খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের পুতলাখালী গ্রামে পুলিশের এসআই চিন্ময় মন্ডলের মা, ভারতী মন্ডল (৫৫)-এর হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পার হলেও রহস্য উন্মোচনে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। গত শনিবার গভীর রাতে পাকা বসতঘরে একা ঘুমোয়ালীন সময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হওয়া ভারতী মন্ডলের লাশ বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে পরিবারের সদস্যরা ভারতী মন্ডলকে দেখতে না পেয়ে তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান নিহতের ভাই সুকুমার মনি। এরপর পুকুরে ভাসমান লাশ দেখে পুরো এলাকা চাঞ্চল্যে মুখরিত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ঘাতকরা ভারতী মন্ডলের ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো করে এবং কয়েক ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুট করার চেষ্টা করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ভিকটিম তাদের চিনে ফেলায় তারা তার ওপর আক্রমণ চালায় এবং শেষ পর্যন্ত লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যায়। বিএনপি নেতা ইব্রাহিম গাজী বলেন, “ভারতী মন্ডল সবসময় স্বর্ণালংকার পরতেন। তার ঘরের তছনছ অবস্থা হত্যাকাণ্ডকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।”
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, “আমরা স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে।”
নিহতের স্বামী প্রভাস মন্ডল দীর্ঘদিন আগে ধর্মান্তরিত হয়ে পৌর সদরে বসবাস করছেন। ফলে ভারতী মন্ডল প্রায় একাই থাকতেন। অন্যদিকে, জমি বা পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির মনোমালিন্যও ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থানীয়রা পুলিশের প্রতি আস্থা রাখলেও দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও শাস্তি দেওয়ার দাবি করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখছে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। ৭২ ঘণ্টা পার হলেও পাইকগাছায় শোক ও প্রশ্নের ছায়া এখনও কাটেনি।
রাজু








