ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

বরগুনা-১

শক্ত ঘাঁটি আওয়ামী লীগের বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

মোস্তফা কাদের ও মো. হোসাইন আলী কাজী, বরগুনা থেকে

প্রকাশিত: ২৩:৫৭, ৮ জুন ২০২৩

শক্ত ঘাঁটি আওয়ামী লীগের বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা বরগুনা

দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা বরগুনা। দক্ষিণাঞ্চলের এ জেলা সাগর দুহিতা নামে পরিচিত। বরগুনা-১ আসন তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্ত নদী পায়রা এই আসনকে দু’ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। পায়রা নদীর পশ্চিমে বরগুনা সদর উপজেলা এবং নদীর পূর্বে আমতলী ও তালতলী উপজেলা। এ জেলায় রয়েছে ছয়টি উপজেলা। সংসদীয় আসন দুটি। বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসন। ২০০৮ সালের পূর্বে এখানে সংসদীয় আসন ছিল তিনটি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে বরগুনা-৩ আসনে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 
এ আসনের দক্ষিণের উপজেলা বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলীতে রয়েছে সোনা দ্বীপ, টেংড়াগিরি বনাঞ্চল ও ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সৈকত, কুমিরমার, রাখাইন পল্লী, সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম, সোনা দ্বীপের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দ্বীপের নামকরণ করেন সোনা দ্বীপ। এ জনপদের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি ও মৎস্য। সাগর-নদীর মাছ এবং কৃষিপণ্যের মাধ্যমে এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা আবর্তিত হয়। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এ অঞ্চল। এ এলাকার পর্যটন ও মৎস্য শিল্পের তেমন বিকাশ ঘটেনি। 
১৯৯১ সালে এখান থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এরপর ১৯৯৬ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর পুনরায় ২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ সাল পর্যন্ত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এ আসন থেকে বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান তালুকদার ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে হেরে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার পরে উপনির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর এ আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
বঙ্গোপসাগরের মোহনা এবং পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত বরগুনা-১ আসনটি বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে বেশিরভাগ সময় এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনটিতে কে কোন দলের প্রার্থী হবেন, কাকে কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ শুরু করে দিয়েছেন। এলাকাটি কৃষিনির্ভর হলেও এ আসনের ভোটাররা বরাবরই রাজনৈতিক সচেতন। গত ২৫ বছরে এই নির্বাচনী এলাকার সার্বিক চিত্রও পাল্টে গেছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় এই নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাটসহ জীবনমানের ধরনও বদলে গেছে। 
আওয়ামী লীগ পর পর পাঁচবার এই আসন থেকে বিজয় লাভ করে। আগামী নির্বাচনেও এই বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ করছে ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপিও আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচনেও আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছেন। অপরদিকে বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থী সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার এ আসন থেকে একবার নির্বাচিত হন। তারও রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে এ দুজন প্রার্থী হলে নির্বাচনী মাঠ বেশ গরম হবে বলে মনে করেন এখানকার ভোটাররা।
নিবার্চনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে বাড়িয়ে দিয়েছে যোগাযোগ। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ যেমন প্রস্তুত, তেমনি প্রকাশ্যে না হলেও দলের অভ্যন্তরে বিএনপিও বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যদিও মনোনয়নকে সামনে রেখে বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত। টানা পঞ্চমবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আসনটিতে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। তবে বিএনপিও চাচ্ছে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। 

তবে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মনোনয়ন ঘিরে চলছে প্রকাশ্যে কোন্দল। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে আসছে। আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত এ আসনটি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত, দখল করতে মরিয়া বিএনপি। কিন্তু বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে নেই। তারা দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। জাতীয় পার্টি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছয়জন, বিএনপির তিনজন  এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থী রয়েছেন।
বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন- বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক উপমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তরুণ নেতা গোলাম সরোয়ার টুকু, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট গাজী মো. শাহ আলম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক, বরগুনা জেলা কৃষক অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি মো. মশিউর রহমান শিহাব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসন সাবেক বরগুনাÑ৩ (আমতলী-তালতলী) থেকে ২০০১ ও ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মো. গোলাম সরোয়ার ফোরকান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. খলিলুর রহমান।
এদিকে, বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী বরগুনাÑ৩ (আমতলী-তালতলী) সাবেক সংসদ সদস্য, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা। এ দুজনই একই পরিবারের লোক। জাতীয় পার্টি থেকে একমাত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি শাহজাহান মানছুর। 
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পাঁচবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন। তিনি বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের বারবার নির্বাচিত সভাপতি। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের উপমন্ত্রী ছিলেন। এ সময় বরগুনায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়। যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে। তিনি সর্বদা মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেন। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও রয়েছে তার গভীর সখ্য। তিনি মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে বিগত দিনের মতো তিনি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
বরগুনা-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু  বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। বরগুনার জনগণকে একত্রিত করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত করেছি। আমার ওপরে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রেখে যতবার সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, বরগুনার জনগণ তার প্রতিদান হিসেবে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আশা করি, আগামী নির্বাচনেও দল আমার ওপরে আস্থা রাখবে। একই সঙ্গে বরগুনার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করে যেতে পারব।
মনোনয়নপ্রত্যাশী বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এখন বরগুনার উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন দরকার। দলের কাছে বিগত দিনেও মনোনয়ন চেয়েছি, এবারও চাইব। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মো. গোলাম সরোয়ার ফোরকান বলেন, ২০০১ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে নির্বাচন করি। ওই সময় চারদলীয় জোট সরকার প্রভাব খাটিয়ে আমাকে হারিয়ে দেয়।

২০০৬ সালে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ড আমাকে আবারও মনোনয়ন দেয়। কিন্তু ওই নির্বাচন হয়নি। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে আমতলী-তালতলীর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। অবহেলিত আমতলী-তালতলীর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। এ জনপদের উন্নয়নের লক্ষ্যে আশা করি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন।
অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, বরগুনার মাটি ও মানুষের হৃদয়জুড়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা। এ জন্য প্রত্যেকটি নির্বাচনে এখানকার মানুষ আওয়ামী লীগকে নির্দ্বিধায় ভোট দিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে এখানে যিনি দীর্ঘদিন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা এখন পরিবর্তন চায়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করব।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন অ্যাডভোকেট গাজী মো. শাহ আলম জনকণ্ঠকে জানান, বরগুনা-১ আসনে তিনটি উপজেলা। আমতলী ও তালতলী উপজেলা পায়রা নদীর পূর্ব পাড়ে। বরগুনা সদর উপজেলা নদীর পশ্চিম পাড়ে। প্রতিবার মনোনয়নে আমতলী-তালতলী উপজেলাবাসী বঞ্চিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার অবশ্যই এই এলাকার মানুষকে মূল্যায়ন করবে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, আমি বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলীতে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ড আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশা রাখি। আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ।
মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক, বরগুনা জেলা কৃষক অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি মো. মশিউর রহমান শিহাব বলেন, আমি বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলীতে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মনোনয়ন বোর্ড আমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশা রাখি। আমাকে মনোনয়ন দিলে জনগণের বিপুল ভোটে  নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে বিএনপি করে আসছি। বরগুনার বিএনপিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, আগামী নির্বাচনে এ আসন উদ্ধার করতে বিএনপির আমাকে মনোনয়ন দেবে। দলের মনোনয়ন পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ জনগণের ভোটে বিজয় লাভ করে এ আসনটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারব।
অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, সারাজীবন বিএনপির রাজনীতি করে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। শেষ বয়সে এসে দলের কাছে মনোনয়ন ছাড়া আর কি চাওয়ার থাকতে পারে? আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আশা করি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। 
মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন, বিগত ২০০১ সালে বরগুনা-৩ আসন থেকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে হেরেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদীয় আসন ছেড়ে দেওয়ার পরে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। সে সময় আমতলী ও তালতলীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ওই উন্নয়নের পরে আমতলী-তালতলীর কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমার রেখে যাওয়া কাজই উল্টে-পাল্টে করেছে বর্তমান সরকারের লোকজন। দল থেকে মনোনয়ন পেলে কর্মী-সমর্থক ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারবও বলে আশা করি।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরগুনা জেলা সভাপতি শাহজাহান মানছুর বলেন, কেন্দ্র আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করব।

×