৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের খুঁজে বের করে বিচার দাবি

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • পিলখানা হত্যাকা- নিয়ে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত অর্থাৎ কুশীলবদের খুঁজে বের করতে ও তাদের হঠাৎ বিদ্রোহ করার পেছনে থেকে যারা কলকাটি নেড়েছেন তাদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াক) পিলখানা হত্যাকাণ্ড, হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আমাদের অনুভূতি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি করেন। একইসঙ্গে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় শহীদ হওয়া সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনায় কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যক্ষ অপরাধীদের বিচার হলেও এর পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছেন বা নির্দেশনা দিয়েছেন তাদের স্বরূপ উন্মোচন করতে হবে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার পেছনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এসব ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করতেই থাকবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি (অব) এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশীদ, একাত্তর টিভির বার্তা সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডাঃ মামুল আল মাহতাব স্বপ্নীল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে শক্তি বিএনপি-জামায়াত যে সূত্রে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেই শক্তি আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে এ সরকার টিকে রয়েছে। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ হত্যাকারীদের বিচার হলেও এর পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে তারা এখনও আড়ালে রয়ে গেছে। এ ঘটনার মূল হোতাদের পরিচয় দেশের মানুষ জানতে চায়, তদন্ত করে এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সভায় সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দিন সকালে খালেদা জিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সারাদিন তিনি কোথায় ছিলেন তা কেউ জানতে পারেনি। সেদিন লন্ডন থেকে তারেক বার বার ফোন করে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ খবর নিয়েছেন। সেদিন পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই অফিস দিনরাত খোলা রাখা হয়। তিনি বলেন, এই তিনটি প্রমাণিত ঘটনার প্রেক্ষপটে বোঝা যায় পিলখানার ঘটনার মূল হোতা কারা তা স্পষ্ট হয়ে যায়। খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও পাকিস্তানী আইএসআই এরাই ছিল জঘন্য ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা। অথচ তাদের কারও অপরাধের বিচার হয়নি। তাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মূলহোতাদের জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পিলখানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুলিশের বড় দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অনেককে উদ্ধার করতে হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশীট জমা দিয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো এত বড় একটি ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা দিয়ে সুন্দরভাবে সমাধান করেছেন। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে সময় ক্যান্টনমেন্টগুলোতে আগুন জ্বলছিল, সে সময়ে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাদের স্বাভাবিক রেখেছেন।

মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশীদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড বিজিবির ক্ষোভের বহির্প্রকাশ নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ হাসিল করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। শেখ হাসিনা সরকার ঠা-া মাথায় তা মোকাবেলা করেছে। কম রক্তপাতের মাধ্যমে সেটি দমন করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে সকাল ৯টায় শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম উজ জামান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শেষে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম অধ্যায় পিলখানা হত্যাকাণ্ড। ২০০৯ সালের এইদিনে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারান ৫৮ জন সেনা সদস্য। দিবসটি উপলক্ষে বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের অয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের ১১তম বার্ষিকী পালিত হয়।

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৬/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: