২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হবে ॥ গাফ‌ফার চৌধুরী

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে দাবি করে বর্ষীয়ান সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ‘অমর একুশে’ গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, রাজাকারদের তালিকার আগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াতীদের তালিকা করা উচিত। আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে জামায়াতীদের বের করে দিতে না পারলে ভবিষ্যতে তারা আবারও সমস্যা সৃষ্টি করবে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল-এ শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালীর বিজয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস দমন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার, দেশের উন্নয়ন-এসবের কোনকিছুই শেখ হাসিনা না থাকলে সম্ভব হতো না।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক নাট্যব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব খ্যাতনামা চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন হাবীব, শহীদ কন্যা ডাঃ নুজহাত চৌধুরী, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ রেখে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক বলেন, অনেক স্বাধীনতাবিরোধী আওয়ামী লীগের চারপাশ ঘিরে রেখেছে। তাদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে রাজাকারদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমার ধারণা, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা না হলে বাংলাদেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে। আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দেয়া হবে। এখানে মৌলবাদী নেতৃত্ব এসে যাবে। আওয়ামী লীগকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসের সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করছেন, যা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়ত পারতেন না। কারণ বঙ্গবন্ধু কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন।

ভাষাসৈনিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, অনেক রাজাকার আছে, যাদের জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সম্মান দিয়েছিল। যেমন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ফারুককে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। সেই ফারুককে পরে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। অনেক রাজাকার আলবদর আলশামস এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধীকে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তারা তাদের আমলে এমপি-মন্ত্রীও হয়েছিলেন। যা খুবই নিন্দনীয়।

সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালীর বিজয়’ শব্দগুলো আমাদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে গাফফার চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু মনে প্রাণে একজন খাঁটি মুসলমান কিন্তু তিনি রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন একজন আদর্শবাদী এবং অসাম্প্রদায়িক। তবে বাকশালের সময় আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারেনি। কারণ, বাকশাল গঠনের তিন মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই বাকশাল ভাল-মন্দ যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না। তবে বাকশাল থাকলে আজকের বাংলাদেশের দুর্নীতি, সন্ত্রাস এত ব্যাপক হতো না। হয়ত এত চাকচিক্যময় রাস্তাঘাটও হতো না।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান বলেন, রাজাকারকে শহীদ বলায় সংগ্রাম পত্রিকার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ কাদের মোল্লা একজন আত্মস্বীকৃতি যুদ্ধাপরাধী। আদালতে বিচারের মাধ্যমে তার ফাঁসির রায় হয়েছে, রায় কার্যকরও হয়েছে। ওর মতো একটা রাজাকার, কুলাঙ্গার, জল্লাদ, ধর্ষণকারীকে শহীদ বলার সাহস কোথায় থেকে আসে। ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে যাতে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস কেউ না পায়।

সভাপতির বক্তব্যে পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিচার এখনও শেষ হয়নি। তিনি এই হত্যাকান্ডের বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করেন। এর জন্য আগামী এক বছর সম্প্রীতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ জামায়াত-জঙ্গী এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠা এবং পুনরায় ক্ষমতায় আনার অপচেষ্টা করছে। সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সম্প্রীতির মহানায়ক। জিয়াউর রহমান তাঁকে হত্যার মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় রাজনীতি শুরু করেন।

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

১৬/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: