ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ভূমিকম্প মোকাবেলায় একেবারেই অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ভূমিকম্প মোকাবেলায় একেবারেই অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

দেশের বিভিন্ন এলাকা ভূতাত্ত্বিকভাবে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প কখন হবে তা আগে থেকে বলা যায় না। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি মোকাবিলায় তাই পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু  ভূমিকম্প মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একেবারেই অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ভূমিকম্প বিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। 'ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়' শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে এডাব (অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ) এবং বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)

এডাবের চেয়ারপারসন আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও এডাব পরিচালক একেএম জসীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। ভূমিকম্পের কারিগরী বিষয়ের ওপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক পরিচালক (অপারেশন) মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) শাকিল নেওয়াজ। 

অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান, অপরাজেয় বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার ও সমাজকর্মী ওয়াহিদা বানু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় বাংলাদেশ একেবারেই অপ্রস্তুত। ভবন নির্মান বিধিমালা অনুসরণ না করে বহুতল ভবন নির্মাণ, কাঁচ দিয়ে ভবন তৈরি, অধিক ঘনবসতি, পানির স্তর নেমে যাওয়া, ভবনে বিকল্প বর্হিগমন পথ না থাকা, নরম পলিমাটিতে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ, দুর্নীতি, মানুষের ভূমিকম্প সম্পর্কে অসচেতনতা, কুসংস্কার ইত্যাদি বিষয়গুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

আলোচকরা বলেন, বড় ভূমিকম্পে গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরে ১০ লাখের বেশি ভবন ধ্বসে পড়তে পারে এবং তিন ভাগের দুইভাগ লোক মারা যেতে পারে।

মরদেহ সরাতে, আহতদের হাসপাতালে নিতে, উদ্ধারকার্য সম্পাদনের জন্য জরুরি ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল। হাসপাতালে ডাক্তার ও রোগীসহ সবাই মারা যেতে পারে। গ্যাস ও পানির লাইন ফেটে যেতে পারে, বিদ্যুৎ সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করবে না। অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়তে পারে। ভবন ধ্বসে রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হবে।

এতে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসতে পারবে না। 

ভূমিকম্পের ভয়বহতা থেকে বাঁচতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, ভূমিকম্পের আগে, ভূমিকম্পের সময়ে ও ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে করণীয় বিষয়ে ব্যক্তিগত পারিবারিক, কমিউনিটি, আঞ্চলিক ও রাষ্ট্রীয়  জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করে সমন্বিতভাবে সরকার ও জনগণকে কাজ করতে হবে। ভূমিকম্প প্রাকৃতিক হলেও ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর কারণ অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্ট। এগুলোর সমাধান করতে দরকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

মিমিয়া

×