২৩ জানুয়ারী ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

হুমায়ূন আহমেদের ৭২তম জন্মদিন উদ্যাপন

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্যাঙ্গনে কিংবদন্তির এক নাম। পাঠক মুগ্ধ করার জাদুকর তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও সফল, ভিন্ন এক ধারার প্রবর্তক। গান লেখাতেও হয়ে আছেন কালজয়ী গীতিকবি। প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিক ও নন্দিত নির্মাতার ৭২তম জন্মদিন ও ৭১তম জন্মবার্ষিকী ছিল বুধবার। তার জন্মদিনকে ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীরা ভেসেছেন স্মৃতির সাগরে। প্রিয় লেখকের নানা উক্তি, ছবি পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বেশকিছু টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে নানারকম অনুষ্ঠান। জন্মদিন উপলক্ষে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন আয়োজন করা হয় এদিন।

নুহাশপল্লী

স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর থেকে জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদ যে ক্যান্সার হাসপাতাল করতে চেয়েছিলেন সে স্বপ্নটা অনেক বড়। আমি তা করতে চাই। আমি একটু একটু করে আগানোর চেষ্টা করছি। ক্যান্সার হাসপাতাল করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার দুর্ভাগ্যবান যে আমি একা এত বড় দায়িত্ব নিতে পারছি না। এ হাসপাতাল নির্মাণ করতে হলে পরিবারের সবাইকে একমত হয়ে উদ্যোগটা নিতে হবে এবং শুরু করতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার’- গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে দুই বাংলার জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন কর্মসূচীতে যোগ দিতে এসে তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ওইসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্যান্সার হাসপাতাল আর্থিক কারণে হচ্ছে না- এ বিষয়টা ঠিক না। এ হাসপাতালের উদ্যোগটা নিলে অবশ্যই একটু একটু করে হলেও অর্থের সংকুলান হয়ে যাবে। এখানে উদ্যোগ নেয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। যেটা আমি একা নিতে পারছি না। এখানে পরিবারের সবাইকে একমত হতে হবে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর লেখকের ধানম-ির ‘দখিন হাওয়া’ ফ্ল্যাটে কাটা হয়েছে জন্মদিনের কেক। হুমায়ূনকে স্মরণ করে দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে কেক কেটেছেন লেখকের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার ভোরে শাওন তার দুই ছেলেকে নিয়ে নিয়ে যান হুমায়ূনের স্মৃতিধন্য গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে। সেখানে লেখকের সমাধিতে নিবেদন করেন ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি। মিলাদ মাহফিলের পাশাপাশি এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

জন্মদিন পালন উপলক্ষে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের হতে গড়া নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজন করা হয়। বুধবার সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা কবরে শ্রদ্ধা জানাতে নুহাশপল্লীতে ভিড় জমায়।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক মোঃ সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া নুহাশপল্লীতে ৭৭১টি মোমবাতি প্রজ্বলন করেন নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভোর পাঁচটার দিকে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবরের পাশে ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। এ সময় নুহাশপল্লীর কর্মচারী ও অসংখ্য হুমায়ূন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে শাওন বলেন, এর জন্য হুমায়ূন আহমেদ যে নুহাশপল্লীতে শায়িত আছেন সেই নুহাশপল্লীর ভেতরেই একটি জায়গা মনে মনে পছন্দ করে রেখেছি। যে জায়গায় হুমায়ূন আহমেদ অনেক হাঁটাহাঁটি করতেন অনেক লম্বা একটা জায়গা স্থান, যেখানে গাছ কাটতে হবে না। আর হুমায়ূন আহমেদের হাতে লাগানো একটি গাছও যেন না কাটতে হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে চেয়েছি। স্মৃতি জাদুঘরের জন্য জায়গা নির্ধারণ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এর একটি ডিজাইনও করা হয়েছে। যা তিনি নিজেই করেছেন। তিনি নিজে একজন স্থপতি হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের সমাধির ডিজাইন, স্কুলের ডিজাইনও তিনি করেছেন। আর স্মৃতি জাদুঘরের ডিজাইনও তিনি করে রেখেছেন। জাদুঘর করার বিষয়ে শাওন বলেন, পরিবারের সবার সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছি। বিষয়টি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাইকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই আমরা সম্মতি পাব এবং হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শুরু হবে। শাওন আরও জানান, শিক্ষা বিস্তারের বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদের একটা খুবই আগ্রহ ছিল। ওনার গ্রামে কোন মাধ্যমিক স্কুল ছিল না। সে হিসেবে তিনি তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া কুতুবপুরে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। এ স্কুলটির নাম শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ। হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনে সবচেয়ে বড় যে সুখবর সেটা হচ্ছে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ স্কুলটি নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত এ বছর এমপিওভুক্ত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পর সাতটি বছর এ স্কুলটি বিভিন্ন ধরনের ক্রান্তিকালের সম্মুখীন হয়েছে। আমার সাধ্য খুবই ছোট, কাঁধও খুব ছোট, এই ছোট কাঁধে যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা করেছি। হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার কাছের মানুষেরা আমার পাশে ছিল, স্কুলের পাশে ছিল।

হুমায়ূন বইমেলা

বুধবার বিকেলে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা। এ মেলার আয়োজক হুমায়ূনের বইয়ের প্রকাশকরা।

চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে বুধবার অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠতম হুমায়ূন মেলা। সকালে মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ পরিবারের সদস্যসহ নাট্যব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, চ্যানেল আইয়ের পরিচালকবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রমুখ। মেলায় ছিল হুমায়ূন আহমেদের বই, চলচ্চিত্র, নাটকে ধারণকৃত ডিভিডির স্টল। মেলায় পরিবেশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান। স্মৃতিচারণ করেন মেলায় আগত বিশিষ্টজনেরা।

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৯

১৪/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: