৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বঙ্গবন্ধু আজীবন ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • যশোরে সম্প্রীতি সংলাপ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় জয়তী সোসাইটির অডিটোরিয়ামে ‘গাহি সাম্যের গান শতবর্ষের পথে বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতির বাংলাদেশের আহ্বায়ক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই ভূখন্ডে বর্তমান বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ-খ্রীস্টান, চাকমা ও সাঁওতালসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এক সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখেছে। বঙ্গবন্ধু আজীবন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। সব ধর্মের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ছিল এই জ্যোর্তিময় নেতার জীবন দর্শন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি এই জীবন দর্শন থেকে কখনই বিচ্যুত হননি। ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস ও সমান ভালবাসা।

মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান দেশের সব ধর্মের মানুষেরও মহান নেতার প্রতি রয়েছে অটুট আস্থা। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই সমৃদ্ধ জনপদের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ আসনে যিনি অধিষ্ঠিত, তিনি বাঙালী জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তাঁর দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব ও অজেয় ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে পরাধীন জাতিকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদৃষ্টি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নির্মল জীবনদর্শন দিয়ে জাতিকে তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসালাম চাকলাদার রেন্টু, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব (স্বপনীল), সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ, যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্রী তারাপদ দাস, সম্প্রীতি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য মিহির কান্তি ঘোষাল প্রমুখ। আলোচনায় স্বাগত বক্তব্যের পরে সম্প্রীতি বাংলাদেশের উপরে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন আজীবন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। সব ধর্মের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ছিল তাঁর জ্যোতির্ময় জীবনদর্শন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান দেশের সব ধর্মের মানুষের ছিল এই মহান নেতার প্রতি অগাধ আস্থা। ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলাদেশের সকল মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। তিনি একথাও বলেছিলেন যে, পবিত্র ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, যশোর জেলা সম্প্রীতির জেলা। এখানে সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করেন। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের কারণে কিছু বছর আগে যশোরে মৌলবাদের উৎপত্তি হয়। সে কারণে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়েছিল। এতে ১০ জন নিহত হন। কিন্তু এখন সেই মৌলবাদের সুযোগ নেই।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বিভেদ-সংঘাত ভুলে দেশকে সম্প্রীতির পথে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, যশোর রেলস্টেশন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আজিজুল করিম, যশোর ব্যাপ্টিস চার্চের এন্ডু বিশ্বাস পালক, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ আত্মবিভানন্দ, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, পুনশ্চ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা সুকুমার দাস, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, চৌগাছা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম রন্টু, দৈনিক গ্রামের কাগজের বার্তা সম্পাদক সরোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাধন চন্দ্র দাস। এতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রীস্টান ধর্মীয় নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রত্যেককেই ধর্মের সম্প্রীতির বাণী তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

১৯/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: