২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

নরসিংদীর মিলন হত্যা ॥ আদালতে সিআইডির অভিযোগপত্র দাখিল

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৩ পি. এম.
নরসিংদীর মিলন হত্যা ॥ আদালতে সিআইডির অভিযোগপত্র দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এজেন্ট মিলন হত্যা মামলায় সন্ত্রাসী জাহিদ সরকারকে প্রধান আসামী করে আদালতে চার্জ শীট দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। মামলা থেকে সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা সহ ৬ এজাহারনামীয় আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিবপুরে আওয়ামী লীগের এজেন্ট মিলন মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পারভীন বেগম বাদি হয়ে সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লাসহ ৮ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার তদন্তে বের হয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা। মামলা দায়েরের সময় শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পাগল প্রায় অবস্থায় থাকায় এজাহারে কাদেরকে আসামী করা হয়েছে তা জানতেন না বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বাদি পারভীন বেগম।

এদিকে এজাহারের সঙ্গে মামলার বাদি, স্বাক্ষী, প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুসন্ধানে কোন মিল না পাওয়ায় এজাহারনামীয় আসামীদের বাদ দিয়ে প্রকৃত আসামীদের অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন নরসিংদী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাহিদুর রহমান ভূইয়া।

মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীরা হলো, শিবপুরের কুন্দারপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জাহিদ সরকার ওরফে জাহাজ সরকার (৪০), মৃত জয়নাল আবেদীন সরকারের ছেলে হৃদয় সরকার (২৫), মৃত চান মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩২), ভৈরবের চন্ডিবের এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে রুবেল (২৬)। এরমধ্যে জাহিদ সরকারের আপন ভাতিজা হৃদয় সরকার ও ভাগিনা রুবেল। অভিযুক্ত সবাই নৌকার প্রার্থী জহিরুল হক ভূঞার সমর্থক ছিল।

মিলন হত্যা মামলায় স্বাক্ষী দেওয়ায় আবদুল জলিল মিয়া নামের একজন হত্যার হুমকি দিয়েছিল জাহিদ সরকারসহ চার্জশীটভুক্ত আসামীরা।

মামলার বাদি, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অভিযোগপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতবছরের ৩০ ডিসেম্বর শিবপুরের কুন্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট ছিলেন স্থানীয় বংপুর এলাকার মো. মিলন মিয়া। দুপুরের দিকে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জহিরুল হক ভূঞা ওই ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মোল্লা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় অভিযুক্ত জাহিদ সরকারের নেতৃত্বে হৃদয় সরকার, দোলোয়ার ও রুবেলসহ কিছু উশৃঙ্খল যুবক ভোট কেন্দ্রে সিরাজ মোল্লাকে আক্রমন করার পায়তারা করে। ওই সময় সিরাজ মোল্লা কেন্দ্রের ৩ নং বুথে প্রবেশ করলে এজেন্ট মিলন মিয়া বুথের বাইরে এসে দরজা বন্ধ করে বলতে থাকেন- ‘ভোট চোর ধরছিরে, কে কই আছস আয়’। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বুথের দরজায় কোপাতে থাকে। ওইসময় কেন্দ্রে কর্তব্যরত পুলিশের সহযোগীতায় এসআই মাহমুদুল হাসান মারুফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে সিরাজ মোল্লাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে তোলে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এসময় জাহিদ সরকারের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা মিলন মিয়াকে দেখিয়ে বলে যে, ‘ঐ সাদা শার্ট পড়া লোকটাই সকল নষ্টের মূল তাকে ধইরা মাইরা ফালা।’ তখন জাহিদ সরকারের নির্দেশে হৃদয় সরকার মিলনের গলায় ছোড়া দিয়ে পোঁচ মারে। দুই হাতে গলায় চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জয়নালের কাঠবাগানে গিয়ে পড়ে যায়। তখন জাহিদের নির্দেশে হৃদয় তাঁর হাতে থাকা ছোড়ট রুবেলের হাতে দিয়ে দেয় এবং সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন মিলন মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদি হয়ে শিবপুর মডেল থানায় সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে প্রধান আসামী কওে ৮ জনের নাম উল্লেখ কওে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে প্রথমে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই রুপন কুমার সরকার ও পরে সিআইডির এসআই সাহিদুর রহমান ভূইয়াকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৯ মাস তদন্ত শেষে বাদিসহ মোট ৩১ জনের স্বাক্ষীগ্রহন শেষে গত ৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরই প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় অভিযোগপত্রের শুনানীর দিন ধার্য করা হলে মামলার বাদি পারভীন বেগম আদালতে উপস্থিত হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাাহিদুর রহমান নাহিদের আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণে আপত্তি নেই বলে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামী সাবেক সাংসদ ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, তাঁর ছোট ভাই শিবপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুর আলম মোল্লা তাজুল, আজিজুল হক, বকুল, আজিজুল, সোহেল মিয়া, পিয়াল ও আমজাদকে মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।

মামলার আইনজীবী আফজালুল কবির বলেন, বাদির অনাপত্তি থাকায় আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন। এতে করে এজাহারনামীয় আসামীদেরকে অব্যহতি দিয়ে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রকৃত আসামীদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ প্রদান করেন।

প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৩ পি. এম.

১৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: