ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

সড়ক যেন খাল, জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল

প্রকাশিত: ২১:২২, ২৯ মার্চ ২০২৩

সড়ক যেন খাল, জনদুর্ভোগ চরমে

সড়ক

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার হয়ে লোচনাবাদ সড়কে এক কিলোমিটার সড়কটিতে বিভিন্ন স্থানে পানি থই থই করছে। যেন সড়কটির দিক তাকালেই মনে হয় খাল। বিকল্প সড়ক না থাকায় ৩ গ্রামের হাজার হাজার পরিবার এ পথ দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও এ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।

কালিগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্র থেকে ফালাঘর গ্রাম হয়ে কালীগঞ্জ টু লোচনাবাদ সড়কের ১ কিলোমিটার অংশে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সড়কে পানি জমে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের ৫ মাস শেষ হলেও জন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। 

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ১ কিলোমিটার ইট সোলিং রাস্তাটি কার্পেটিং করতে কার্যাদেশ পায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার ইব্রাহিম হাওলাদার এর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল নাফি এন্টারপ্রাইজ। ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ শেষের মেয়াদ ছিল গত ১ জানুয়ারি। সড়কটির সোলিং ইট উঠিয়ে ১ কিলোমিটার খোঁড়া হলেও এখন পর্যন্ত বালি ভরাট করা হয়নি। পাঁচ মাস ধরে এ অবস্থায় রয়েছে সড়কটি।

২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) সরেজমিনে দেখা যায়, কালিগঞ্জ ছোফরোন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বজলুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্ট আলফ্রেড হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা সড়কটিতে হাঁটু পানি ভেঙে পার হচ্ছে। জামা-কাপড় ও বইপত্র কাদাপানিতে ভিজে একাকার। অনেক অভিভাবক শিশুকে কোলে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন মালামাল পরিবহন করছেন মাথায় করে। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটির কোনো বিকল্প নেই। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ পথেই চলতে হয়। ফালাঘর, লোচনাবাদ, কাফিলা গ্রামের হাজার হাজার পরিবারের যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র পথ। এসব এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য কালিগঞ্জ হাটে নিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা। এ ছাড়া এই পথ ব্যবহার করেই যেতে হয় কালিগঞ্জ সহ উপজেলা শহরে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃষ্টির দিন এখনো শুরুই হয়নি এর মধ্যেই সড়কের মধ্যে হাটু সমান পানি। বর্ষা মৌসুম এলে এই সড়ক দিয়ে নৌকা চলাচল করতে হবে। মোদের এলাকার ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবেনা। এখন মোড়া বাজারে মালামালও মাথায় করে নিচ্ছি। মোগো ছাগল-গরু বাড়ি থেকে বাইর করতে পারছি না। রাস্তার জন্য কি যে দুর্ভোগ তা মোড়া ছাড়া কেউ বুঝেন। মোড়া এই পরিস্থিতির মধ্যে আছি কেউ খবর লয় না।

সড়ক না খাল? 
স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়ে কালিগঞ্জ বাজারের স্বপন জোমাদ্দার বলেন, সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ায় জরুরি রোগী বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  কিংবা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা করাতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন স্থানীয়রা।  

এ বিষয়ে লোচনাবাদ এলাকার কৃষক বারেক আলী বলেন, সড়কে পানি জমে সড়কটি ভেঙে ও গর্ত হয়ে এখন মরণ ফাঁদে রূপ নিয়েছে। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়া অনেক কষ্টের বিষয়। সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। কালিগঞ্জ সাপ্তাহিক হাট বৃহস্পতিবার এলে আমাদের এলাকার শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য কালিগঞ্জ বাজারে নিয়ে বিক্রি করে। রাস্তার এমন পরিস্থিতিতে হাট-বাজার করা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।  আগামী বর্ষার আগে সড়কের সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে স্থানীয়দের ভোগান্তি লাঘবের দাবি জানান তিনি।

ঠিকাদার ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, কাজটি এলাকার কিছু লোকজনের জন্যই আটকে রয়েছে। একাধিক ড্রেজার মালিকদের সাথে কথা বলেছি। এই এলাকায় কেউ বালু দিতে চায় না। কারণ কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় তিন-চারটে সিন্ডিকেট রয়েছে তাদেরকে চাঁদা না দিলে কোন ড্রেজার মালিক এইখানে বালু ফালাইতে পারে না। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান বশির শিকদারের সাথে কথা বলেছি। চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একটি ড্রেজার বসিয়ে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছি।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, কার্পেটিং করতে ওই রাস্তা খুঁড়ে রাখায় এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক চেষ্টা করেও ঠিকাদারকে দিয়ে কোনোভাবেই কাজ করানো যাচ্ছে না। কেন কাজ করছেন না তাও বুঝতে পারছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এমএস

×