১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাসস্থান হোক পরিচ্ছন্ন


বাসস্থান হোক পরিচ্ছন্ন

বায়ু দূষণ শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে কিছু গতানুগতিক ছবি ভেসে ওঠে। ধুলায় আচ্ছন্ন, যানবাহন আর কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় আবৃত গাছপালাবিহীন কোন শহুরে রাস্তার কথা মনে পড়ে। কিন্তু শুধু কি বাইরের বাতাসই দূষিত হয়? বাইরের দূষিত পরিবেশ থেকে এসে যে ঘরে আমরা প্রশান্তি খুঁজি, সেখানকার বাতাস কি সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ? তা কিন্তু নয়! ঘরের ব্যবহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মাধ্যমেই ভেতরের বাতাস হয়ে উঠতে পারে দূষিত, ক্ষতি হতে পারে আমাদের শরীরের। ঘরের ভেতরের বাতাস দূষিত হবার কারণ

ধুলো-ময়লা

প্রতিবার আমরা বাইরে থেকে ফেরার সময় কিছু পরিমাণ ধুলো নিয়েই ঘরে প্রবেশ করি। বাইরের ধুলো, মাটি, আবর্জনা, এমনকি ত্বকের ঝরে পড়া মৃত কোষও ঘরের ভেতরের বাতাস দূষিত করে।

সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক

কোন ধূমপায়ী ব্যক্তি তামাক সেবনের সময় যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তার আশপাশে থাকা অধূমপায়ীরাও অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই ধোঁয়া নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে। এ ধরনের ধোঁয়াকে সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক বলা হয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, তামাক সেবন ধূমপায়ী ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ক্ষতি তো করেই, সঙ্গে তার আশপাশে থাকা অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু

যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুপিং কাশি, হাম, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি রোগের জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে বাহিত হয়।

ছত্রাক

ঘরের ভেতর আর্দ্রতা বেশি হলে বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। এদের মধ্যে কোনটি নিরীহ প্রকৃতির, আবার কোনটি খুব বিপজ্জনক হতে পারে।

উদ্বায়ী জৈব রাসায়নিক পদার্থ (ঠড়ষধঃরষব ড়ৎমধহরপ পড়সঢ়ড়ঁহফ-ঠঙঈ)

কার্পেট, কাপড়, পার্টিকেল বোর্ডের তৈরি আসবাবপত্র, দেয়ালে ব্যবহৃত রং, এয়ার ফ্রেশনার, ঘর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার্য কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত পরিষ্কারক থেকে ঠঙঈ নির্গত হতে পারে।

কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড

জ্বলন্ত মোমবাতি থেকে শুরু করে ওয়াটার হিটার, গ্যাস স্টোভ থেকে কার্বন মনোক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়।

সিসা

এটি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি ধাতু। সাধারণত পুরনো দিনের বাড়ির দেয়ালে ব্যবহৃত রঙে সিসা থাকে। আরও যেসব উপাদান ঘরের ভেতরের বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে, তার মধ্যে রয়েছে- ফুলের পরাগরেণু, পোষা প্রাণীর শরীর থেকে ঝরে পড়া লোম বা পালক ইত্যাদি।

দূষণকারী পদার্থের শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব

- ধূমপানের ফলে ধূমপায়ী ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ জটিলতা, মুখের ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। অধূমপায়ীরা অল্প সময় এ ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করতে পারেন।

- দীর্ঘদিন এই ধোঁয়ার মাঝে থাকলে এটি সরাসরি ধূমপানের মতোই ক্ষতি করে। দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মারাত্মক সব রোগ। যাদের হাঁপানির সমস্যা আছে, এই ধোঁয়ার কারণে তাদের হাঁপানি শুরু হতে পারে।

- শিশুদের কান ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক।

কার্বন মনোক্সাইড (ঈঙ)

- এই গ্যাস শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্যে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হতে বাধা দেয়। ফলে ক্লান্তিবোধ হওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া- এসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (ঘঙ২)

এটি চোখ, নাক, গলা ও শ্বাসতন্ত্রে জ্বালাপোড়া করে থাকে। এই গ্যাস শরীরে অল্প পরিমাণে প্রবেশ করলে শিশু, হাঁপানি রোগী ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। মধ্যম পরিমাণে প্রবেশ করলে এটি ব্রংকাইটিস সৃষ্টি করতে পারে।

সিসা

শরীরে সিসা প্রবেশ করলে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি এবং রক্তের লোহিত কণিকার ক্ষতি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, আইকিউ কম হওয়া, আচরণগত সমস্যা, দৈহিক বৃদ্ধির গতি ধীর হওয়া- এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উদ্বায়ী জৈব রাসায়নিক পদার্থ (ঠঙঈ)

এটির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া- এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী (প্রায় ছয় বছর) সংস্পর্শের ফলে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ছত্রাক

এটি কারও কারও শরীরে এ্যালার্জি করতে পারে। এর লক্ষণ হিসেবে নাক বন্ধ ভাব, চোখ, গলার ভেতর ও চামড়ায় চুলকানি, ফুলে যাওয়া, কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

ঘরের ভেতরের বায়ু দূষণ রোধে করণীয়

- ঘরের জানালা খোলা রাখলে ভেতরে জমা হওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ বেরিয়ে যেতে পারে। স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর হয়ে ঘরে সতেজতা ফিরে আসে। তাই ঘরের জানালা খোলা রেখে ভেতরে আলো বাতাস চলাচল করতে দেয়া উচিত।

- ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখুন। প্রয়োজনে এ কাজে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। শক্তিশালী সাকশন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রাশ ও ঐঊচঅ ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার এ কাজের জন্য আদর্শ।

- ধূমপান সব বয়সে, সব পরিবেশেই ক্ষতিকর। তাই নিজের ও আশপাশের মানুষের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।