ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পায়ে হেঁটে ভারতের মৃণাল কেশবপুরে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পায়ে হেঁটে ভারতের মৃণাল কেশবপুরে

মৃণাল দাস

৫২-র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য ভারত থেকে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে এসেছেন মৃণাল দাস (৫৫)। বায়ো সাইন্সে লেখাপড়া করা এ ‘চিরকুমার’ পায়ে হেঁটে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ঢাকায় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

মৃণাল দাস জানান, তিনি গত ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার লেক গার্ডেন থেকে রওনা হয়ে পায়ে হেঁটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে হেঁটে বাংলা ভাষার অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে আসেন। সেখানে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মহাকবির স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ পারের বিদায় ঘাট, বুড়ো কাঠবাদাম গাছ তলা, জমিদার বাড়ির আম্রকাননসহ মধুপল্লী ঘুরে গত শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাবে আসেন। 

তিনি জানান, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ভারত থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ঢাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগরতলায় পৌঁছে পদযাত্রা শেষ করবেন। 
মৃণাল দাস আরও জানান, বাংলা ভাষী মানুষ হিসেবে তিনি নিজে গর্ববোধ করেন। সুর ও ভাষার মেলবন্ধন বৃদ্ধির জন্য পিঠের ব্যাগের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা নিয়ে তার এ একক পদযাত্রা। 

তিনি ১৯৮৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র কলেজ থেকে বায়ো সাইন্স নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। মৃণাল দাস ভারতের পশ্চিম বাংলার হুগলী জেলার চুঁচুড়া শহরের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত অরুণ কৃষ্ণ দাস ও মা মৃত সুমিতা দাস। ব্যক্তি জীবনে তিনি চিরকুমার। তিন ভাই ও বৌদিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি থাকেন। 

এর আগে ২০১৯ সালে তিনি একবার বাইসাইকেলে বাংলাদেশে আসেন। এবার তিনি পায়ে হেঁটে এ দেশে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছেন। পায়ে হেঁটে চলার সময় সাগরদাঁড়িবাসীসহ কেশবপুরের মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান।

এমএইচ

×