেখ হাসিনার জন্মদিনে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত         নবেম্বরে আসতে পারে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী         শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করুন ॥ স্পিকার         কর্মের মধ্য দিয়ে দলের চেয়ে অধিক জনপ্রিয় শেখ হাসিনা ॥ কাদের         এমসি কলেজে ধর্ষণ ॥ সাইফুর, অর্জুন ও রবিউল রিমান্ডে         ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ উপনির্বাচন ১২ নবেম্বর         শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলতে চাইলে মত দেবে মন্ত্রিসভা