২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বিপন্ন রাজধানী ॥ নব্বই ভাগ মানুষ দূষণের শিকার

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ধূলিকণাসহ ছয় ধরনের পদার্থ বাতাসে
  • উন্মুক্ত সরকারী নির্মাণ প্রকল্প
  • বাড়ছে ইটভাঁটি ও যানবাহন
  • রাস্তায় রাখা হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী
  • মাস্ক বিক্রি বেড়েছে

রাজন ভট্টাচার্য ॥ নিউ ইস্কাটন এলাকায় অন্তত চারটি বহুতল ভবন এখন নির্মাণাধীন। এরমধ্যে হানিলোফ ফাস্টফুড সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলছে বেশ কয়েক মাস। সোমবার দুপুরে দেখা গেল, ভবনের সামনের ফুটপাথ দখল করে কয়েক ট্রাক বালু রাখা হয়েছে খোলা অবস্থায়। এতে পথচারীদের রাস্তায় নেমে চলতে হচ্ছে। তেমনি বাতাসে বালু মিশে যাচ্ছে দ্রুত। যদিও এ বিষয়ে ভবনে দায়িত্বশীল কাউকে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। এর বাইরে অন্য তিনটি ভবনের সামনের চিত্র একই রকমের। অথচ নিয়ম অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে বালু ঢেকে রাখার কথা। তেমনি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভবন নির্মাণের কথা।

কমলাপুরের টিটিপাড়া থেকে প্রায় শাপলা চত্বর পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে কয়েক মাস। বিভিন্ন সেবা সংস্থা এই উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করছে। শুকনো মৌসুমে রাস্তা কাটার কারণে এই এলাকায় দিনভর কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ। কারো মতে ধুলোর কারণে এই অবস্থা। এর প্রমাণ পাওয়া গেল টিটিপাড়া থেকে একটু সামনে গেলেই। সেখানে দেখা গেল কমলাপুর বা মতিঝিলের মতো আকাশ এতটা ঘোলা ও মেঘযুক্ত নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে দৈনিক বাংলা, পুরানা পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মাজার, বাংলা একাডেমী হয়ে শাহবাগ থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে। এই এলাকার বাতাস যতটা ঘন তার থেকে কম ঘনত্ব রমনা পার্কের ভেতরের বাতাস। শুধু ধুলার কারণে এই অবস্থার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশে^র অন্যান্য জনবহুল শহরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও দূষণের বিষয়ে সতর্ক থেকেই উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়া হয়। যাতে বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব না পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে তেমনটা দেখা যায় না। সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও হচ্ছে উন্মুক্ত অবস্থায়।

এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ অনেকটা নিজ থেকেই সচেতন। মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধুলা দূষণ রোধে মাস্ক পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, অন্য সময়ের তুলনায় মাস্ক বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। আগে দিনে দুটি বিক্রি হতো এখন বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০টির বেশি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিবারন বলেন, বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন ধুলা আর ধুলা। মেট্রোরেল ও রাস্তা কাটায় ধুলোর কারণে টিএসসিতে বসা দায়। তাই মাস্ক ব্যবহার করছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় ধরনের পদার্থ এবং গ্যাসের কারণে ঢাকায় দূষণের মাত্রা সম্প্রতি অনেক বেড়ে গেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা অর্থাৎ পিএম ২ দশমিক ৫ এর কারণেই ঢাকায় দূষণ অতিমাত্রায় বেড়ে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠছে।

কেন এমন হলো

প্রশ্ন হলো, কেন এই অসচেতনতা। নগরবিদ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বলছেন, নানা রকম দূষণের কবলে রাজধানীর মানুষ। পরিবেশ অধিদফতর, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারী দফতরের উদাসীনতার কারণেই এর মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রতিকার নেই।

সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন রাস্তাঘাট ভালভাবে পরিষ্কার না হওয়া, যেখানে সেখানে বালু-ইটসহ নির্মাণ সামগ্রী রাখা, রাস্তা কাটার পর বিলম্বে সংস্কার মূলত এসব কারণেই নগরীতে শুষ্ক মৌসুমে বায়ু দূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এর সঙ্গে গাড়ির কালো ধোঁয়া, দিন দিন যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দূষণ তো রয়েছেই। পাশাপাশি মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটিসহ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উন্মুক্ত অবস্থায় চলছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও দূষণ রোধে রাস্তায় প্রয়োজনীয় পানি ছিটানো হচ্ছে না। ফলে দিন দিন নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

কাওরানবাজার এলাকায় দূষণ বেশি

ঢাকার বায়ু দূষণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গবেষকরা বলছেন, চলতি মাসে এ পর্যন্ত আট দিন (দিনের বেশিরভাগ সময়) ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। এয়ার ভিজ্যুয়াল রাজধানীর সাতটি এলাকার বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার মধ্যে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ ছিল কাওরানবাজার এলাকায়। এরপরই মোহাম্মদপুর ও গুলশান এলাকা। এর বাইরে উত্তরা, মিরপুর ও নর্দ্দা এলাকার বায়ুর মানও বেশ খারাপ। এলাকাভিত্তিক বায়ুর মানের রকমফের থাকলেও সামগ্রিকভাবে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার বায়ু অস্বাস্থ্যকর বলে জানান গবেষকরা।

পরিবেশ অধিদফতর থেকে দেশের ১১টি শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, সাভার, ময়মনসিংহ, রংপুরের বায়ুর মান গত শনিবার খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রামের বায়ুর মান কিছুটা ভাল ছিল। খুলনা ও কুমিল্লার বায়ুর মান চট্টগ্রামের চেয়ে খারাপ ছিল। বায়ুর মান অপেক্ষাকৃত ভাল ছিল সিলেট শহরে।

রাতে দূষণ বাড়ে

বায়ুদূষণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, দিনের চেয়ে রাতে দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। সরকারের তৎপরতায় দিনে কিছুটা কমলেও বিকেল থেকে দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল ৫টার পর থেকে রাতভর মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে ঢাকার বাতাস। গত বৃহস্পতিবার রাতে এয়ার ভিজ্যুয়ালের র‌্যাংকিংকে এক ঘণ্টার জন্য দূষণের তালিকার শীর্ষে উঠে যায় ঢাকা।

পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (বায়ুমান ও ব্যবস্থাপনা) জিয়াউল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, কুয়াশার সঙ্গে দূষিত বস্তুকণার মিশ্রণে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। বিশেষ করে বাতাসে যখন কুয়াশার প্রলেপ থাকে, তাতে দূষিত বস্তুকণা মাটিতে পড়ে না। ফলে দূষণ বেড়ে যায়। তবে বৃষ্টি হলে মাটিতে সেগুলো মিশে গিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায়।

রাতে ঢাকায় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির বড় কারণ বর্জ্য পোড়ানো। বর্তমানে ঢাকা শহরে ৪০টি স্থানে রাতের বেলায় বর্জ্য পোড়ানো হয়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাতাস দূষিত হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এই বর্জ্য পোড়ানো। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সোমবারের সভায় রাতে বর্জ্য না পোড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বাড়ছে ইটভাঁটি ও যানবাহন ॥ ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে দেশের ইটভাঁটিগুলোর ওপরে একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দেশে ইটভাঁটির সংখ্যা ৪ হাজার ৯৫৯। পরে ২০১৮ সালে পরিবেশ অধিদফতর থেকে জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, ইটভাঁটির সংখ্যা বেড়ে ৭ হাজার ৯০২ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৮৭টি ইটভাঁটি ঢাকা বিভাগের মধ্যে গড়ে উঠেছে। ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে দেশে মোট যানবাহনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৭। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৪। বর্তমানে যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ৪২লাখ। ঢাকায় ১৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএনের এদেশীয় পরিচালক রাকিবুল আমিন বলেন, বায়ুদূষণ মোকাবেলায় প্রথম কাজ হচ্ছে দূষণের উৎস বন্ধ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন স্থানে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং জলাশয়গুলো রক্ষা করা। এই দূষিত বায়ুর মধ্যে নগরের মানুষ কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সেই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা। তবে সবার আগে বায়ুদূষণকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কট হিসেবে দেখতে হবে।

অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, বায়ু দূষণের কারণে নাক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাযু দূষণের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাকের নানা ধরনের অসুখ হয়। এতে শিশু ও বয়স্কদের এমনকি ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানালেন তিনি।

বাতাসে থাকা নানা ক্ষতিকর উপাদান গলা ও ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্যও দায়ী বাতাসে থাকা কিছু ক্ষতিকর উপাদান। শিশুরা বাইরে বেশি থাকে বলে আক্রান্ত হয়। আর বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে যায়। এ কারণে সহজেই তারা আক্রান্ত হয়ে যায়। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে যে ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি, পরিবেশ অধিদফতরও তা স্বীকার করছে।

আন্তর্জাতিক জরিপ

একবছর সারাবিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ু দূষণের মাত্রা নিয়ে গ্রীনপিস এবং এয়ারভিজ্যুয়াল এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নয়াদিল্লীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত গুরুগ্রাম বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। আর রাজধানী শহর হিসেবে সবচেয়ে দূষিত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী। এর পরেই বাংলাদেশের রাজধানীর অবস্থান। প্রতিবেদন অনুসারে, বায়ু দূষণের কারণে আগামী বছর বিশ্বব্যাপী ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বায়ু দূষণের সঙ্গে লড়াই করে চলছে। সেদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বসূচকে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি। সেখানকার ইটভাঁটি ও গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং তাতে উচ্চমাত্রার সালফার থাকাকে বায়ু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরিবেশবীদরা বলছেন, ধুলা দূষণের কারণে অন্যান্য সময়ের চেয়ে শুষ্ক মৌসুমে শিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেড়ে যায়। এ সময় শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীর ৪০ শতাংশের বেশি থাকে শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দা ভয়াবহ ধুলা দূষণের শিকার হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ৯১টি দেশের ১ হাজার ৬০০ শহরের মধ্যে সর্বাধিক বায়ু দূষেণের শিকার ২৫টি নগরীর মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি শহর (ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ) রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অবস্থান ১৭তম, গাজীপুর ২১তম এবং ঢাকা ২৩তম। সব মিলিয়ে দূষণে মহাআক্রান্তের নগরীতে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস।

বায়ু দূষণ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, কুয়াশা কিছুটা থাকলেও এখন আকাশের যে পরিস্থিতি, তার জন্য দায়ী বায়ু দূষণ। গত সোমবার সকালে ঢাকা তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তখন ঢাকার বায়ুর মান সূচক ছিল ২৪৪, যা মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। দুপুর ১২টার পর তা কিছুটা কমে সূচক দাঁড়ায় ১৯৪-এ। এটিও খুব ভাল নয়, অস্বাস্থ্যকর। তিনি বলেন, বারবার বলার পর কয়েকদিন রাস্তায় রাস্তায় পানি দেয়ায় দূষণ কিছুটা কমেছিল। কিন্তু আবার সেটা বেড়ে চরম আকার ধারণ করেছে। এটি থেকে প্রতিকার পেতে হলে পানি ঢালা বন্ধ করা যাবে না।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও ডাঃ লেলিন চৌধুরী বলেন, ঢাকার অবস্থা আজ এমন এক পর্যায়ে গেছে; এখানে কুয়াশা নাকি ধুলা তা বোঝার কোন উপায় নেই। তবে কুয়াশা হলে শীত যেমন অনুভব হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকেও শীতের তেমন কোন বার্তা দেয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত দূষণের কারণে শিশুরা যেমন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তেমনি বয়স্করাও। সব মিলিয়ে দূষণ গোটা নগরবাসীকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফেলছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।

পানি ছিটানোর উদ্যোগ

রাজধানীর ধুলা দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রধান প্রধান সড়কে সকাল-বিকেল পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করারও সিদ্ধান্ত হয়। সম্প্রতি নগর ভবনের সামনে ধুলা দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পানি ছিটানোর বিশেষ কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ধুলা দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সীমিত ব্যবস্থা রয়েছে। ধুলা দূষণ রোধের মূল দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু নাগরিক দায়িত্বকে সম্মান জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বরাবর এ কাজগুলো করে থাকে। বায়ু দূষণ রোধে আমরা বিশেষ প্রোগ্রাম শুরু করেছি।

ধুলা দূষণ রোগের উৎস

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বর্তমানে ধুলা দূষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধুলা দূষণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ধুলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। রাস্তার পাশে দোকানের খাবার ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণুমিশ্রিত ধুলা ফুসফুসে প্রবেশ করে সর্দি, কাশি, ফুসফুস ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, শ্বাসজনিত কষ্টসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধুলা দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন তারা।

পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্যোগ কম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইপিএর হিসাবে কোন একটি শহরের বায়ুর মানের সূচক ২০০-এর বেশি হলে তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। এরমধ্যে ঢাকার বায়ুর মানের গড় সূচক ছিল ২২০। এর মধ্যে কাওরান বাজার এলাকার বায়ুর মান ছিল ২৯৮, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। কোন শহরের বায়ুর মানের সূচক ২০০ ছাড়ালে ওই শহরের মানুষকে মাস্ক (মুখোশ) পরার পরামর্শ দেয়া হয়। ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হয়, সাইকেলে চড়া নিষেধ করা হয়। আর শিশু ও বৃদ্ধদের খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিরুৎসাহিত করা হয়। ঢাকার বায়ু দূষণের জন্য মূলত দায়ী শহরের আশপাশের ইটভাঁটি, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজের ধুলা।

ভারতের দিল্লী, মুম্বাই, থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক, চীনের বেজিং শহরে বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পৌঁছে গেলে সেসব দেশের সরকার বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করে। নাগরিকদের বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা পেতে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

১১/১২/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: