২৫ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০৬ পি. এম.
জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাল বাংলাদেশ

কাওসার রহমান, মাদ্রিদ স্পেন থেকে ॥ স্থবির হয়ে পড়া জলবায়ু আলোচনায় প্রাণ ফেরাতে নানা উদ্যোগের মাঝেই বাংলাদেশ জলবাযু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন প্রসঙ্গে বলেছে, কোন মার্কেট ম্যাকানিজম থেকে নয়, দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন হতে হবে সরকারি অর্থে।

বৃহস্পতিবার মাদ্রিদে জলবায়ু আলোচনার হাইলেভেল সেগমেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ও বর্তমান তথ্যমন্ত্রী হাছানমাহমুদ এ দাবি জানান। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো দীর্ঘ মেয়াদী অর্থায়ন মার্কেট ম্যাকানিজমের ওপর চাপাতে চাইছে। মার্কেটম্যাকানিজম হলে মুনাফার বিষয় থাকবে। মুনাফা নাহলে মার্কেট ম্যাকানিজম থেকে কোন অর্থ আসবে না।

তিনি বলেন, আমরা চাই দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন হতেহবে সরকারি অর্থ। অন্যকোনকিছু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলো মেনে নেবেনা। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে এপর্যন্ত ৯৫০কোটি ডলারের কিছু বেশি জমাহয়ছে। অথচ বাংলাদেশ এই তহবিল থেকে এপর্যন্ত ৯কোটি ডলার পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলো সামরিক খাতে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। অথচ গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ দিচেছনা। যুক্তরাষ্ট্র এফান্ডে ৩০০কোটি ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিযেছিল। কিন্তু একশকোটি ডলার প্রদানের পর বাকি ২০০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এটা হতাশাজনক।

তিনি বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে গ্রীন ক্লাইম্টে ফান্ড গঠন করা হেয়েছিল তা পূরণ হচ্ছেনা। ক্ষতি গ্রস্তদেশ গুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছেনা। মুলত অর্থপ্রদানপ্রক্রিয়া জটিল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের মতোক্ষতিগ্রস্তদেশগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছেনা। তাই আমরা অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি্।

সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সক্ষম বলেই এপর্যন্ত গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে ৯কোটিডলার পেযেছে। শুধু সক্ষমই নয়, বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় ক্লাইমেট চেঞ্জ এ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। নিজের বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ট্রাস্টফান্ড গঠন করেছে। এফান্ড থেকে এপর্যন্ত ৭২০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখানে সক্ষমতার প্রশ্ন নয়, জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশ গ্রীন ক্লাইমেটফান্ড থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছেনা। আমরা এই জটিল প্রক্রিয়ার সহজীকরণ চাই।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টিনিও গুতেরেসের নেতৃত্বে স্থবির হয়ে পড়া জলবায়ু আলোচনায় গতি আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলো উন্নত দেশ গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে মাদ্রিদ জলবায়ু সম্মেলন থেকে ফল বের করে আনা যায়। বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিযার সিভিল সোসাইটিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জলবায়ু আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা আগামী বছর থেকে প্যারিসচুক্তি কার্যকর করতে সবকাজ মাদ্রিদে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের সিভিল সোস্যাইটি অর্গানাইজেশন কোষ্ট্র ট্রাস্ট এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। যৌথ আয়োজক চিলি এবং স্পেনও প্রেচেষ্ঠা চালাচ্ছে মাদ্রিদ জলবায়ু আলোচনাকে সফল করতে।

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০৬ পি. এম.

১৩/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: