ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য

প্রকাশিত: ২৩:১২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য

এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়ার দৃশ্য।

নওগাঁর বদলগাছীতে দলীয় সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরীর মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়েছেন ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার। 

এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার উত্তেজিত স্বরে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর একই সারিতে বসে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আকরাম হোসেন চৌধুরীর সামনে টেবিলে থাকা মাইক্রোফোন ফেলে দেন ছলিম উদ্দীন তরফদার। 


এ সময় তিনি আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চান, তাঁকে (ছলিম উদ্দীন তরফদার) ইঙ্গিত করে কেন বক্তব্য দিলেন? তখন আকরাম হোসেন চৌধুরী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে আবার তাঁর কাছ থেকে মাইক্রোফোন জোর করে কেড়ে নিয়ে ছলিম উদ্দীন তরফদার উত্তেজিত কণ্ঠে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের শিবপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ ঘটনা ঘটে। সভায় সবার সাবেক সংসদ সদস্য ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার।

ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আকরাম হোসেনের সমর্থক বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী ইউসুফ আবদুল্লাহ বলেন, এমন ঘটনার ধিক্কার ও নিন্দা জানাই। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

ছলিম তরফদারের সমর্থক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা বলেন, ওই সভায় আমিও ছিলাম। এমপি সাহেব যেটা করেছেন, ঠিকই করেছেন। তাঁর (আকরাম) নিজের কোনো জনপ্রিয়তা নাই, এমপি থাকার সময় নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন। অথচ এখন তিনিই বড় বড় কথা বলেন। তাঁকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়াই ঠিক হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু খালেদ বলেন, ‘সেদিনের অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সাবেক ও বর্তমান এমপির মধ্যে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সামান্য ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছিল। যেটা ঘটেছে, সেটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পরে ওটা নিরসন হয়েছে।