৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রুশ ভাষায় প্রকাশিত তিন বই হস্তান্তর

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ রুশ ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত ‘শেখ মুজিবুর রহমান এ্যান্ড বার্থ অব বাংলাদেশ’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বই দুটির অনুবাদক ও প্রকাশক রাশিয়ান একাডেমি অব সাইন্সেসের অধীন ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক ভি নমকিন। খবর বিডিনিউজের।

রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করে বইয়ের কপি তার হাতে তুলে দেন অধ্যাপক নমকিন। এছাড়া রুশ, বাংলা, ইংরেজী ও আরবি ভাষায় প্রকাশিত ‘কনভারসেশন অব প্রফেসর ড. ভি নমকিন উইথ শেখ হাসিনা’ বইয়ের কপিও প্রধানমন্ত্রীকে দেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটির ব্যাপকভাবে প্রচারের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন অধ্যাপক ভি নমকিন। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রসঙ্গে ড. নমকিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নে তিনি অভিভূত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের বিদ্যুতকেন্দ্র চালনায় বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত প্রকৌশলী ও জনবল তৈরিতে রাশিয়া বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুশ ভাষায় বইগুলো অনুবাদ ও প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়ায় ড. ভি নামকিনকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার সরকার ও জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণ করতে গিয়ে রাশিয়ার অনেক সার্ভিসম্যান জীবন উৎসর্গ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের বর্তমান লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশকে উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা পরিবর্তনের দিশারী এক বিশ্বনেতা- রুশ স্কলার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসাধারণ রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলীর অধিকারী এক সাহসী নারী হিসেবে অভিহিত করে সফররত রাশিয়ান স্কলার প্রফেসর ভিতালি নমকিন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেইসব বিশ্বনেতাদের অন্যতম, যারা বিশ্ব বদলে দিচ্ছেন।

তিনি রবিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রী একজন সাহসী নারী, যার আছে তার পরিবারের বিয়োগান্তক ইতিহাস, তিনি আপনাদের দেশের স্থপতির কন্যা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। তিনি দারুণ সফল।’

তিন শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাশিয়ান একাডেমি অব সাইন্সেসের (আরএএস) অধীন ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ভি নমকিন সম্প্রতি আরএএস কেনো রুশ, বাংলা, ইংরেজী ও আরবী ভাষায় শেখ হাসিনার ওপর একটি বই প্রকাশ করেছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। বইটি প্রফেসর ভিতালি নমকিন ও শেখ হাসিনার একটি কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।

আরএএস গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতাদের তুলে ধরতে সংস্থার একটি প্রকল্পের আওতায় বইটি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল যেসব বিশ্বনেতা বিশ্বকে বদলে দিচ্ছেন, তাদের তুলে ধরা।’

প্রফেসর নমকিন ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের রুশ অনুবাদ করেছেন। এছাড়া আরএএস ‘শেখ মুজিবুর রহমান এ্যান্ড বার্থ অব বাংলাদেশ’ নামে আপর একটি বই প্রকাশ করেছে। এটি লিখেছেন ফেলিক্স ইউরলভ। এতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলাদেশের ঘটনাবলী ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে। নমকিন এই বইটিও রুশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন।

প্রফেসর নমকিন রবিবার সকালে বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অলেক্সান্দার ইগনাতভকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বই তিনটির কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন।

এক ব্রিফিং-এ ভিতালি নমকিন জানান, এসব বই প্রকাশের কারণ খুবই সুনির্দিষ্ট। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্লেয়ার, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছি, রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে এই দেশ এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার অভিন্ন ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও বেশি জানার সুযোগ করে দেয়া দরকার।’

‘কনভারসেশন অব প্রফেসর ড. ভি নমকিন উইথ শেখ হাসিনা’ বইয়ে নমকিন বলেন, শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের প্রধান বিষয় তার পিতা, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের চ্যালেঞ্জসমূহ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভূখন্ড নিয়ে বিরোধ, জাতিগত সংঘাত বিষয়ে তার মতামত দেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়াদি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করার অকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন।

কথোপকথনে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা স্থান পায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের মতো আধুনিক বিশ্বের প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো উঠে আসে।

বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এম শহিদুল্লাহ সিকদার এবং অরএমএম পাওয়ার এ্যান্ড এনার্জির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৯

২১/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: