১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

জাবিতে দু’দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

জাবি সংবাদদাতা ॥ বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলন দুই দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তারা।

অধ্যাপক রায়হান রাইন জানান, ‘চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রবিবার ও সোমবার আমরা আন্দোলন কর্মসূচী থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় দুর্যোগে জাতির মঙ্গল কামনায় আমরা দুইদিন আন্দোলন থেকে বিরত থাকব।’

এদিকে, তদন্ত চলাকালে উপাচার্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা কিংবা কিছু দিনের জন্য ছুটিতে পাঠাতে বলা হয়। তিনি বলেন, একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা কিংবা কিছু দিনের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয় এটাই নিয়ম। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রভাবশালী হন তাহলে তিনি তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন। সে জায়গা থেকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো যেতে পারে। তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে আবার সসম্মানে স্বপদে ফিরে আসবেন।’

তবে উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার তাদের কর্মসূচী যথারীতি চলবে বলে জানান তারা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পটচিত্র প্রদর্শনী, বিকেল ৩টায় সংহতি সমাবেশ, সন্ধ্যা ৬টায় গানে গানে সংহতি নামে একটি অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পথনাটক। এছাড়া বুধবার বেলা ১১টায় নতুন কলা ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জাটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের লাইন, ন্যায্যতার লাইন। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের আন্দোলন ন্যায্য ও যৌক্তিক এবং সরকার আমাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ ভিসিকে অপসারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।’

এর আগে বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন থেকে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কিত ষাট গজ দীর্ঘ একটি ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে আবার নতুন কলা ভবনে ফেরত আসে।

মিছিল শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষক অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ব্যাপারে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন আমরা তা ইতিবাচকভাবে দেখছি। তাদের যে বক্তব্য আমরাও সে কথাই বলে আসছি। এখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষ অভিযোগ উত্থাপন করেছে। আরেক পক্ষ অভিযুক্ত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যেকোন এক পক্ষকে তো অবশ্যই দায় নিতে হবে। অভিযুক্তদের এক পক্ষ স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে যাকে অপরপক্ষ বলছে বানানো স্বীকারোক্তি, কারসাজি। এতে যা হয়েছে তাহলো জাহাঙ্গীরনগরের সম্মান নষ্ট হয়েছে। সে জায়গা থেকে আমরা চাই যে পক্ষই দোষী হোক, একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।’

তবে আন্দোলনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ. স. ম. ফিরোজ উল হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘তারা সরকার প্রধান এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরেও যদি আন্দোলন চালিয়ে যান তবে তা খুবই অনাকাক্সিক্ষত এবং অপ্রত্যাশিত। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীই বাড়ি চলে গেছে। যে কয়েকজন শিক্ষার্থী এই আন্দোলন করছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করছে। প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী যেখানে দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া মানে তাদের অসম্মান করা।’

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৯

১০/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: