মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সুন্দর চুলের সহজ উপায়

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৬
  • মেরীনা চৌধুরী

সুন্দর সতেজ চুলের জন্য চাই প্রাকৃতিক পুষ্টি। প্রাকৃতিক সুরক্ষা। তাই সারা বিশ্বের মেয়েরা কৃত্রিম প্রসাধনের নানান অপকারিতা থেকে চুলকে রক্ষা করতে বেছে নিয়েছেন প্রাকৃতিক ভেষজ গুণ সম্পন্ন উপাদান। এসব উপাদান চুল পড়া বন্ধ করে না চুলকে করে মসৃণ উজ্জ্বল ও ঝরঝরে। এবার কেশ চর্চার প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বিশেষভাবে জানানো হলো। যা অত্যন্ত সহজভাবে ব্যবহার করা যায় এবং বাজারে পাওয়া যায়।

ত্রিফলা : আমলকী, হরীতকী, বহেরা এই তিনটিকে বলা হয় ত্রিফলা। প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ত্রিফলার মধ্যে আছে কয়েকটি উপাদান। যেমন- গ্যালিক এ্যাসিড, এলাজিক এ্যাসিড, গ্লুকোজ, ট্যানিক এ্যাসিড ইত্যাদি। ত্রিফলা ভিটামিন সি কে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্রিফলা ব্যবহারে চুল হয় কালো, লম্বা ও ঘন। সুতরাং চুলপড়া বন্ধ ও সুন্দর চুল চাইলে প্রতিষেধক হিসেবে ত্রিফলাযুক্ত তেল ব্যবহার করুন।

ব্রাক্ষী : ব্রাক্ষীর অন্যতম উপাদান হলো- এ্যালকোলয়েড, গ্লাইকোসাইড রেসিন টেনিন, অরগ্যানিক এ্যাসিড এবং স্নেহজাতীয় উপাদান। ব্রাক্ষী মাথায় সুচারুরূপে রক্ত সঞ্চালন করে চুলকে নতুনভাবে গজিয়ে উঠতে সাহায্য করে। মাথা ঠা-া রাখে। এই তেল রাতে শোয়ার আগে সুন্দরভাবে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করে পরদিন শ্যাম্পু করুন।

হেনা : প্রাচীনকাল থেকে হেনা বা মেহেদিকে সৌন্দর্য উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এই মেহেদিপাতা ডাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হেনা বা মেহেদিতে গ্লুকোজের ভাব থাকে বলে মাথা ঠা-া রাখে, চুলের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করে চুলকে মোলায়েম ও ঝকঝকে করে তোলে।

নিম : হেনার মতোই প্রাচীনকাল থেকে নিম ব্যবহার করা হয়। নিমে আছে এ্যান্টিসেপটিক উপাদান তাই নিম ব্যবহারে খুশকি দূর হয়, চুল পড়া বন্ধ হয়। এছাড়া করোটিজনিত নানা সংক্রমণের হাত থেকে এবং চুলকে অকালপক্বতা থেকে রক্ষা করে। নিম তেলের প্রধান উপাদান হলো, সালফার যা স্বাদে তেঁতো এবং হলুদ বর্ণের হয়। ভিটামিন ই যুক্ত এই সালফার চুলকে পুষ্টি যোগায় এবং চুলকে অকালপক্বতার হাত থেকে রক্ষা করে।

লেবু : এ্যান্টিসেপটিক উপাদান হিসেবে লেবু পরিচিত। এছাড়া লেবু চুলের খুশকি প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শ্যাম্পু করার পর পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুলে চুল ঝকঝকে রেশম কোমল ও মনোরম হয়ে ওঠে।

রোজমেরি তেল: রোজমেরিকে এ্যান্টিসেপটিক এবং চুলের রক্ষাকবচ বলা হয়। রোজমেরি একটি শক্তিশালী এ্যান্টিডেনড্রপ। রোজমেরি তেল পারফিউম ও ওষুধ তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এই তেলে রয়েছে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক উপাদান। মাথাব্যথায় আরাম দেয় এবং শ্যাম্পু, টনিক ও তেল তৈরি কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেকের ধারণা এই সুগন্ধিযুক্ত গুল্ম স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

কপুর কাচারি : এটি একটি জীবাণুনাশক উপাদান যা চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সব থেকে বেশি উপযোগী। তাছাড়া এটি চুলে চমক আনতেও সাহায্য করে।

নারকেল তেল : ইউনানি মতানুযায়ী নারকেল তেল চুলের পুষ্টি বিধান করে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। কারণ এই তেলে রয়েছে ভিটামিন ই. এফ ফাইসটারোলস, স্কুয়ালেস। এইসব বৈজ্ঞানিক উপাদান চুলকে করে তোলে রেমশ কোমল, মনোরম, স্বাস্থ্যেজ্জ্বল ও সুন্দর।

দুধ : গরুর দুধ শরীর ও মন সুস্থ ও শীতল রাখতে সাহায্য করে। দুধ যে কোন রোগের প্রতিষেধক। গোসলের আগে কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নেবেন। এতে খুশকি দূর হবে ও চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়বে।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : রিয়া

প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৬

১৬/০৫/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: