মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

কমলাপুরে আগাম টিকেট শেষ, ফাঁকা সদরঘাট টার্মিনালের কাউন্টার

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৬
  • ঈদে ঘরে ফেরা
  • বিআরটিসি ডিপোয় নেই অগ্রিম টিকেটের যাত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রেলের টিকেট বিক্রির শেষ দিনে কমলাপুর স্টেশনে নানা চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। কেউ টিকেট নিতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউবা ফিরেছেন টিকেট না পেয়ে। কোন কোন কাউন্টারে যাত্রীই ছিল না। আবার যারা কষ্ট করে সোনার হরিণ টিকেটের দেখা পেয়েছেন তাদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বেশিরভাগ যাত্রী টিকেট পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত নির্ধারিত সব টিকেটই বিক্রি হয়েছে। তবে অন্য বছরের মতো এত মানুষের উপস্থিতি ছিল না। এদিকে সদরঘাট নদী বন্দরে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি চলছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। ২০ কাউন্টারে প্রথমবারের মতো সব লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে এবার। যাত্রী নিরাপত্তা ও টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে পুরো সদরঘাট আনা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়। রবিবার থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হলেও দ্বিতীয় দিনে যাত্রীদের তেমন সাড়া মেলেনি।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন তার চিরচেনা ভিড়ের রূপ ছিল না এবার। আরেকটু পরিষ্কার করে বললে, টিকেট বিক্রির পুরো ৫ দিনেই অন্যান্য বছরের মতো ভিড় জমেনি, যা হয়েছে তা অন্য বছরের তুলনায় ১০ ভাগের একভাগ। সোমবার সকাল দশটা পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ রুটের ট্রেনের কাউন্টারে ভিড় থাকলেও পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কাউন্টারগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। খুলনাগামী ট্রেনগুলোর কাউন্টারের চিত্রও ছিল প্রায় একই। সকাল দশটার পর এসব কাউন্টারে টিকেট প্রত্যাশীদের অপেক্ষা করতে হয়নি লম্বা সময়; বলতে গেলে ছিল না কোন ভোগান্তি। টিকেট বিক্রির এমন অভূতপূর্ব চিত্রে অবাক হয়েছেন কেউ কেউ। তবে লোকজনের উপস্থিতি কম হওয়ায় সন্তুষ্টি ছিল অনেকের চোখে মুখে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৬ জুলাই বুধবার ঈদ ধরে এবার ৫, ৬ ও ৭ জুলাই রোজার ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে। আর ৩ জুলাই রবিবার শব-ই-কদরের ছুটি। ১ তারিখ থেকে টানা নয় দিন ছুটি মিলেছে এবার। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৫ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকেট। ঈদের ফিরতি টিকেট বিক্রি শুরু হবে ৪ জুলাই। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে নতুন ট্রেন উদ্বোধনের কারণে শনিবার আগাম টিকেট বিক্রি বন্ধ থাকলেও ওদিন দুপুর থেকেই কাউন্টারে ভিড় করতে শুরু করেন অনেকে। রবিবার কাউন্টারগুলোর সামনে প্রচ- গরমের মধ্যে লোকজনকে অধীর আগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও সোমবার দেখা যায়নি তেমন চিত্র।

ঈদের আগের দিনের টিকেটপ্রত্যাশী খয়রুল কবীর বললেন, এবার কমলাপুরে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। আসলাম, দাঁড়ালাম আর টিকেট পেয়ে গেলাম। এ এক অভূতপূর্ব চিত্র, যা বিগত ২০ বছরেও দেখিনি। খুলনার যাত্রী শুভ জানালেন, ছোট্ট লাইন। তাই টিকেট পেতে ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়নি। জামালপুরের যাত্রী ফিরোজ মিয়া জানালেন, রবিবার রাত দশটার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার আগেও বেশ কয়েকজন ছিলেন। টিকেট পেতে পেতে সকাল সাড়ে নয়টা পেরিয়ে যায়। টিকেট না পেয়ে ক্ষোভের সুর ছিল দিনাজপুরের যাত্রী বিল্লালের মুখে। তিনি জানান, কয়েকজনকে টিকেট দেয়ার পরই কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে টিকেট শেষ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরও কয়েকজন। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে দেখা গেছে, খুলনা, যশোর, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জসহ আরও কয়েক রুটের যাত্রীদের।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসের কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতাদের বলতে শোনা গেল, এবার টিকেট আছে, যাত্রী নেই। তারা জানান, ভোরে টিকেটপ্রত্যাশীদের চাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমেই ক্রমে আসছে। বেলা এগারোটার টিকেট বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ জুলাইয়ের ট্রেনগুলোর এসি, এসি বার্থেও টিকেট অবিক্রীত রয়ে গেছে। সকাল থেকে মাত্র ৪০ ভাগ টিকেট বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, টিকেটপ্রত্যাশীদের ভিড় এবার তুলনামূলক কম। কমলাপুর স্টেশনে কাউন্টার সংখ্যাও আগের চেয়ে তিনটি বাড়িয়ে ২৩ করা হয়েছে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে আলাদা কাউন্টার। স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, এবার কেউ টিকেট না পেয়ে ফেরত যাবে না। তবে কাক্সিক্ষত সময় ও স্টেশনের টিকেট অনেকে নাও পেতে পারেন। কিন্তু পরবর্তী শিফট ও স্টেশনের টিকেট তো আছেই। কমলাপুর স্টেশনে টিকেট বিক্রির শৃঙ্খলা রক্ষায় রেলের নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদে ট্রেনের টিকেট বিক্রির মৌসুমে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্টেশনে র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হয়েছে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, এবার ঈদে কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩৩ ট্রেনের ১৮ হাজার করে টিকেট বিক্রি হওয়ার কথা। এর ৬৫ শতাংশ টিকেট উন্মুক্ত বিক্রির জন্য রাখা। মোবাইল ও অনলাইনে বিক্রির জন্য রাখা হয় ২৫ শতাংশ। ভিআইপিদের জন্য ৫ শতাংশ এবং রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ টিকেট রাখা আছে। এছাড়া প্রয়োজনে ‘স্ট্যান্ডিং টিকেট’ বিক্রি করা হবে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ট্রেনে অতিরিক্ত ৮৪ বগি সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-পার্বতীপুর ও ঢাকা দেওয়ানগঞ্জ রুটে তিন জোড়া অতিরিক্ত ট্রেন চলবে। রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চলবে।

যাত্রী নেই সদরঘাটে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ॥ অগ্রিম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিন ফাঁকা পড়ে আছে লঞ্চের টিকেট কাউন্টারগুলো। লোক সমাগম একদমই নেই। কিছু কিছু কাউন্টারে বুকিং এজেন্টও নেই। শুধু পড়ে আছে টিকেট। সোমবার সদরঘাট কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনালে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় কোন কোন বুকিং এজেন্টকে খোশ গল্পে মেতে থাকতে বা মোবাইলে কথা বলে সময় কাটাতে দেখা যায়। ব্যস্ততা না থাকায় অনেকে আবার ঝিমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও দু’একজন ছাড়া কাউকে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকেট কিনতে দেখা যায়নি। শনিবার থেকে লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১৭০ লঞ্চ সদরঘাট কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৪১ নৌপথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। মেসার্স জাহিদ শিপিং লাইন্সের বুকিং এজেন্ট জামাল উদ্দিন বলেন, ২ ও ৪ জুলাইয়ের কিছু টিকেট বিক্রি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অগ্রিম টিকেটের কোন ক্রেতা নেই। কাউন্টার একদম ফাঁকা। দ্রুতগামী লঞ্চ গ্রীনলাইনের কাউন্টারে কিছুটা ভিড় দেখা যায়। পারাবত শিপিং লাইন্সের টিকেট বুকিং এজেন্ট উত্তম বলেন, অবস্থা খুবই হতাশাজনক। একদমই ফাঁকা কাউন্টার। এ বছর লঞ্চ বেশি, ছুটিও বেশি। কিন্তু মানুষ নেই। বংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন লঞ্চ রুট পারমিটের আবেদন করছে, শেষ পর্যন্ত ঈদের আগে কতগুলো নতুন লঞ্চ চলাচল করবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না।

ভিড় নেই বিআরটিসি বাস কাউন্টারে ॥ অগ্রিম টিকেট বিক্রির দ্বিতীয় দিনের বিআরটিসি বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় বাড়েনি। ৬০ ভাগের বেশি টিকেট এখনও অবিক্রীত রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনটি ডিপো থেকে পাঁচ জুলাই রাত পর্যন্ত টিকেট বিক্রি হবে। গাড়িও ছেড়ে যাবে বিভিন্ন গন্তব্যে। তবে দূরপাল্লার রুটে কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তারা।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৬

২৮/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: