খেতে ফসলের পরিচর্যা করছেন কৃষক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলে সময়মতো সার দিতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি জেলায় সারের কোনো সংকট নেই।
কৃষকদের অভিযোগ, এ জেলায় প্রায় সারা বছরই লেগে থাকে সারের সংকট। বোরো মৌসুম এলে এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ডিলার পর্যায়ে সার না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ফলে খুচরা বাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।
প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে জেলার শিবগঞ্জের কালপুর এলাকার কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পাচ্ছি না। সরকারিভাবেও কোনো সহযোগিতাও পাই না। খুচরা দোকানে গেলে সারের দাম অনেক বেশি। ডিলারের কাছে গেলে আমাকে দেয় মাত্র ১০ কেজি, যেখানে আমার চাহিদা ৫০ কেজি। যদিও কখনো চাহিদার কাছাকাছি সার পাওয়া যায় তবে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে অনেক ঘুরতে হয় ডিলারের দ্বারে দ্বারে। এমতাবস্থায় আমরা চাষ কিভাবে করব?
একই এলাকার আরেক কৃষক তারেক রহমান বলেন, মৌসুমভেদে যে যে সার প্রয়োজন হয় তা আমরা সময়মতো পাই না। এমনও হয় যে, আমরা চাচ্ছি ডিএপি সার, কিন্তু আমাদের দিচ্ছে ইউরিয়া সার। এছাড়াও যেখানে প্রয়োজন ৫ বস্তা সার সেখানে দিচ্ছে মাত্র ১ বস্তা।
জানা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে ডিএপি সারের। এতেই সুযোগ নিচ্ছেন কিছু খুচরা বিক্রেতা। কৃষকদের অভিযোগ, এসব খুচরা বিক্রেতাই কৃত্রিম সার সংকটের সঙ্গে জড়িত।
জেলার ভাঙাব্রিজ এলাকার স্ট্রবেরি চাষি আব্দুল বারি জানান, আমাদের জমিতে সারের প্রয়োজন হলে ডিলারের কাছে যেতে হয়। কিন্তু সেখানে গেলে ৫ কেজির ওপরে সার দেয় না। কিন্তু খুচরা দোকানে গেলে ঠিকই ৫০-১০০ কেজি সার পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে তাদের কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিতে হয়।
সার ডিলারদের ভাষ্যমতে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই বরাদ্দকৃত সারের মজুদ শেষ হয়ে যায়। সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিত তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে সমন্বয়ের দাবি ডিলারদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএডিসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল আব্দুল্লাহ জানান, এখানে গুদাম থাকলে সঠিক সময়ে সার সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু যশোর থেকে এখানকার ডিলারদের সার পাওয়ার সিরিয়াল পেতেই অনেক দেরি হয়ে যায়। প্রায়ই মাসের মাঝামাঝিতে সার পাওয়া যায়। সার দেরিতে পাওয়ার জন্য ফসলের পিক আওয়ার শেষ হয়ে যায়। এ কারণেই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মাঠে যেসব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন তারাও যেন ডিলার পয়েন্ট থেকে প্রকৃত কৃষকের মাঝে যার যতটুক প্রয়োজন সেটুকু সার তারা সরবরাহ করে।
এমন উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি। যে কৃষকের প্রয়োজন তাকেই আমরা সার দেওয়ার চেষ্টা করছি। যার দরকার নেই তাকে পরে নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। তখন যারা সার পাচ্ছেন না তারা সংকটের কথা বলতে পারেন।
প্যানেল হু








