ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

ভূরুঙ্গামারীতে বিপুল পরিমাণ ভিজিএফের চাল উদ্ধার, মালিক পলাতক

এফ কে আশিক, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৯ মার্চ ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে বিপুল পরিমাণ ভিজিএফের চাল উদ্ধার, মালিক পলাতক

ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ব্যবসায়ীদের তিনটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল উদ্ধার ঘিরে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া চাল ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ছিল।

বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা প্রথমে গুদামগুলোতে চালের মজুদের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া চাল স্থানীয় ব্যবসায়ী ছমের আলী, রবিউল ইসলাম ও সোনাউল্ল্যা মিয়ার গুদামঘর থেকে পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহরযুক্ত ৩০ কেজির বস্তার পাশাপাশি কিছু স্থানীয় বস্তায়ও চাল মজুদ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৭০০ থেকে ৮০০ বস্তায় প্রায় ২০ মেট্রিক টন চাল সেখানে রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভিজিএফের জন্য বরাদ্দ চাল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এসব চাল পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে পাইকাররা ইউনিয়ন পরিষদের গুদাম থেকে চাল এনে নিজেদের গুদামে মজুদ করেন। এতে অনেক দরিদ্র মানুষ চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ৬৪ টন ৫৩০ কেজি ভিজিএফ চাল শতভাগ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চাল কোথা থেকে এসেছে, তা তাঁর জানা নেই।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, উদ্ধার হওয়া চাল সরকারি। কয়েকটি গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গুদামের মালিকরা পালিয়ে যান। আপাতত চালগুলো পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.কে

×