২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পনেরো দেশের নৃত্যশিল্পী, ব্যতিক্রমী উৎসব সমুদ্র সৈকতে

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৯
পনেরো দেশের নৃত্যশিল্পী,  ব্যতিক্রমী উৎসব  সমুদ্র সৈকতে
  • ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল কক্সবাজারে

জনকণ্ঠ ফিচার ॥ সমুদ্রের যে ঢেউ তাতে অদ্ভুত এক ছন্দ। সৈকতে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই এ ছন্দ উপভোগ করেছেন। পায়ের কাছে আছড়ে পড়া ঢেউ বুকেও একটা তুফান তোলে। আনন্দে নেচে ওঠে মন। তবে সাধারণ পর্যটক আনন্দটুকু পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেন না। তাই হয়ত নৃত্যশিল্পীদের এগিয়ে আসা। হ্যাঁ, ১৫ দেশের প্রায় দু’শ’ শিল্পী অবস্থান করছেন এখন কক্সবাজারে। শুক্রবার থেকে এখানে শুরু হয়েছে ওশান ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল অব বাংলাদেশ।

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে পর্যটন সংস্কৃতির মেলবন্ধন রচনা করার প্রত্যয়ে নৃত্যশিল্পীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য ওয়ার্ল্ড ড্যান্স এ্যালায়েন্স-এশিয়া প্যাসিফিকের বাংলাদেশ শাখা প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করেছে।

চার দিনব্যাপী উৎসবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, তাইওয়ান, কোরিয়া ও চীনসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের অন্তত ৮১ শিল্পী কোরিওগ্রাফার ও সংগঠক অংশগ্রহণ করেছেন। দেশের প্রায় সব বিভাগ থেকে এসেছেন নৃত্যশিল্পীরা।

এদিন সকালে অবকাশ যাপন কেন্দ্র মারমেইড ইকো রিসোর্টে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, উর্মিমালা সরকার, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক লুবনা মারিয়াম, নৃত্যযোগের সভাপতি শিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু প্রমুখ।

উৎসবে যোগ দিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, এত দেশের শিল্পীদের এক জায়গায় করে এ ধরনের আয়োজন কম শ্রমসাধ্য বিষয় নয়। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার ধারা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উৎসবের বিকল্প নেই। এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা যাতে বজায় রাখা যায় সে উদ্যেগ নেয়া হবে।

আয়োজকদের পক্ষে উর্মিমালা সরকার বলেন, আমাদের অনেক দিনের শ্রম ও সাধনার ফসল এই উৎসব। এটি আমাদের জন্য একাধারে আনন্দের এবং গর্বের।

সকালের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নাঈম খান ড্যান্স কোম্পানি। সিলেট থেকে আসা মণিপুরী শিল্পীদের একটি দল পুং বাজিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। ঢোল বাজায় ‘বাংলার ঢোল’ নামের একটি দল।

বিশেষ সেমিনারে নৃত্য বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদা সুলতানা তানজী ও লতিফা ইয়াসমিন। সমসাময়িক নৃতে কর্মশালা পরিচালনা করেন জার্মান নৃত্যশিল্পী টমাস বুঙ্গার। এ ছাড়া তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেন ইউনি ওয়াং।

বিকেলে কক্সজারের লাবনী বিচ সড়কের কক্স কার্নিভ্যাল মিলনায়তনে ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ সময় আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচিত শিল্পীরা তাদের নৃত্য প্রযোজনা নিয়ে মঞ্চে ছিলেন। ছিল জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শিল্পীদের প্রযোজনাও। জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শিল্পী ও দলের মধ্যে নাচ করে ভাবনা, নন্দন কলাকেন্দ্র, তৃণা মজুমদার, প্রদীপ চন্দ্র নাহা, ফিফা চাকমা ও দীপা খন্দকার। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। দর্শকরাও তাদের মুঠোফোনের বাতি জ্বালিয়ে উৎসবের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করেন। একই অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করেন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী অনন্যা চাটার্জি। পরিবেশনা নিয়ে আসেন তাইওয়ানের হুয়াং ইয়ু তিং, ভারতের মেঘনা ভরদ্বাজ। বাংলাদেশের সংগঠন ও শিল্পীদের মধ্যে পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে ছিল সাধনা কালচারাল সেন্টার, কল্পতরু, জুয়েইরিয়াহ মৌলি, আনন্দিতা খান ও মৌমিতা জয়া। লিথুয়ানিয়া, ভারত, কানাডা, হংকং ও বাংলাদেশের শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। আয়োজকরা জানান, উৎসবের অন্যান্য দিনেও থাকবে কর্মশালা, সেমিনার ও প্রবন্ধ পাঠ।

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৯

২৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: