ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

আমদানির পণ্যবাহী জাহাজ আগমন কমেছে 

কন্টেনার হ্যান্ডলিং হ্রাস ফাঁকা থাকছে জেটি

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ২৪ মার্চ ২০২৩

কন্টেনার হ্যান্ডলিং হ্রাস ফাঁকা থাকছে জেটি

দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর

দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। জাতীয় অর্থনীতির প্রবাহিনী শিরা হিসেবে খ্যাত। এ বন্দরে এখন আমদানি পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ছে বহির্নোঙ্গরে আসার পর পরই। এ বন্দরে অতীতে পণ্যবাহী জাহাজকে জেটিতে ভেড়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হতো। প্রায়শ জেটি খালি পাওয়া ছিল কঠিন। ফলে বার্থিং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব। সৃষ্টি হতো জাহাজজট। জাহাজ জটের কারণে মাশুল গুনতে হতো জাহাজ মালিকদের। বর্তমানে সে চিত্র পাল্টে গেছে। এখন উল্টো খালি জেটিকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে জাহাজের জন্য।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ^ব্যাপী সৃষ্ট মন্দাভাব, দ্বিতীয়ত, দেশে ডলার সংকট, তৃতীয়ত, বিলাসী দ্রব্য এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তা নেই এমন পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি ইত্যাদির কারণে এ বন্দরে জাহাজের আগমন হ্রাস পেয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের গতি মন্থর হওয়াও অন্যতম প্রধান কারণ। বর্তমানে এ বন্দরে পরিপূর্ণ অপারেশনে রয়েছে সিসিটি (চিটাগং কন্টেনার টার্মিনাল), এনসিটি (নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল) ও জিসিবি (জেনারেল কার্গো বাথ)। আর খাদ্যপণ্য নিয়ে অপারেশনে রয়েছে পিসিটি (পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল)। এসব টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা পণ্যের খালাস কার্যক্রম চলে আসছে। 
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, বাল্ক পণ্যের আমদানি কমেনি। তবে কমেছে কন্টেনারজাত পণ্যের আমদানি। তিনি জানান, এতে করে বন্দরে সার্বিকভাবে আমদানি পণ্যের খালাস যেমন কমেছে, তেমনি তুলনামূলকভাবে আয়ও কিছুটা কমেছে। তবে এ মুহূর্তে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বন্দরে বর্তমানে কন্টেনার ধারণক্ষমতা ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউএস (টুয়েন্টি ইকুয়েভেলেন্ট ইউনিটস)।

পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বুধবার পর্যন্ত এ বন্দরের ইয়ার্ডসমূহে রয়েছে ৩১ হাজার ৫৮৯ টিইইউএস কন্টেনার। সে অনুযায়ী ৩৭ শতাংশ ইয়ার্ড খালি পড়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৬ হাজার ৭৬ টিইইউএস। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৮১ টিইইউএস কন্টেনার বিভিন্ন জাহাজ থেকে খালাস করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ২৬৫ টিইইউএস কন্টেনার বন্দরের ইয়ার্ডসমূহে আনা হয়েছে। এরমধ্যে জাহাজ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৮১ টিইইউএস কন্টেনার।

ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে আন াহয়েছে ১৩৩ টিইইউএস কন্টেনার। আর বিভিন্ন বেসরকারি ডিপো থেকে লোড কন্টেনার আনা হয়েছে ১ হাজার ১৭০ এবং খালি কন্টেনার হয়েছে ১ হাজার ২১৪ টিইইউএস। অপরদিকে, একই সময়ে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে ডেলিভারি হয়েছে ৮ হাজার ৭৪৮ এবং এর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৩ টিইইউএস কন্টেনার জাহাজীকরণ করা হয়েছে। কমলাপুর আইসিডি থেকে গেছে ১৪৮, বিভিন্ন বেসরকারি ডিপোতে লোড কন্টেনার গেছে ২৪৮ এবং খালি কন্টেনার গেছে ৭০ টিইইউএস।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজের বার্থিং কমায় ১৮টি জেটির মধ্যে গড়ে ৫টি খালি থাকছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩৩৬ ও ৩৪১টি জাহাজের বার্থিং হয়েছে। সেখানে চলতি মাসে বুধবার পর্যন্ত ২২ দিনে জাহাজ বার্থিং হয়েছে ২২৯টি। বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি মন্থরতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আগমন ক্রমাগতভাবে কমছে। পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় এ বন্দরের পরিচালনা কার্যক্রমের বিষয়টি দৃশ্যমান হচ্ছে।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব জনকণ্ঠকে জানান, ভোগ্যপণ্যবাহী জাহাজের বার্থিং ও কন্টেনার খালাস কাজ পূর্বের মতো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু রাখা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বন্দরে বছরে জাহাজ আগমনের গড়সংখ্যা ৪ সহ¯্রাধিক। বর্তমানে তা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি জাহাজ আগমন কমে গেছে। চলতি বছরের শেষে এ সংখ্যা আরও কমতে পারে বলে বন্দর সূত্রের ধারণা। 
এদিকে বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, পণ্য আমদানিতে ব্যাংকে এলসি কমে যাওয়ায় এ বন্দরে জাহাজ আগমন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বহির্নোঙ্গরে জাহাজের কোনো জট নেই। দিনে দিনে জাহাজ বার্থিং পাচ্ছে।

×